হঠাৎ মন খারাপ, ভাবছেন ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু সময় পার হলেও কাটছে না বিষণ্নতা। আপনি যাকে সাময়িক মন খারাপ ভাবছেন, এটি আসলে অবসাদ নয় তো? মন খারাপ হলেই ক্ষুধা পাওয়া, নিয়মিত ওজন বাড়া, এরকম কোন কোন লক্ষণে বুঝবেন আপনি মানসিক অবসাদের কবলে পড়ছেন?
পছন্দের মানুষের সঙ্গে দূরত্ব, কাছের মানুষের থেকে কষ্টের অনুভূতি, প্রিয় কোন জিনিস হারিয়ে যাওয়া, বাড়িবদল করা, ভালোবাসার পোষা প্রাণির মারা যাওয়া, একাকীত্ব, ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা ছাড়াও মানসিক অবসাদের পেছনে আরও কারণ থাকতে পারে। এই ছোট ছোট কারণগুলো থেকে পরে মনের গভীরে গেঁথে বসে অবসাদ। এ অবসাদ ধীরে ধীরে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া, হার্টে চাপ সৃষ্টি করাসহ ব্লাড প্রেশার বৃদ্ধি করে দীর্ঘমেয়াদী রোগেরও সৃষ্টি করে শরীরে। ফলে মানসিক অবসাদের চিকিৎসা জরুরি। তবে বেশিরভাগ মানুষই নিজে থেকে বুঝতে পারে না তারা মানসিক অবসাদে ভুগছে।
কীভাবে বুঝবেন আপনি মানসিক অবসাদে ভুগছেন?
কোন কাজে আগ্রহ ধরে রাখতে না পারা
একসময় যে শখগুলো আনন্দের কারণ ছিল, সে কাজগুলো এখন আর আগের মতো ভালো লাগে না। বরং হঠাৎ কোন বিষয়ে আগ্রহ ধরে রাখতে না পারা, কোনকিছুই ভালো না লাগা অন্যতম। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রিয় গান শোনা বা নিজের শখপূরণ—এই সব হঠাৎই অর্থহীন মনে হতে পারে। মন যেন সব আনন্দ থেকে বিচ্ছিন্ন। অবসাদের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে এটাকেই বিবেচনা করা হয়।
ঘুমের অস্বাভাবিক পরিবর্তন
মানসিক অবসাদের কারণে রাতে ঘুম আসেনা, আবার অনেকে রাতভর ঘুমোয়। ফলে ঘুমের সার্কেল নষ্ট হয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠলেই শরীর চলতে চায় না, কোন কাজে আগ্রহ পাওয়া যায় না। দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের সমস্যা বা অতিরিক্ত ঘুম দুটোই শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
খিদে ও ওজনের পরিবর্তন
অবসাদের প্রভাবে কারও কারও খিদে একদম কমে যায়। সবচেয়ে প্রিয় খাবারটা সামনে থাকলেও খেতে ইচ্ছে করে না। ইমোশনাল ইটিংও শুরু করেন অনেকে। সাধারণত যা খেতেন, তার থেকে অনেকটাই বেশি খাওয়া শুরু করেন। আপনার প্রিয়জনের মধ্যেও এমন প্রবণতা দেখা দিলে সতর্ক হন, কথা বলুন। হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া কিন্তু অবসাদের কারণে হয়। মনের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে এমন হয়।
নিজেকে দোষারোপ করা
যেকোনো বিষয়ে নিজেকে দোষারোপ করা। অবসাদের সময় মন বার বার বলে, যা হয়েছে আমার জন্যই হয়েছে। সব খারাপের নেপথ্যে আমি। নিজেকে দোষারোপ করার এই প্রবণতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে হতাশা। আপনার আত্মবিশ্বাস তলানিতে দাঁড় করায়। বার বার এমন ভাবনা মাথায় এলে কারও সঙ্গে কথা বলুন। নিজের মধ্যে চেপে রাখবেন না। প্রিয়জনের কারও কথায় এমন কিছু ধরা পড়লে, তার সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন।
শারীরিক ক্লান্তি ও মনোযোগের অভাব
যথেষ্ট বিশ্রাম নেওয়ার পরও ক্লান্ত লাগলে বা কাজে মন না বসলে সেটিও অবসাদের লক্ষণ। ছোট ছোট বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা বা সহজ সিদ্ধান্ত নিতেও দ্বিধা বোধ করা এবং যদি বার বার ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায় তাহলে নিজেকে নিয়ে ভাবুন। মন বিষাদে পড়লে, শরীরও প্রতিক্রিয়া দেখায়। এমন কিছু আপনার সঙ্গেও ঘটলে, চেপে রাখবেন না। কারও সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে অবহেলা করা যাবে না।
/ইউএমএইচ