শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে খাগড়াছড়িতে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় চার থেকে পাঁচগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভর্তি শিশু রোগীদের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অনেক শিশুকে জেলার দুর্গম এলাকা থেকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হচ্ছে। গত এক মাসে ঠান্ডাজনিত জটিলতা ও নিউমোনিয়ায় মারা গেছে ১০ শিশু।
হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স ইনচার্জ প্রিয়াঙ্কা ভৌমিক জানান, ‘ঠান্ডা-জনিত রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। নার্সদের সারাদিন ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে, অনেক সময় ফ্লোর ও বারান্দাতেও রোগীদের রাখতে হচ্ছে।’
জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ওমর ফারুক বলেন, ‘দিনে গরম কমলেও রাতে কুয়াশা পড়ছে। হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনে শিশুরা ঠান্ডা-জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসক সংকট থাকায় রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জানান, ‘এক মাসে নিউমোনিয়ায় ১০ শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আমাদের চিকিৎসকরা সীমিত জনবল নিয়েই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। হাসপাতালটি প্রশাসনিকভাবে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও কাঠামোগত কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো জনবল বাড়ানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ২৪ জন চিকিৎসক দিয়ে ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে।’
আরও পড়ুন
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, ঠান্ডা থেকে শিশুদের সুরক্ষায় রাতের বেলা উষ্ণ কাপড় ব্যবহার, খাবারে যত্ন এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার। পাশাপাশি জ্বর বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছেন তারা।
এএডি/