হামজা একা আর কত টানবে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলা

পুরোনো রোগ থেকে মুক্তিই মিলছে না। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করা, জিততে জিততে কখনো ড্র আবার কখনো পরাজয়ের গ্লানিতে মাঠ

2025-11-15T02:30:02+00:00
2025-11-15T02:30:02+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
খেলা
হামজা একা আর কত টানবে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, ২:৩০ এএম 
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ফুটবলার হামজা। ফাইল ছবি
পুরোনো রোগ থেকে মুক্তিই মিলছে না। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করা, জিততে জিততে কখনো ড্র আবার কখনো পরাজয়ের গ্লানিতে মাঠ ছাড়া। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নিয়মিত এ দৃশ্য দেখতে দেখতে হতাশ, বিরক্ত আপামর ফুটবলপ্রেমী ভক্ত-সমর্থক। এ থেকে পরিত্রাণ চান তারা। পরিত্রাণ চান এক সময়কার মাঠ কাঁপানো দুই তারকা গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য এবং ফরোয়ার্ড জাহিদ হাসান এমিলিও। এক হামজা চৌধুরী আর কত টেনে নেবে দলকে। সবাইকে মনোযোগ সহকারে এ রোগ থেকে মুক্তির জন্য কাজ করার আহ্বান বিপ্লব-এমিলির।

গেল অক্টোবরে এএফসি এশিয়ান কাপের ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে হতাশার হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ৩-৩ গোলে নিশ্চিত ড্র হওয়া ম্যাচটি, ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হেরে যায় জামাল-হামজারা। ঘরের মাঠে ওই হারের পর দলের ফুটবলার এবং কোচ হ্যাবিয়ের ক্যাবরেরাকে নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভবিষ্যতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সে জন্য কোচ- খেলোয়াড়দের সতর্কও করা হয় বাফুফের থেকে। 

কিন্তু ভুল থেকে বাংলাদেশ খুব কমই শিক্ষা নেয়। ঠিক এক মাস পরে আবারও একই ঘটনার জন্ম দিল ক্যাবরেরার দল। বৃহস্পতিবার প্রীতি ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ২-১ গোলে এগিয়ে থাকা ম্যাচটি শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ২-২ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে জামালরা। এই হারে আবারও ফুটবলারদের মনোযোগ, সমর্থ, কোচের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বারবার কেন একই ভুল হচ্ছেÑতা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। সমাধানের চেষ্টাও চলছে। কারণ সামনেই যে ভারত ম্যাচ।

নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে ভালো কোনো আক্রমণের পসরা সাজাতে পারেনি বাংলাদেশ। এই ম্যাচ প্রসঙ্গে জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘নেপাল ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে এটা ছিল নেপাল ভার্সেস হামজা ম্যাচ। পুরো ম্যাচে হামজা যেন একাই লড়েছে। প্রথমার্ধে বলার মতো কোনো আক্রমণ ছিল না। সেভাবে অ্যাটাক করা, চান্স ক্রিয়েট করা কোনোটাই পারেনি দল। দ্বিতীয়ার্ধে হামজা ম্যাজিকে দল ঘুরে দাঁড়ালেও সেটা ধরে রাখতে পারেনি। হামজার জোড়া গোল ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। সেটাকে শেষ মুহূর্তে নষ্ট করেছে লো ডিফেন্ডিং। শেষ মুহূর্তে যদি অ্যাটাকিং থাকত দল, মাঝমাঠ থেকে বল ঠিকমতো কন্ট্রোল করত। তা হলে নেপাল শেষদিকে গোল পেত না।’

আগামী ১৮ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে একই ভেন্যুতে ম্যাচ খেলবে জামাল-হামজারা। ভারত ম্যাচ প্রসঙ্গে এমিলি বলেন, ‘এএফসি এশিয়ান কাপে আমাদের আর কোনো স্বপ্ন নেই, আশা নেই। তবে ভারতকে হারাতে পারলে অন্তত ভালো কিছু হবে। ক্যাবরেরা তো এখন পর্যন্ত সেভাবে কিছুই করতে পারেননি। ঘরের মাঠে যদি ভারতকে হারাতে পারে সেটা হবে তার এবং দলের জন্য প্রাপ্তি। ঠিকমতো পরিকল্পনা করে নামতে হবে। পজিশন অনুযায়ী ঠিক জায়গায় ঠিক প্লেয়ারকে খেলাতে হবে।’

তারকা ফরোয়ার্ড এমিলির মতো হতাশ সাফজয়ী গোলরক্ষক বিপ্লবও। নেপাল ম্যাচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এক হামজা আর কত খেলবে। ডিফেন্ডিং করা, বল নিয়ে আক্রমণে ওঠা, গোল করা। এখন শুধু হামজার গোলকিপিংটা বাকি আছে। ভালো ফল করতে হলে হামজাকে সবাই মিলে সাপোর্ট দিতে হবে। 

খেলোয়াড়রা ৯০ মিনিট পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। এই দিকটাই বেশি নজর দিতে হবে। মেডিটেশনসহ আরও কাজ করতে হবে। আমাদের খেলোয়াড়রা দেখলাম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। এমনটা হলে তো প্রতিপক্ষ সুযোগ নেবেই। নেপাল ভালো দল। তারা বাংলাদেশের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঠিকই শেষ মুহূর্তে গোল তুলে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।’ নেপাল ম্যাচের মতো ভারতের ম্যাচে ভুল করলে একই পরিণতি কিংবা হারও জুটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এ অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের জন্য বিরাট সুযোগও দেখছেন তিনি। কারণ ভারতের মাটিতে দল ভালো করেছে। সেই ধারাটা ধরে রাখলে ভারত ম্যাচে ভালো কিছুই প্রত্যাশা বিপ্লবের।

এএডি/


  বিষয়:   হামজা  ফুটবল 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: