প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:২০ এএম
ফাইল ছবিদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনে বইছে শোকের ছায়া। গতকাল পৃথিবীর মায়া ছেড়ে অনন্ত পথের যাত্রী হন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আজীবন আপসহীন এ জাতীয় নেতা। খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকাতুর বিএনপির অগণিত কর্মী-সমর্থক থেকে আত্মীয়-পরিজন। খালেদা জিয়ার তেমনই এক আত্মীয় হলেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত মুখ জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলেট শামীমা সাত্তার মিমু। খালেদা জিয়া-মিমু আপন খালাত বোন। তৈয়বা মজুমদারের আদরে কন্যা পুতুল (খালেদা জিয়ার ডাকনাম) আর তোরাতুন নাহারের কন্যা হলেন মিমু। প্রিয় বোনকে হারিয়ে শোকাতুর মিমু এখন নিজেই শয্যাশায়ী।
অনেক দিন ধরে বিছানা নিয়েছেন শামীমা সাত্তার মিমু। ভার্টিগো (মাথা ঘোরা) রোগে আক্রান্ত তিনি। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। অথচ একটা সময় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে তিনি ছিলেন অনন্য। হাই জাম্প, লং জাম্প থেকে শুরু করে ৮০০ মিটার, ৪০০ মিটার রিলে ছাড়াও ১০০ মিটার স্প্রিন্টে তিনি ছিলেন সবার সেরা। ১৬ বছরের খেলোয়াড়ি জীবনে ২২টি স্বর্ণপদক অর্জন করেন মিমু। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সময়ের আলোকে মিমু জানান, ‘কী বলব বুঝতে পারছি না। বোনটা চলে গেল। আল্লাহ আমার বোনকে বেহেশত নসিব করুন। তোমরা আমার বোনের জন্য দোয়া করো।’
খালেদা জিয়া-মিমু দুই বোনের বয়সে বিস্তর ফারাক। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যে বছর খালেদা খানম পুতুলের বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন; ঠিক তার আগের বছর জন্ম মিমুর। তবে মিমুর মা (খালেদা জিয়ার খালা) বেঁচে থাকাকালীন দুই বোনের দেখা হতো। খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মিমু জানান, আপার সঙ্গে সবশেষ দেখা হয়েছে চকলেট আপার (খালেদা জিয়ার আপন বড় বোন) জানাজায়। সেদিন দিনাজপুরে এসেছিলেন। এ ছাড়া আপা যখন বিভিন্ন কাজে দিনাজপুরে আসতেন, তখন সার্কিট হাউসে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছি। এ ছাড়া ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের বাসায় পারিবারিক অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। মিমু আরও বলেন, তোমাদের কাছে তিনি খালেদা জিয়া। আমরা তাকে ‘পুতুল বু’ বলে ডাকতাম। পুতুল হলো খালেদা জিয়ার ডাকনাম।
দিনাজপুরে খালেদা জিয়ার জন্ম, বেড়ে ওঠা। মিমুরও। দিনাজপুরের ঈদগাঁও বসতি বলে এলাকায়। সেখানকার আলো-বাতাসে মিমুর বড় ভাইবোনদের সঙ্গে ছোটবেলায় খেলাধুলা করেছেন খালেদা জিয়া। মিমু যখন বিভিন্ন ক্রীড়ায় সাফল্য পেতেন, খালেদা জিয়া নাকি গর্ব করে বলতেন ‘আমাদের স্বর্ণ গর্ব মিমু’। ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন শামীমা সাত্তার মিমু। তবে পুরস্কার গ্রহণ করেন ২০০১ সালে। বিএনপির শাসনামলে। সেই স্মৃতি স্মরণে মিমু বলেন, আপার কাছ থেকে পুরস্কার নিতে পেরে আমার কী যে ভালো লেগেছিল, সে কথা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। সেদিন অনেক খুশি হয়েছিলাম। পুরস্কার নেওয়ার সেই ছবিটা এখনও আমি সযতনে বাঁধাই করে রেখেছি। সাবেক জাতীয় অ্যাথলেট এই পরিচয়ের বাইরে মিমুর আরও একটি পরিচয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে। দীর্ঘ ৯ বছর দিনাজপুর বিকেএসপির আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধান ছিলেন। এ ছাড়া সাভার বিকেএসপিতেও উপপরিচালক (প্রশিক্ষক) ছিলেন। ২০০৫ সালে খালেদা জিয়া যেদিন দিনাজপুর বিকেএসপি উদ্বোধন করতে চান, সেদিন মিমুও সেখানে ছিলেন। বোনের সঙ্গে সেই স্মৃতি এখনও স্মৃতিপটে সমুজ্জ্বল মিমুর।
সময়ের আলো/এনএ