প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৪৭ এএম
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ফাইল ছবি সিলেটে চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) মধ্যেই দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের আবহ। যে শোক ছুঁয়ে গেছে ক্রিকেটাঙ্গনেও। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারাও আবেগঘন হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার বিকালের দিকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এসে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সেখানে তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন মুহূর্তের স্মৃতিচারণা করেন।
১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক আইসিসি ট্রফি জয়ের পরের সময়ের কথা তুলে ধরে বুলবুল বলেন, ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফিতে যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, তখন আমাদের কয়েকটা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। সেই সংবর্ধনার অংশ হিসেবে তৎকালীন বিএনপি একটা সংবর্ধনা দিয়েছিল মিন্টু রোডে।
সেই সংবর্ধনার একটি ঘটনা আজও স্পষ্ট মনে আছে বিসিবি সভাপতির, ‘আমি সহ-অধিনায়ক ছিলাম তখন। ডায়াসে উঠে বক্তৃতা দেওয়ার একপর্যায়ে একটা ভুল বক্তব্য দিয়েছিলাম, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, আমি বলেছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বলার পর পুরো স্টেজ চুপ ছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভুল স্বীকার করে বলেছিলাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী। আইসিসি ট্রফির যতগুলো অনুষ্ঠান ছিল, ওটাই আমার শেষ অনুষ্ঠান ছিল।
খালেদা জিয়ার কাছ থেকে পাওয়া রাষ্ট্রীয় সম্মানকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হিসেবে উল্লেখ করেন বুলবুল। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, ক্রিকেটে সার্কের যেসব ইভেন্ট হতো, সেখানে আমরা ভালো খেললে তিনি আমাদের অফিসে দাওয়াত দিতেন। জীবনের সবচেয়ে বড় যে পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় পুরস্কার, সেটা আমার গলায় তিনি পরিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা সবাই তার বিদায়ে শোকাহত। আল্লাহ তার আত্মাকে শান্তি দিক, তাকে বেহেশত নসিব করুক। তার পরিবার-পরিজনকে এই শোক বহনের ক্ষমতা দেন।
ব্যক্তিগত কথোপকথনের স্মৃতিও ভাগ করে নেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে দুবার কথা হয়েছে। একবার যখন মেডেল পেয়েছিলাম, তখন আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। আরেকবার আইসিসি ট্রফির ওই সংবর্ধনার পর আমাদের ডিনারে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে খেলাধুলা নিয়ে কথা হয়েছিল।
খালেদা জিয়ার ক্রীড়াবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির কথাও আলাদা করে উল্লেখ করেন বুলবুল। তার ভাষ্য- বাংলাদেশ ক্রিকেট আজকে এখানে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ সবসময় সব সরকারই সমর্থন করেছিল। সেই সময়টার কথা বেশি মনে পড়ছে ২০০৪ সালে বাংলাদেশ একটা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। তখন বেশ কিছু ভেন্যু তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামও একটা। আমি তখন খেলোয়াড় ছিলাম, যতটুকু জানতাম, খেলোয়াড় হিসেবে যতটুকু সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ছিল, তার সময়ে পেয়েছিলাম।
সময়ের আলো/এনএ