ঋতু বৈচিত্র্যে শরৎ পেরিয়ে হেমন্ত এলেও শীতকাল আগমনের এখনও বাকি এক মাস। এরই মধ্যে গত কয়েক দিনে প্রকৃতিতে হিমেল মৃদু বায়ুপ্রবাহ শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছে। প্রকৃতিতে চলছে ঋতু বদলের আয়োজন। দিগন্ত জোড়া প্রকৃতিতে ভোরের সকাল ঢাকা পড়েছে কুয়াশার চাদরে। সন্ধ্যা নামলেই শরীরে অনুভূত হচ্ছে শীত। পাতলা চাদর ও কাঁথায় তা কমছে না। তাই শীতের তীব্রতা থেকে একটু উষ্ণতা পেতে মানুষ ছুটছে লেপ-তোশক তৈরির দোকানগুলোতে।
এমন পরিস্থিতিতে বগুড়ার কাহালুতে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছে লেপ-তোশক তৈরির কারিগররা। শীতের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। চাহিদা বাড়ায় অগ্রিম অর্ডার নিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। অর্ডারকৃত লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ততা বেড়েছে কারিগরদের।
ব্যবসায়ীরা জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় শীত মৌসুমে বেচাকেনা অনেক বেশি হয়। এ মৌসুমে বছরের আয় রোজগার পুষিয়ে নিতে রাতদিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ লেপ-তোশক দোকান ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার গ্রামগঞ্জসহ বিভিন্ন হাট বাজারে।
এদিকে হিমেল শীতের পরশ থেকে উষ্ণতা পেতে অনেকে পুরানো লেপ-তোশক নতুন রূপে তৈরি করছেন। পাশাপাশি দোকানগুলোতে নতুন করে লেপ-তোশক অর্ডার দিচ্ছেন। আবার অনেকে ট্রাঙ্কে বা বক্সে তুলে রাখা লেপ- তোশক রোদে শুকিয়ে ব্যবহার উপযোগী করে তুলছেন।
সরেজমিনে শনিবার (১৫ নভেম্বর) কাহালু পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, লেপ- তোশক তৈরিতে কারিগররা কেউ তুলা ধুনছেন, কেউবা বিভিন্ন ডিজাইনে লেপ-তোশক সেলাই করছেন। বছরে অন্য সময়ে কমবেশি বেচাকেনা হলেও শীত মৌসুমে এসব দোকানগুলোতে বেচাকেনা অনেক বেশি হয়। কারিগরদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন এই বেডিং সেন্টার গুলো।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি শিমুল তুলা সাড়ে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, কালো রুল ৬০ থেকে ৭০ থেকে টাকা, রাবিশ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, সাদা তুলা ফাইবার ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব তুলা গত বছরের তুলনায় এবার কেজি প্রতি ১৫- ২০ টাকা বেড়েছে। এছাড়াও প্রতি পিস লেপ-তোশক তৈরিতে খরচ বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
এর মধ্যে মাঝারি সাইজের একটি লেপ তৈরিতে খরচ হচ্ছে দুই হাজার ২০০ থেকে দুহাজার ৬০০ টাকা। আর জাজিম তোশক তৈরিতে খরচ হচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। কাপড় ও তুলার মানভেদে লেপ-তোশকের দামও কম বেশি হয়ে থাকে।
কারিগররা বলেন, প্রতিদিন একজন কারিগর ৩ থেকে ৪ টি লেপ তৈরি করতে পারে। এতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা লাভ হয়। তবে শীত মৌসুমে কাজ বেশি হওয়ায় এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়।
কাহালু পৌর এলাকার মো. আজিজার রহমান নামের এক ক্রেতা জানান, তুলা ও কাপড়ের দাম বেশি হওয়ায় লেপ-তোশক তৈরিতে খরচ বেড়েছে।
নারহট্র ইউনিয়নের শিকড় গ্রামের গৃহিণী ফাতেমা নামের এক ক্রেতা জানান, মেয়ে জামাইকে উপঢৌকন হিসেবে দিতে লেপ- তোশক ক্রয় করতে এসেছি। তবে দাম এবার একটু বেশি।
বেডিং দোকান মালিক মো. ছবেদ আলী জানান, সারা বছর কমবেশি বেচাকেনা হয়। শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে লেপ-তোশক তৈরির চাহিদা বেড়ে গেলেও এবার তেমন কাজের অর্ডার নেই।
এফআর