মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় পুলিশ গণমাধ্যমকে তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে
বিচারকের ছেলেকে হত্যা : জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন রকম তথ্য দিচ্ছেন লিমন
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: রোববার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৩১ পিএম আপডেট: ১৬.১১.২০২৫ ১০:৩১ পিএম
মামলার একমাত্র আসামি লিমন মিয়া। ছবি : সময়ের আলোরাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের স্কুলপড়ুয়া ছেলে তাওসিফ রহমান হত্যা মামলার আসামি লিমন মিয়াকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে লিমন নানা রকম তথ্য দিচ্ছেন। মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় পুলিশ গণমাধ্যমকে তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তাসহ আরএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, বিচারকপুত্র তৌসিফ হত্যা মামলাটি একটি স্পর্শকাতর মামলা হিসেবে বিবেচিত। উচ্চ আদালত ছাড়াও মামলাটি বিভিন্ন সংস্থার পক্ষে বিভিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে পাঠানোর পর আরএমপির সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো লিমন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ঘটনার দিন লিমন মিয়ার হামলায় গুরুতর আহত বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিচারকপত্নীর চিকিৎসায় একটি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আসামি লিমন মিয়া রিমান্ডে বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যাবলি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সেসব তথ্য আংশিক অথবা অসম্পূর্ণভাবে কিংবা খণ্ডিতভাবে কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে হত্যা মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তারা লিমন মিয়ার রিমান্ড ও তার থেকে পাওয়া তথ্যাবলি আনুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে দিতে চান না।
কারণ হিসেবে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় লিমন মিয়ার ভিডিও বয়ান বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় বিচার বিভাগ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশের চার সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিচারকপত্নীর সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, তার শরীরের চারটি স্থানের জখম ছিল গুরুতর। গভীর এসব ক্ষত অপারেশনে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে। এসব ক্ষত সেরে উঠতে আরও বেশ কিছু দিন লাগতে পারে। শারীরিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কেবল তাকে হাসপাতাল ছাড়ের অনুমতি দেওয়া হবে।
গত শনিবার আসামি লিমন মিয়াকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে তোলা হলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মামুনুর রশিদ তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড মঞ্জুরের পরপরই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লিমন মিয়াকে হাসপাতাল ত্যাগের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ডাবতলার বাসায় ঢুকে বিচারকের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে তওসিফ রহমান তৌসিফকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা ও স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসিকে (৪৪) হত্যা করার চেষ্টা করেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড় চকপাড়া গ্রামের সোলাইমান শহিদের ছেলে লিমন মিয়া (৩৪)।
এ ঘটনায় গত ১৪ নভেম্বর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমান নিজে বাদী হয়ে লিমন মিয়াকে আসামি করে নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই নিহত তৌসিফকে পৈতৃক নিবাস জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার রুদ্রবয়রা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জেডও/