ডেঙ্গু ছড়ানোর এডিস মশা চেনার উপায়

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

গত দুই মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। গড়ে প্রায় পাঁচশর বেশি মানুষ ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে।

2025-11-18T10:40:38+00:00
2025-11-18T10:40:38+00:00
 
  সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
ফিচার
ডেঙ্গু ছড়ানোর এডিস মশা চেনার উপায়
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৪০ এএম   (ভিজিট : ২০৫)
প্রতীকী ছবি
গত দুই মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। গড়ে প্রায় পাঁচশর বেশি মানুষ ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। দেশের গ্রাম কিংবা শহর—সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। বাড়ছে এর প্রকোপ। চিকিৎসকরা এর থেকে বাঁচতে নানাবিধ পরামর্শ দিচ্ছেন। সতর্ক করছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ বা সতর্ক যেমন মেলে চলা উচিত,  তেমনি প্রয়োজন ডেঙ্গু ছড়ানোর এডিস মশা চেনা। 

পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির মশা রয়েছে। বাংলাদেশে যেসব প্রজাতি বেশি দেখা যায়, এর মধ্যে অ্যানোফিলিস, এডিস ও কিউলেক্স এই তিন ধরনের মশাই বেশি ক্ষতিকর।

স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায়। এডিস মশার কামড়ে ছড়ায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া। আর ফাইলেরিয়া বা গোদরোগের কারণ কিউলেক্স মশার কামড়।

ডেঙ্গি বা প্রচলিত ভাষায় ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক হলো এডিস ইজিপ্টাই এবং এডিস এলবোপিকটাস জাতের মশা। কিটতত্ত্ববিদরা বলছেন, ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী এডিস মশা খালি চোখে দেখেই শনাক্ত করা সম্ভব।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, এডিস ইজিপ্টাই এবং এডিস এলবোপিকটাস জাতের মশার দেহে সাদা কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে, যে কারণে এটিকে টাইগার মশাও বলা হয়।

সাধারণত এই জাতীয় মশা মাঝারি আকারের হয়ে থাকে। এর অ্যান্টেনা বা শুর দেখতে কিছুটা লোমশ হয়।


এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা অনুযায়ী, এডিস মশার অ্যান্টেনায় অনেকটা দাড়ির মতো থাকে। পুরুষ মশার অ্যান্টেনা স্ত্রী মশার চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি লোমশ দেখতে হয়।

দেহের ডোরাকাটা দাগ এবং অ্যান্টেনা দেখে এডিস মশা চেনা সম্ভব বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি বলছেন, এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে এবং শহর এলাকার সৌন্দর্যবর্ধক বাগান, পাত্র বা টবে জমে থাকা পানিতে জন্মায়। তবে ২০১৯ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে নোংরা পানিতেও বংশ বিস্তার করতে পারে এই মশা। অন্যসব প্রাণীর মতো, সময়ের সাথে সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে মশারও কিছু ধরনগত কিছু পরিবর্তন হয়। ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপ বা ধরন রয়েছে। প্রতি বছর একই ধরনের সংক্রমণ নাও হতে পারে। যেকোনো ভাইরাসই খুব দ্রুত মিউটেশন ঘটায়।

বাংলাদেশে কবে থেকে এডিস মশা আছে তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে শহরগুলোতে এর উপস্থিতি প্রথম নজরে আসে আশির দশকে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর। তখন থেকে বাংলাদেশে এডিস মশার উপস্থিতি সম্পর্কে মানুষ সচেতন হয়।

আইইডিসিআর এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা প্রকট আকার ধারণ করে ২০১৯ সালে। সেই বছর এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় ১৭৯ জন। এরপর ২০২৩ সালে ইতিহাসের সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা 

আরআর


  বিষয়:   ডেঙ্গু  মৃত্যু  আক্রান্ত  স্বাস্থ্য অধিদফতর 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: