নবান্ন উৎসবে মেতেছে দেশ

সময়ের আলো ডেস্ক

সারাদেশ

নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। নতুন ধান কাটা আর সেই ধানের প্রথম অন্ন খাওয়াকে কেন্দ্র করে

2025-11-19T02:50:47+00:00
2025-11-19T02:50:47+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
নবান্ন উৎসবে মেতেছে দেশ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ২:৫০ এএম 
নবান্ন উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে মাছের মেলা। জয়পুরহাটের কালাই থেকে মঙ্গলবার তোলা। ছবি : সময়ের আলো
নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। নতুন ধান কাটা আর সেই ধানের প্রথম অন্ন খাওয়াকে কেন্দ্র করে উদযাপিত হয় এই উৎসব। বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের এই উৎসব ঘিরে দেশজুড়ে বিরাজ করছে আনন্দ, উচ্ছ্বাস এবং প্রাণচাঞ্চল্য। সরেজমিন ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন দৈনিক সময়ের আলোর প্রতিনিধিরা-

বগুড়া : হেমন্তকাল এলেই কৃষকের নতুন ধান ঘরে তোলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আবহমান গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য এই নবান্ন উৎসব। ১ অগ্রহায়ণ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নবান্ন উৎসব উদযাপিত হচ্ছে। বগুড়ার কাহালুতে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে আবহমান গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য নবান্ন উৎসব উদযাপিত হয়েছে মঙ্গলবার। নবান্ন উৎসব উদযাপন উপলক্ষে কাহালু পৌর হাট বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসে বৃহৎ মাছের মেলা। মাছের মেলায় শৌখিন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। কাহালু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, হেমন্তকালে কৃষকের নতুন ধান ঘরে তোলার মধ্য দিয়ে গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এটি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। কাহালু বাজারের পাইকারি মৎস্য ব্যবসায়ী মো. ফজলার রহমান জানান, নবান্ন উৎসব উদযাপন উপলক্ষে এবার রাজশাহী থেকে  কাহালু বাজারে ১শ মণের বেশি মাছ বিক্রির জন্য এনেছি। গতবারের চেয়ে এবার মোকামগুলোতে দাম কিছুটা কম হওয়ায় বাজারে মাছের প্রচুর আমদানি হয়েছে। 

জয়পুরহাট : নবান্ন উৎসব ঘিরে জয়পুরহাটের কালাইয়ে মঙ্গলবার মাছের মেলা বসে। মাছ কিনতে মেলায় ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে এক দিনের মেলা বসে। মেলায় দেশীয় প্রজাতির পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছও বিক্রি হয়। সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ মেলা সারা দিন চলে। প্রতি বছর দিনক্ষণ মেনে এই এক দিনের অপেক্ষায় প্রহর গুনেন উপজেলার  আশপাশের ও প্রত্যন্ত গ্রামের লোকজন। পঞ্জিকা অনুসারে প্রায় একুশ বছর ধরে চলছে মেলাটি। প্রতি বছরের মতো এবারও নবান্ন উপলক্ষে বসা মেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মাছ কিনতে এসেছেন। বোয়াল, গ্রাসকার্প, রুই, সিলভার কার্প, কাতলা, মৃগেল, বড় সাইজের গলদা চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দিয়ে পসরা সাজায় ব্যবসায়ীরা। কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদা মোহতামিম জানান, নবান্ন উৎসব উপলক্ষে কালাই উপজেলা পাঁচশিরা বাজারে মাছের মেলা আয়োজন করে থাকে। এটা শুধু মাছ বিকিকিনি নয়, আনন্দ উৎসবও বটে; যেখানে কেনাবেচা ছাড়াও অনেকে শুধু দেখতে আসেন। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি করা হয়। মঙ্গলবার ভোর থেকেই কালাই পৌরসভার পাঁচশিরা বাজারে বসা রকমারি দোকানগুলোতে চলে মাছ কেনাবেচার ধুম। মেলায় ঢুকেই সারি সারি দোকানগুলোতে চোখে পড়ে মন-জুড়ানো সব মাছের পসরা। মেলায় থরে থরে সাজানো মাছগুলো প্রায় সবই বড় আকারের। আছে বড় বড় রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প ও পাঙাশ মাছ। চাষের মাছের পাশাপাশি নদীর দুয়েক ধরনের সামুদ্রিক মাছও উঠে মেলায়। সবাই দরদাম করে মাছ কেনেন। আকারভেদে ৩শ টাকা থেকে ১২শ টাকায় প্রতি কেজি মাছ বিক্রি হয়। 

নওগাঁ : দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো উত্তরবঙ্গের শস্যভান্ডার খ্যাত নওগাঁয়ও নবান্ন উৎসব উদযাপিত হয়েছে। নওগাঁর দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে সোনালি রঙের আমন ধান। নতুন ধানের সঙ্গে নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছেন কৃষক। নতুন ধান কাটা আর সেই ধানের প্রথম অন্ন খাওয়াকে কেন্দ্র করে তারা পালন করেছেন নবান্ন উৎসব। সামাজিকভাবে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী নানা আচার-অনুষ্ঠানও পালন করেন তারা। এদিকে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী প্যারিমোহন গ্রন্থাগার মিলনায়তনে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদ উৎসবের আয়োজন করে। নবান্ন উৎসবে আমনের নতুন ধানের চালের তৈরি পায়েস, খাগড়াই ও বাতাসা এবং মুড়ি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় অতিথিদের। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লালন, রবীন্দ্রসংগীত, দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান পরিবেশিত হয়। আয়োজকরা জানান, বাঙালির পুরোনো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নতুন ধানের চালের পায়েস খাওয়ার প্রথা বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে। যারা নতুন প্রজন্ম তাদের জানান দিতে নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

নতুন চালের তৈরি পায়েস, পোলাও, পিঠাপুলিসহ রকমারি খাদ্য পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন সবাইকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানোটাও যেন আনন্দের। সংগঠনের সহ-সভাপতি নাইস পারভীন বলেন, নতুন চালের তৈরি পায়েস, পোলাও, পিঠাপুলিসহ রকমারি খাদ্য পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন সবাইকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানোটা অনেক আনন্দের। এই ঐতিহ্য এখন হারানোর পথে। সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ায় সমাজে দ্বন্দ্ব ও হানাহানি বাড়ছে।

আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। একুশে পরিষদ নওগাঁর সভাপতি অ্যাডভোকেট ডিএম আবদুল বারী বলেন, নবান্ন বাংলার আদি সংস্কৃতির একটি অংশ। আমরা যেন এ সংস্কৃতি ভুলে না যাই। আমরা এ শিকড়ের কথা নতুন প্রজন্মকে জানান দিতে চাই। নবান্ন একটি অসাম্প্রদায়িক উৎসব যা আবহমান কাল থেকে হয়ে আসছে। 


সময়রে আলো/এনএ 

  বিষয়:   নবান্ন উৎসব  মেতেছে দেশ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: