বেণীমাধব দাসের ১৫৮তম জন্মদিন আজ। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ শিক্ষক, দার্শনিক এবং দেশপ্রেমিক, যিনি নিজের জীবনে এমন কিছু কাজ করেছেন যা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে।
শিক্ষকতার আদর্শ
বেণীমাধব দাস ১৮৮৬ সালে চট্টগ্রাম জেলার শেওড়াতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কৃষ্ণ চন্দ্র দাস ছিলেন একজন শিক্ষিত মানুষ। বাবার কাছ থেকেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। এরপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন শাস্ত্রে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। শিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয় চট্টগ্রাম কলেজে, তারপর তিনি ঢাকা, কটক, কৃষ্ণনগরসহ কলকাতার বিভিন্ন স্কুলে পড়িয়েছেন।
বেণীমাধব দাস ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। তার শিক্ষার পদ্ধতি ছিল খুবই নরম, কিন্তু কার্যকর। তিনি কখনো কঠিন ছিলেন না, বরং তার আচরণ ছিল খুবই শান্ত এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরা ছিল তার মন। তার শিক্ষা শুধু পাঠ্যবই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি জীবনের মূল দিকগুলোও শিক্ষার্থীদের শিখিয়েছিলেন, যা তাদের জীবনে সত্যিকারের মূল্যবান সম্পদ গড়ে তুলেছিল।
একজন গুণী পণ্ডিত
বেণীমাধব দাস কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন গুণী দার্শনিক এবং পণ্ডিত। তিনি দর্শন, অর্থনীতি এবং ইতিহাসে অনেক গভীর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। ১৯২৩ সালে তিনি অল ইন্ডিয়া থেইস্টিক কনফারেন্সের সভাপতিত্ব করেন। তার লেখা মডার্ন থেইস্টিক মুভমেন্ট ইন ইন্ডিয়া পুস্তিকাটি তার চিন্তা-ধারার প্রতিফলন। তিনি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছিলেন, যার মধ্যে পিলগ্রিমেজ থ্রু প্রেয়ার্স বইটি খুবই প্রশংসিত হয়। সুভাষচন্দ্র বসু তার বই ভারত পথিক-এ বেণীমাধব দাসের কথা উল্লেখ করেছেন।
এক বিপ্লবী পরিবার
বেণীমাধব দাসের পরিবার ছিল দেশপ্রেমে ভরা। তার মেজ ছেলে ভারতীয় অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, এবং সেই জন্য তাকে জেলও খাটতে হয়েছিল। তার স্ত্রী, সারদা দেবী ছিলেন সমাজ সেবিকা, এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।
বেণীমাধব দাসের দুই মেয়ে, কল্যাণী দাস এবং বীণা দাস, ছিলেন উজ্জ্বল বিপ্লবী ব্যক্তিত্ব। কল্যাণী দাস ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিলেন এবং জেল খেটেছিলেন। বীণা দাস ১৯৩২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে ব্রিটিশ গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে গুলি করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ৯ বছর কারাগারে ছিলেন। কিন্তু এসব কর্মকাণ্ডে বেণীমাধব দাস তাদের বাধা দেননি, বরং তাদের উৎসাহিত করেছিলেন এবং তাদের দেশপ্রেমে সমর্থন জানাতেন।
ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রেরণা
বেণীমাধব দাস ছিলেন একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, যিনি তার জীবনটা পুরোপুরি উৎসর্গ করেছিলেন তার দেশের জন্য। ১৯৫২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি, কিন্তু তার শিক্ষা, আদর্শ এবং দেশপ্রেম আজও আমাদের মাঝে জীবিত।
আজ তার জন্মদিনে আমরা তাকে শ্রদ্ধা জানাই এবং তার মহান অবদানকে স্মরণ করি, যা আমাদের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।
/ইউএমএইচ