মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভাসারচর গ্রামে জনতার হাতে আটক হয়েছেন নৌ-ডাকাত দলের এক সদস্য। এ সময় কৌশলে পালিয়ে যায় আরও পাঁচজন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ১১টায় গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের ভাসারচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
এসময় ডাকাত দলের ফেলে যাওয়া একটি ট্রলার থেকে পিস্তল, গুলি ও চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।
আটককৃত ডাকাত সদস্যের নাম রবিন (৩০)। তিনি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে। তিনি গুয়াগাছিয়ার জিতু রাঢ়ি গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ডাকাত দলের হামলায় আহত মুন্না বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে একটি ট্রলার নিয়ে ছয়জন লোক ভাসারচর গ্রামে আসে। তবে তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল তারা কারও ধাওয়া খেয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। পরবর্তীতে তারা ট্রলার বদল করে পালানোর চেষ্টা করলে বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক লাগে। আমিসহ কয়েকজন তাদের কাছে গিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় আমরা তাদের কাছে পিস্তল ও গুলি দেখতে পেলে তারা যে ডাকাত তা নিশ্চিত হই। পরবর্তীতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের জড়ো করা হয়। এ সময় ডাকাত দল গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। ডাকাত দলের পাঁচ সদস্য পালিয়ে গেলেও জনতার হাতে আটক হয়েছে একজন। ডাকাত দলের ফেলে যাওয়া ট্রলার থেকে পিস্তল, গুলি-সহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করি আমরা। পরে জনতার হাতে আটক ডাকাত সদস্যকে স্থানীয় একটি স্কুলে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আফরোজা বেগম বলেন, এরা সংঘবদ্ধ নৌ-ডাকাত দলের সদস্য। তারা ছয়জন ছিল। একজন নদীতে কচুরিপানায় আটকে গেলে জনগণ তাকে আটক করে। এই দলের বাকি সদস্যদের আটক করা গেলে আরও অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাওয়া যাবে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা যে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করেছে তার মধ্যে রয়েছে একটি ওয়ান শুটার গান, ১৬ রাউন্ড গুলি, একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি পিস্তল-সাদৃশ্য লাইটার।
এদিকে জনতার হাতে আটক ডাকাত রবিন বলেন, আমি পেশায় একজন শ্রমজীবী। একদিন আগে আমি জিতু রাঢ়ির বাড়িতে আসি। আজকে আমি জিতু রাঢ়ির কয়েকজন আত্মীয়ের সাথে নদীতে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। তারা পুলিশের ট্রলার দেখে নদী থেকে পালিয়ে ভাসারচর গ্রামে এসে ওঠে। এখন জনগণ আমাকে আটক করেছে, কিছু অস্ত্র উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। ট্রলারে থাকা জিতু রাঢ়ির আত্মীয়-স্বজনরা এসব বিষয়ে ভালো বলতে পারবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জিতু রাঢ়ির বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে এরকম একটা খবর আমরাও পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। বিস্তারিত আপনাদের পরে জানানো হবে।
সময়ের আলো/জেডআই