কেন্দ্র স্থগিত হলেও গণভোটের ফলাফল সংখ্যাগরিষ্ঠতায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রথম পাতা

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হবে একই দিনে। পৃথক ব্যালট পেপারে চারটি বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্নে

2025-11-26T06:09:15+00:00
2025-11-26T06:09:15+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা
কেন্দ্র স্থগিত হলেও গণভোটের ফলাফল সংখ্যাগরিষ্ঠতায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:০৯ এএম 
ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হবে একই দিনে। পৃথক ব্যালট পেপারে চারটি বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্নে হবে এই গণভোট। গণভোটের ব্যালট পেপার হবে রঙিন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার হবে সাদাকালো। গণভোটেও প্রবাসীসহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো কারণে যদি কোনো কেন্দ্রে গণভোট গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয় তা হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে ফলাফল ঘোষণা করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর হাতে থাকছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এই বিধান রেখে গণভোট অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। 

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। এ সময় ইসি সচিব আখতার আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের উপায়সহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তার ওই ভাষণের আগে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ আদেশ জারি করেন। তাতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট একই দিনে করার কথা জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ আইনি ভিত্তি পায়। 

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে পৃথক রঙের হবে। যাতে কেউ দ্বিধার মধ্যে না পড়েন। গণভোটে থাকবে মাত্র একটি প্রশ্ন ভোটাররা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার-সংক্রান্ত চারটি প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি জানান কি না। ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দুটি ঘর থাকবে; সম্মত হলে ‘হ্যাঁ’, না হলে ‘না’-তে সিল দিতে হবে। চারটি প্রস্তাব হলো-
১. জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন;
২. আগামী জাতীয় সংসদকে দুই কক্ষবিশিষ্ট করা এবং প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠন;
৩. জুলাই সনদের ৩০টি সংস্কার নারীর প্রতিনিধিত্ব, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, কয়েকটি সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ইত্যাদি এসব বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর বাধ্যবাধকতা;
৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন। 

আইন উপদেষ্টা বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী প্রতিটি দলই ৩০টি প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে; এনসিপিও একই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। এ জন্যই বলা হচ্ছে, এ ৩০টি প্রস্তাবে ‘ঐকমত্য’ হয়েছে। অধ্যাদেশের অ্যাপেন্ডিক্সে ৩০টি প্রস্তাব সংযুক্ত থাকবে, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ জানতে পারে গণভোটে কোনো বিষয়ে মতামত চাওয়া হচ্ছে। 

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেসব কেন্দ্রে হবে, সেই কেন্দ্রগুলোতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে; একই ভোটার তালিকাই ব্যবহার করা হবে। সংসদ নির্বাচনের জন্য যেসব রিটার্নিং, সহকারী রিটার্নিং, প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হবে, তারাই গণভোটের একই দায়িত্ব পালন করবেন। 

আইন উপদেষ্টা বলেন, যদি কোনো কারণে ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়, তখন প্রিসাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে অন্যান্য কেন্দ্রের ফলাফল দ্বারা ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, শুধু কমিশন ওইসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেবে। ধরা যাক, এক হাজার ভোটকেন্দ্র আছে, কমিশন যদি দেখে ২০টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া যায়নি, কিন্তু ২০টা কেন্দ্রের ফলাফল বিবেচনা না করলেও ইতিমধ্যে যেসব কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে অর্থাৎ বাকি ৯৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে গণভোটের ফলাফল নির্ধারণ করা সম্ভব; তা হলে ২০টি কেন্দ্রে পুনরায় ভোটের নির্দেশ দেবে না। জাতীয় নির্বাচনের জন্য যে সিলমোহর প্রস্তুত করা হবে, সেই একই সিলমোহর দ্বারা গণভোট করা যাবে। ভোটগ্রহণ, শৃঙ্খলা রক্ষা, বাতিল ব্যালট ও গণনা এসব ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধানই প্রযোজ্য হবে। 

আইন উপদেষ্টা বলেন, ভোট গণনা জাতীয় নির্বাচনের মতোই হবে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট পৃথক করে গণনা করবেন, ফল সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন; পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা বিভিন্ন কেন্দ্রের ফল একত্র করে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। নির্বাচন কমিশন সব কেন্দ্রের ফলাফল একত্রীকরণ করে গণভোটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবে। গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় বিধি, নির্দেশনা ও পরিপত্র জারি করার ক্ষমতাও কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। আইন উপদেষ্টা জানান, এ আইন প্রণয়নে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা পাওয়া গেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল, কয়েকজন উপদেষ্টা ও আইন মন্ত্রণালয়ও প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। 

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উভয় ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট থাকবে। আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটার তালিকা কমপ্লিট হয়ে যাবে। ৫ ডিসেম্বরের আগেই যে ভোটার তালিকা পাব, সেই তালিকা অনুযায়ী নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাব। আর অন্যান্য যে দ্রব্যাদি, যেমন আমাদের লোগো, ব্যালট বক্স, আঙুলের অমোচনীয় কালি, স্ট্যাম্প প্যাড এগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ আছে। শেষ যে স্টক আমরা পেয়েছি, সেটিও এখন আমাদের দখলে আছে। আমরা এটি ক্রমাগতভাবে আস্তে আস্তে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেব, যাতে শেষের দিকে চাপ না পড়ে। 

১৯৯১ সালের গণভোট আইনটি করা হয়েছিল সংবিধান সংশোধনী কোনো বিল সংবিধানের ১৪২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে গৃহীত হওয়ার পর তাতে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদান করবেন কি করবেন না এই প্রশ্নটি যাচাইয়ের জন্য গণভোটের বিধান প্রণয়নকল্পে। আর এবারের আইনটি জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার-সম্পর্কিত অংশ সংসদে অনুমোদনের আগেই গণভোটের মাধ্যমে যাচাইয়ের জন্য। 

সময়ের আলো/এনএ 

  বিষয়:   কেন্দ্র স্থগিত  গণভোট  ফলাফল  সংখ্যাগরিষ্ঠতা 


Loading...
Loading...
প্রথম পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: