৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে টানাপড়েন

সমীরণ রায়

প্রথম পাতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জোটগতভাবে প্রার্থী দেবে বাম রাজনৈতিক দলগুলো। জোটগতভাবে ৩০০ আসনে মনোনয়নের কথা ভাবলেও প্রার্থী সংকটে

2025-11-27T01:02:53+00:00
2025-11-27T01:02:53+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা
৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে টানাপড়েন
বামজোটের ঘোষণা ২৯ নভেম্বর
সমীরণ রায়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১:০২ এএম 
প্রতীকী ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জোটগতভাবে প্রার্থী দেবে বাম রাজনৈতিক দলগুলো। জোটগতভাবে ৩০০ আসনে মনোনয়নের কথা ভাবলেও প্রার্থী সংকটে আছে এসব দল। ফলে ৩০০ আসনে মনোনয়ন দিতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে টানাপড়েনে রয়েছে দলগুলো। এসব দলের দাবি, রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজ কিংবা জনগণের মতামত না নিয়েই জামানত বৃদ্ধি, নির্বাচনি ব্যয়সীমা বাড়ানো, না ভোট সীমিত করাসহ বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের প্রার্থী হওয়ার অধিকার সীমিত হবে বলে ধারণা তাদের। আরপিও সংশোধনীগুলো ধনীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাড়িয়ে সংসদকে কোটিপতির ক্লাবে রূপান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক দলগুলো নড়েচড়ে বসে। এরপরই জোট গঠনে দফায় দফায় আলোচনা করে বাম দলগুলো। এতে একমত হয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদ নেতারা। এরই প্রেক্ষিতে আগামী ২৯ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে সকাল ১০টা দিনব্যাপী জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। এই কনভেনশনের মধ্য দিয়ে দাবিনামা পেশ করা হবে। একই সঙ্গে জোটের নামও ঘোষণা আসবে। ইতিমধ্যে দলগুলো সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতা থাকলেও অনেকেই নির্বাচন করতে ইচ্ছুক নন। তাদের দাবি, সারা দেশে নির্বাচনে লড়ার লোক থাকলেও অন্য বড় রাজনৈতিক দলের দৌড়ে তারা পিছিয়ে রয়েছে।

এদিকে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর বাম দলগুলো জোট গঠনের নানা উদ্যোগ নেয়। এরই প্রেক্ষিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা ও বাংলাদেশ জাসদ জোট গঠনে দফায় দফায় বৈঠক করে। কিন্তু অবশেষে ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা একমত হতে পারেনি। সবশেষ বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদ সম্মত হয়। এ ছাড়া সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ছাত্রসংগঠনসহ পাহাড়ি সংগঠন রয়েছে। আগামী ২৯ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে সকাল ১০টায় দিনব্যাপী জাতীয় কনভেনশন। এ অনুষ্ঠানে থাকবে ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী, পাহাড়ি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। এ কনভেনশনের দিন জোটের ঘোষণা আসবে। দেওয়া হবে দাবিনামা ও কর্মপরিকল্পনা। এখান দেওয়া হবে জনগণের অধিকারের সনদ। চলবে ক্যাম্পেইন। এ জোটের নামের প্রস্তাব রয়েছে ‘বাম গণতান্ত্রিক বিকল্পধারা’ অথবা ‘যুক্তফ্রন্ট’। 

এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদ তাদের প্রার্থীদের খসড়া তালিকা তৈরি করছে। এরপর ২৯ নভেম্বরের পর থেকে বাম দলগুলো জোটগতভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে। এর আগে নিজ নিজ দল থেকে প্রার্থীর খসড়া তালিকা করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার, উঠান বৈঠকসহ সামাজিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখানেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি। অনেকেই নির্বাচন করতে আগ্রহী নন। তাদের ভাষ্য, বিএনপি-জামায়াতসহ বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে হেরে যাওয়ার আশঙ্কা। সেই আশঙ্কা থেকে তারা নির্বাচনে লড়াইয়ের মাঠে নামতে চান না। এতে ৩০০ আসনে প্রার্থী পাওয়া বাম দলগুলোর জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা।

নেতারা বলছেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকেই এক হওয়ার চেষ্টা করে আসছি। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅখভ্যুত্থানের পর থেকে আমাদের এই প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হয়। এই চেষ্টার অংশ হিসেবে আগামী ২৯ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে কনভেনশন। এই কনভেনশনের মধ্য দিয়েই বৃহত্তর বাম জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। ইতিমধ্যে বাম দলগুলো নিজ নিজ দলের প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আজ বৃহস্পতিবার ১০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে। অন্যরা শিগগিরই প্রার্থী ঘোষণা দেবে।

নেতারা বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে ছিল জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, বাসদ একাংশসহ কয়েকটি দল। এই দলগুলো ইতিমধ্যে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ কয়েকটি দল গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এর বাইরে যে কয়েকটি দল রয়েছে, তারা বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এই বৃহত্তর ঐক্যের উদ্যোক্তা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। এই দল দুটি বাম গণতান্ত্রিক জোটের অংশ। ইতিমধ্যে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদ একমত হয়েছে। পাশাপাশি আধিবাসী সংগঠন, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গেও দফায় দফায় বৈঠক চলছে।

সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, বাম দলগুলো জোট গঠনের আলোচনা শেষ। আগামী ২৯ নভেম্বর জাতীয় কনভেনশন। ওইদিনই জোটের ঘোষণা আসবে। এই জোট ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটের মাঠে লড়বে। সিপিবি তার দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দেবে বৃহস্পতিবার। জোট গঠনের পর আসন সমঝোতার ভিত্তিতে জোটগতভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। জোট সিদ্ধান্ত দেবে কাকে কোন আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে। এই জোট ৩০০ আসনেই মনোনয়ন দিতে চায়। কিন্তু বুর্জোয়া শ্রেণির রাজনৈতিক দলের আস্ফালনে আমাদের অনেক প্রার্থী যোগ্য হলেও নির্বাচনে লড়তে চান না। বর্তমান আরপিও সংশোধনীগুলো ধনীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাড়িয়ে সংসদকে কোটিপতিদের ক্লাবে রূপান্তর করছে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ২৯ নভেম্বর বাম দলগুলোর জাতীয় কনভেনশন। এই কনভেনশনের মধ্য দিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদসহ সামাজিক, সংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে একটি জোটের ঘোষণা দেবে। ৫৪ বছরের রাজনীতির ধারা আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও জাতীয় পার্টির বিভিন্ন সময় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এর বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি জোট গঠন হচ্ছে। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো দল বা গোষ্ঠী থাকবে না। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়টি থাকবে।

তিনি বলেন, আগামী ২৯ নভেম্বর জাতীয় কনভেনশনের দাবিনামা থাকবে।  এই জোট থেকে ৩০০ আসনের প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এর মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও মনোনয়ন পাবেন। তারা আগামী নির্বাচনে জোটগতভাবে নির্বাচনে লড়বেন। শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে ব্যবসা করেছেন। এখন আবার ২৪ জুলাই নিয়ে এক দল ব্যবসা করছেন। এই ব্যবসার বিপরীতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্ল্যাটফর্ম হবে। এরপরে আমরা সারা দেশব্যাপী ঝটিকা সফর ও সভা সমাবেশ করব। এর মধ্য দিয়ে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করব। তবে ২৯ নভেম্বর জাতীয় কনভেনশনের পরেই প্রার্থী ঘোষণা দেব। এর আগে আমাদের প্রার্থীদের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে দেশব্যাপী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। জোট হয়ে যাওয়ার পরে সবাই বসে ঠিক করে আমরা একটি আসনে জোটগতভাবে একজনকেই মনোনয়ন দেব।
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, বামপন্থিদের বিকল্প শক্তি গঠনের অংশ হিসেবে আমরা একটি জোট গঠন করছি। আগামী ২৯ নভেম্বর জাতীয় কনভেনশনের মধ্য দিয়ে ঘোষণা আসবে এটির। ইতিমধ্যে আমরা একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। ৩০০ আসনেই জোট প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবছে। শেষ পর্যন্ত দেখা যাক কী হয়।

গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাম দলগুলো জোটগতভাবে লড়বে। ইতিমধ্যে আমরা সবাই একমত হয়েছি। ২৯ নভেম্বর জোটের ঘোষণা আসবে। ইতিমধ্যে আমাদের দলীয় প্রার্থীর তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। জোট গঠন হওয়ার পর আসন সমঝোতা হবে। এই জোট আগামী ভোটে লড়বে। কিন্তু আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে চাইলেও অনেকেই প্রার্থী হতে চান না। কারণ আরপিও সংশোধনীগুলো ধনীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বুর্জোয়া শক্তির কাছে আমাদের প্রার্থীরা বিগত দিনে হেরে গেছেন। তারপরেও আমরা চেষ্টা করছি ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে।


Loading...
Loading...
প্রথম পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: