ভূমিকম্পে মেট্রোরেলের কোনও ফিজিক্যাল ডিসপ্লেসমেন্ট (ভৌত সরণ বা স্থানচ্যুতি) হয়নি বলে জানিয়েছেন মেট্রো রেল নির্মাণ ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সোমবার (১ ডিসেম্বর) উত্তরার দিয়াবাড়িতে ডিএমটিসিএলের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে ট্র্যাকের উপর ড্রোন পড়েছে। গত কিছুদিনে সাতটা ককটেল পাওয়া গেছে। মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাডের দুর্ঘটনার পর থেকে গড়ে ১০ শতাংশ যাত্রী কম যাতায়াত করছে।’ মেট্রোরেলের ছাদে কিশোর উঠে পড়ার ঘটনা ‘স্যাবোটাজ’ কিনা তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে দেখছে বলেও জানান তিনি।
ডিএমটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘ছাদে ওঠার ঘটনায় একজনকে পাওয়া গেলেও আরও কেউ সঙ্গে ছিল কি না তা জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।’
জনগণের সচেতনতার জন্য সাংবাদিকদেরকে ইতিবাচক কিছু লেখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সম্পদটা শুধু ডিএমটিসিএল এর না। এই সম্পদটা আমাদের সবার। আমরা যেন এটা রক্ষা করতে পারি।’ তিনি জানান, মেট্রোতে আগে দৈনিক গড়ে চার লাখ ৬০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতো। এ সংখ্যা এখন চার লাখের আশপাশে রয়েছে। ফার্মগেট পার্ক এর ৬৫ শতাংশ জনগণকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিয়ারিং প্যাড পড়ে পথচারী মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে নতুন নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিয়ারিং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সেটি বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আসার অপেক্ষায় তদন্ত কমিটির মেয়াদ বাড়িয়ে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।’
এদিকে, গতকাল রোববার সচিবালয় রেলস্টেশনে মেট্রোরেলের দুই কোচের মাঝখান দিয়ে এক কিশোর ছাদে উঠে যাওয়ার ঘটনায় রাত ৮টার পর ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই বিষয়ে ডিএমটিসিএলের এমডি বলেন, ‘একটা ছেলে ছাদে উঠে গেছে এটা জানার পর পরই আমাদের সিকিউরিটি সঙ্গে সঙ্গে তাকে নামিয়ে ফেলে। আল্লাহর রহমত কোনও ক্ষতি হয়নি। ওই কিশোর কারওয়ান বাজার থেকে আগারগাঁও যায়, সেখান থেকে সে দুই ট্রেনের মধ্যখানে বসে সেখান থেকে সচিবালয় যায়। ওখানেই তাকে নামিয়ে ফেলা হয়। সে সময় পুরো ট্রেন সার্ভিস বন্ধ করা হয়। যার কারণে আমরা ট্রেন বন্ধ করে প্রতিটি ট্রেকে সার্চ করেছি।’
মেট্রোরেলের নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর কথা জানিয়ে ডিএমটিসিএল এমডি বলেন, ‘স্টেশনের নিচে এন্ট্রি পথে সিসি টিভি লাগানো হবে। যাতে উৎসটা কোথায়, কোথা থেকে এলো, সব দেখা যাবে। স্যাবোটাজ আছে কি না-সেটাও বোঝা যাবে।’
সময়ের আলো/এনএ