দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে তাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে এসেছেন ত্রিশোর্ধ্ব মা মরিয়ম খাতুন, শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের দেখভাল করছিলেন তিনি। প্রথম শ্রেণির দৃশ্য এটি।
আর দ্বিতীয় শ্রেণিতে চলছিল মৌখিক পরীক্ষা, সেটি নিচ্ছিলেন তাহমিনা আক্তার নামে আরেক অভিভাবক, আর তৃতীয় শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা নিচ্ছিলেন প্রধান শিক্ষক মো. আমজাদ হোসেন।
প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকরা যখন শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন, তখন শিক্ষকদের অফিসকক্ষে বসে অলস সময় পার করছিলেন চার সহকারী শিক্ষক। তিন দাবিতে তাদের চলা কর্মবিরতিতে এমন চিত্র ঢাকার ধামরাইয়ের ১৬১ নম্বর ডেমরান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
সরেজমিনে ধামরাইয়ের কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষকরা পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন। কয়েকটি স্কুলে প্রধান শিক্ষককেই পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও অভিভাবকদেরও পরীক্ষা নিতে দেখা যায়। আবার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের দেখভালও করতে দেখা যায় অভিভাবকদের।
ডেমরান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির কক্ষে হইচই করছিলেন শিক্ষার্থীরা। তাদের শান্ত করতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায় অভিভাবক মরিয়ম খাতুনকে। তার দুই কন্যা ও এক ছেলে পড়েন এ বিদ্যালয়ে। মরিয়ম খাতুন বলেন, শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন না। তারা ক্লাসে যাচ্ছেন না। বাচ্চারা ক্লাসে হৈ-হুল্লোড় করছে। শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়ে আমাদেরই আসতে হচ্ছে।
একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে মৌখিক পরীক্ষা নিচ্ছিলেন মিতু আক্তার নামে অন্য এক অভিভাবক। তার ছেলে পড়ে এই শ্রেণিতে। তিনি বলেন, পরীক্ষা নেওয়ার কেউ নেই। তাই এভাবে নিজেই পরীক্ষা নিয়ে দিচ্ছি প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে চলছিল লিখিত পরীক্ষা। সেখানে প্রশ্নপত্র বিতরণ ও পরিদর্শকের কাজ করছিলেন প্রধান শিক্ষক মো. আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে তাই শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে একাই সব চালিয়ে যাচ্ছি।
এদিকে কর্মবিরতিরত শিক্ষকরা জানান, সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১০ নভেম্বরের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আপাতত ১১তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন জারি করা, ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতার অবসান এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এসব দাবি না মানলে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান শিক্ষকরা। সহকারী শিক্ষিকা শামীমা আক্তার বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন ধরে বঞ্চিত। অবিলম্বে আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার দাবি জানাই।
সুমাইয়া আক্তার নামে অন্য এক সহকারী শিক্ষিকা বলেন, আমরা সারা বছর বাচ্চাদের পড়াই। কিন্তু আমরা যথাযথ সুবিধা পাচ্ছি না। তাই এই কর্মবিরতি। দ্রুত আমাদের দাবি না মানা হলে এই কর্মসূচি চলমান থাকবে।
ধামরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মোবাখখারুল ইসলাম মিজান বলেন, আমরা শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে চেষ্টা করছি। কর্মবিরতির বিষয়েও খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
সময়ের আলো/এআর