শিক্ষকদের কর্মবিরতি, পরীক্ষা নিচ্ছেন অভিভাবক

মেহেরপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতির কারণে মেহেরপুরের ৩০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে। তাই প্রশ্নপত্র বিতরণ

2025-12-04T18:54:49+00:00
2025-12-04T18:54:49+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
শিক্ষকদের কর্মবিরতি, পরীক্ষা নিচ্ছেন অভিভাবক
মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৫৪ পিএম 
শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতির কারণে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছেন অভিভাবকরা। ছবি : সংগৃহীত
দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতির কারণে মেহেরপুরের ৩০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে। তাই প্রশ্নপত্র বিতরণ থেকে শুরু করে খাতা সংগ্রহ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও অভিভাবকদের। কোথাও কোথাও অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এসে পরীক্ষা বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সঠিক মূল্যায়ন বিঘ্নিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও ভোগান্তি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল। অভিভাবকদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। তবে শিক্ষা বিভাগ ও প্রশাসন জানিয়েছে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, কর্মবিরতির কারণে অনেক বিদ্যালয়েই সহকারী শিক্ষকগণ পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছেন না। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিতে বাধ্য হয়ে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, শিক্ষকদের কর্মবিরতির ঘোষণা শোনার পর থেকেই বাচ্চাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আহ্বানে অভিভাবকরাই পরীক্ষার খাতা বিতরণ, প্রশ্ন দেওয়া থেকে শুরু করে কক্ষ তদারকি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছেন  অভিভাবকরা। ছবি : সংগৃহীত

পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছেন অভিভাবকরা। ছবি : সংগৃহীত


গাংনী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমাদের সন্তানদের ভবিষৎ চিন্তা করেই আমি পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছি। বাচ্চারা সারা বছর যে পরিশ্রম করেছে তার মূল্যায়ন হয় এই পরীক্ষায়। শিক্ষকদের এমন আন্দোলনে আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই দায়িত্ব পালন করছি।

আরেক অভিভাবক বলেন, “শিক্ষকদের দাবি থাকতেই পারে, কিন্তু নিজের সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা জিম্মি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্দোলন তারা করুক, কিন্তু বার্ষিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সময়মতো নিতে পারতো।”

গাংনী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভেজ সাজ্জাদ রাজা বলেন, গতদিন পরীক্ষা নিতে পারিনি। আজ উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ইউইও) স্যার এসে বলেছেন যে যেকোনোভাবে পরীক্ষা নিতে হবে। শিক্ষকরা সহযোগিতা না করলেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং অভিভাবকদের সহায়তায় পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গাংনী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস এম জয়নুল ইসলাম বলেন, বেশিরভাগ সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা নিচ্ছেন না আবার অনেক শিক্ষক এসেও চলে গেছেন। তাই প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। চলমান অবস্থা নিয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।  আশা করছি খুব দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান হবে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা প্রতিটি বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহ করছি এবং এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে। আশা করি বিষয়টি শিঘ্রই সমাধান হবে।

সময়ের আলো/কেএইচও 


  বিষয়:   শিক্ষক  কর্মবিরতি  পরীক্ষা  অভিভাবক 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: