ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে এ অনুমতির ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই সাতক্ষীরার পাইকারি বাজারে দাম কমেছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন মৌসুমের দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসা এবং সরকারের আমদানির অনুমতির পর এই দাম কমেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় এই মশলা জাতীয় পণ্যটির দাম কমায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজারের আড়ত ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
জানা গেছে, রোববার পর্যন্ত কেজি প্রতি ১৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া পুরাতন পেঁয়াজ এখন ১১০ টাকায় এবং ১০৫ থেকে ১০০টাকা দরে বিক্রি হওয়া নতুন মেহেরপুর জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি।
সুলতানপুর বড়বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তুহিন বলেন, ‘পুরো বছর দেশি পেঁয়াজের মাধ্যমে চাহিদা মিটেছে। ফলে কৃষকরা এবার ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন এবং বৈদেশিক মুদ্রারও সাশ্রয় হয়েছে। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে কিছু ব্যবসায়ীর অধিক মুনাফার আশায় উচ্চ মূল্যের চেষ্টা বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছিল। তাই সরকার আমদানির অনুমতি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে গেছে।
বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা ক্রেতা শামসুল হক বলেন, সরবরাহ কমের অজুহাতে হঠাৎ করে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। এতে আমাদের মতোন সাধারণ মানুষদের সমস্যা হয়। দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ এবং ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে থাকলে আমাদের জন্য ভালো হয়।
আরেক ক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোববার যে পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা আজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ১১০ টাকায়। সরকার আমদানির অনুমতি দিতেই এ দাম কমেছে। এখানে ব্যবসায়িদের কারসাজি আছে। অধিক লাভের আশায় কিছু কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করে দেয়। আমরা চাই নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হোক। তাহলে বাজারে কম দামে পেঁয়াজ আসবে।
সুলতানপুর বড়বাজারের আড়তদার মেসার্স মোল্যা ভান্ডারের প্রো. মো. আজিজুল ইসলাম মোল্যা বলেন, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। এমনিতে পুরাতন পেঁয়াজের মজুত শেষের দিকে। যে কারণে পুরাতন পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় দামও বেড়ে যায়।
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে এটি স্বল্প পরিসরে। প্রতিদিন ৫০ জন আমদানিকারক আইপি পাবেন এবং একজন আমদানিকারক ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবেন। সরকারের যদি পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) উন্মুক্ত করে দেয় তাহলে দেশের বাজারে দাম আরও কমে আসবে।
ভোমরা স্থলবন্দর কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, সরকারিভাবে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার পরই রোববার বিকালে ভোমরা বন্দর দিয়ে এক গাড়িতে ৩০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে এসেছে। ভোমরা স্থল বন্দরের মেসার্স সামি এন্টারপ্রাইজ এই পেঁয়াজ অমদানি করেন। এই এক গাড়ি পেঁয়াজ থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬ টাকা।
সময়ের আলো/কেএইচও