রাজশাহীর তানোরে সরু গর্ত দিয়ে মাটির গভীরে পড়ে যাওয়া শিশু সাজিদকে ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। তবে শিশুটি বেঁচে নেই।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) হাসপাতালের বরাত দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।
গর্তে পড়ে যাওয়ার ৩২ ঘণ্টা পর আজ (বৃহস্পতিবার) রাত ৯টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটিকে তানোর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর মৃত ঘোষণা করে।
ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, শিশুটিকে ৬০ ফুট নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেছেন।

এর আগে গত গত বুধবার দুপুরে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। শিশু সাজিদ তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি জমি পার হচ্ছিল। জমিটি খড় দিয়ে ঢাকা ছিল। সাজিদের মা জানতেন না যে খড়ের নিচেই রয়েছে একটি অরক্ষিত গভীর নলকূপের গর্ত। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ গর্তে পড়ে যায়। পেছন থেকে ‘মা মা’ চিৎকার শুনে মা ফিরে দেখেন সাজিদ নেই। খড় সরাতেই বেরিয়ে আসে মৃত্যুকূপ।
পরে বুধবার বিকেল থেকে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করার সন্ধান মেলে সাজিদের। উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট টানা উদ্ধারকাজ চালায়।
স্থানীয়দের দাবি, অনুমোদনহীন নলকূপ স্থাপন ও অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা। তাদের অভিযোগ, এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন এই গভীর টিউবওয়েল স্থাপন প্রায়ই হয় অনিয়ম ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়।
তানোরে ব্যক্তিমালিকানাধীন গভীর নলকূপ রয়েছে ৪২৫টি, বিএমডিএর অধীন ডিডিডাব্লিউ নলকূপ ৫১৭টি, আর অকেজো বা পরিত্যক্ত রয়েছে ১২টি। স্থানীয়রা বলছেন, অনুমোদন ছাড়া স্থাপিত এসব নলকূপই আজ বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের উদাসীনতা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে উদ্ধার বিলম্ব হচ্ছে। নাজমুস সাকিব নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, শুরুতেই যদি বড় এক্সকেভেটর ব্যবহার করা হতো, উদ্ধারকাজ দ্রুত শেষ হতো। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রশাসনের বড় গাফিলতি মনে হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডআই