মিত্রদের সন্তুষ্টির চাপে বিএনপি

সাব্বির আহমেদ

প্রথম পাতা

যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। দলটি এই সপ্তাহের মধ্যেই সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে চায়। শরিক

2025-12-23T01:07:23+00:00
2025-12-23T01:07:23+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা
মিত্রদের সন্তুষ্টির চাপে বিএনপি
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:০৭ এএম   (ভিজিট : ২৭৩)
বিএনপি। ছবি : সংগৃহীত
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। দলটি এই সপ্তাহের মধ্যেই সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে চায়। শরিক কয়েকটি দলকে তারা কোনো আসনে ছাড় দিচ্ছে না। দুটি দল নিজেদের কার্যক্রম বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করে আসন নিশ্চিত করেছে। সব মিলিয়ে বিএনপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শরিকদের ১৫-২০টি আসনে ছাড় দিতে আগ্রহী।

আসন নিয়ে সৃষ্ট মতবিরোধ নিষ্পত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দল ও জোটগুলোর সঙ্গে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বৈঠক শুরু করছে বিএনপি। গত বুধবার প্রথম দিনের বৈঠকে ১২ দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটকে একটি করে আসন ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। শনিবার বিরতি দিয়ে রোববার গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। আজ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর-১ আসনে ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার এবং নড়াইল-২ আসনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে আসন দেওয়ার বিষয়ে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে বিএনপি।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ৫ দলীয় জোট গণতন্ত্র মঞ্চ ও গণফোরামের সঙ্গে বৃহস্পতিবার আসন ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠক করেছে বিএনপি। শুক্রবার জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাম গণতান্ত্রিক ঐক্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।

এদিকে গতকাল নিজের দল বিলুপ্ত করে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। মঙ্গলবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই যোগদান অনুষ্ঠান হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে যোগ দেন হুদা। 

কিশোরগঞ্জ- ৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশ নেবেন সৈয়দ এহসানুল হুদা। এর আগে দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- বিএলডিপির (একাংশ) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম। লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে সেলিম ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন বলে জানায় বিএনপি।

বিএনপি জানিয়েছে, জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান থাকায় ভোটের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে আসন ছাড়ের বিষয়ে হিসেবে হয়েছে দলটি। তাদের মতে, বিএনপির সমর্থন থাকলেও ছোট দলগুলোর অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতীকে জয়ী হওয়া কঠিন হতে পারে। এ কারণে ছোট দলের শীর্ষ নেতারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী। বিএনপিও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের সেই সুযোগ দেওয়ার কৌশল নিয়েছে।

আসন বণ্টন নিয়ে গণফোরামের একজন নেতা সময়ের আলোকে বলেন, তাদের দলকে বিএনপি জানিয়েছে এই নির্বাচনে 
তাদের কোনো আসনে ছাড় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিএনপি সরকারে গেলে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। প্রথমে গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী ঢাকা-৬ আসন চেয়েছিলেন। এই আসনে ২০১৮ সালে ধানের শীষে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। এরপর দলের আরেক নেতা নরসিংদীর একটি ছাড় চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা-ও রাজি হয়নি বিএনপি।

সূত্র জানায়, গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে দুটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনি সমঝোতা করতে রাজি হয়েছে বিএনপি। রোববার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক ঐকমত্যে পৌঁছায়। নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং ঝিনাইদহ-২ আসনে দলটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খানের জন্য আসন ছাড় দিতে বিএনপি সম্মত হয়েছে। 

তবে গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হাসান আল মামুন সময়ের আলোকে বলেন, আমরা বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় রাজি নই। দুটি আসনে সমঝোতা আমাদের মতো দলের জন্য হতাশজনক। তারা অন্য ছোট দলগুলোর সঙ্গে আমাদের তুলনা করছে। আমরা দলের প্রতীক ‘ট্রাক’ নিয়ে ৩০০ আসনে নির্বাচনে অংশ নেব।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী সময়ের আলোকে বলেন, আজ মঙ্গলবার দুপুরে আমাদের বৈঠক রয়েছে। সেখানে আসনের বিষয়ে চূড়ান্ত আলাপ হবে। আমরা ১০টি আসন চেয়েছি। বিএনপি আমাদের ৪টি আসন দিতে চেয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে বিএনপি ওপর ক্ষোভ বাড়ে মিত্রদের। দীর্ঘদিনের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক পরিচিত নেতাদের আসনে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দুই দফায় সব মিলিয়ে দলটি ২৭২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। যদিও বিএনপি বলছে, এটি তাদের প্রাথমিক তালিকা। সেখানে প্রয়োজনে রদবদল হতে পারে। 

সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয়। এমন আশ্বাস মানতে নারাজ জোট শরিকরা। তারা বলছেন, বিএনপি রাজপথের দীর্ঘদিনের বন্ধুদের অমর্যাদা করেছে। কথা দিয়ে কথা রাখেনি। যেখানে জামায়াতে ইসলামী সবাইকে নিয়ে বড় জোট করার চেষ্টায় আছে, সেখানে বিএনপি আত্মতুষ্টিতে ভুগছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দুই সপ্তাহ আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর আগে ৩ নভেম্বর ২৩৭ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করে দলটি। সব মিলিয়ে এখনও ২৮টি আসন ফাঁকা রয়েছে।

কার জন্য কোন আসন ফাঁকা : পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির (বিলুপ্ত) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক, কুমিল্লা-৭ আসনে দলটির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ঝিনাইদহ-২ আসনে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের নাম জোটের প্রার্থী হিসেবে আলোচনা আছেন।

গণতন্ত্র মঞ্চের শরিকদের মধ্যে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব শারীরিক অসুস্থতার জন্য এবার নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইছেন না। তবে তার স্ত্রী জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রবের জন্য লক্ষীপুর-৪ আসনটি চাইছেন। কিন্তু এই আসনটি ছাড়তে রাজি নয় বিএনপি। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক দুবারের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহশিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক। এ জন্য জেএসডি এখন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এবি পার্টির সঙ্গে জোট করতে চাইছে। ইতিমধ্যে দলটি একাধিক বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন।

অন্যদিকে সিলেট-৫ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক, নীলফামারী-১ আসনে মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মনির হোসেন কাসেমী, সুনামগঞ্জ-২ আসনে শোয়ায়েব আহমদ চাইছেন।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও-পাগলা) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী এলডিপির (অলি) প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি জোটের প্রার্থী ছিলেন। এবারও তাকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে আলোচনা আছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সময়ের আলোকে বলেন, সবাইকে আসন দিয়ে খুশি করা সম্ভব নয়। অনেক কিছু যাচাই-বাছাই করে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এবার জোটে জামায়াতে ইসলামী নেই। এ ছাড়া দলীয় প্রতীকে সবাইকে নির্বাচন করতে হবে। সবকিছু বিবেচনা করে আসন ছাড়তে হচ্ছে।

গণতন্ত্র মঞ্চের একজন নেতা সময়ের আলোকে জানান, তাদের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১২ আসন দিতে পারে। যদিও বিএনপি এই আসনে সাইফুল আলম নীরবকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে একজন নেতাকে উচ্চকক্ষে নিয়ে মন্ত্রী বানাতে পারে; এমন আলোচনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে সাইফুল হক সময়ের আলোকে বলেন, আমি এখন পর্যন্ত ঢাকা-৮ আসনে গণসংযোগ করছি। তবে আলোচনা আছে ঢাকা-১২ নিয়ে। আমি এই আসনের ভোটার। ত্রিশ বছর ধরে এই আসনে থাকি। হয়তো এখানে অ্যাডজাস্টমেন্ট হতে পারে।

সময়ের আলো/কেএইচও 


  বিষয়:   মিত্র  সন্তুষ্টি  বিএনপি 


Loading...
Loading...
প্রথম পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: