বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নে ৩ ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাওয়ার হিড়িক পড়েছে। প্রকাশ্যেই চলছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। ৩ থেকে ৪ ফুট গভীর গর্ত করে কাটা হচ্ছে মাটি। পার্শ্ববর্তী জমির কৃষকরা বাধা দিলেও জোরপূর্বক কাটা হচ্ছে মাটি। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন বলছে, দ্রুত সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, কৃষিজমির টপ সয়েল কাটার কোনো সুযোগ নেই। এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শিগগিরই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে। কৃষিজমির টপ সয়েল কাটা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস।
সরেজমিন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরেই উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের মাঝবাড়ী গ্রামের ৩ ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। মাটি কাটার পর ট্রাকের সাহায্যে নিয়ে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। গত কয়েক দিন ধরেই এই অবৈধ কর্মযজ্ঞ বিরাজমান রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ- মাঝবাড়ী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান পিন্টু, জিয়াউর রহমান মোল্লা এবং আবু বক্কর সিদ্দিক মাটিগুলো বিক্রি করেছেন।
একই গ্রামের আব্দুল মোল্লা এবং আবু বক্কর সিদ্দিক বক্কা মাটিগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই স্থানে গত কয়েক দিনে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির টপ সয়েল কাটা হয়েছে। জমিগুলোতে ৩ থেকে ৪ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, মাটি পরিবহনের ট্রাক চলাচলের জন্য বেশ কিছু কৃষিজমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় অনেক কৃষকের জমি।
এ ছাড়া মাটি পরিবহনের কারণে উপজেলার ফুলবাড়ী গোহাটি থেকে রামচন্দ্রপুরগামী গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কটির বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ মাত্র কিছু দিন আগেই এখানে সংস্কার করা হয়েছিল।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কৃষিজমির মাটি কাটতে বাধা প্রদান করেছিলেন। কিন্তু ইটভাটার লোকজন জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বর্ষাকালে তাদের জমি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। তা ছাড়া কৃষিজমির ওপরের টপ সয়েল বিক্রির ফলে জমির উর্বরতা শক্তিও কমে যাচ্ছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষিজমির টপ সয়েল কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে ২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তা ছাড়া এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি কমছে এবং অন্যদিকে মাটির উর্বরতা শক্তিও কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্যঘাটতি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষক শহিদুল ইসলাম মজনু বলেন, আমার জমির চারপাশে গত কয়েক দিন ধরেই মাটি বিক্রির হিড়িক উঠেছে। মাটিগুলো কেটে ট্রাক দিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে আমার জমি ৪ ফুট নিচু হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে বর্ষাকালে আমার জমি ভেঙে যাবে। আমরা কৃষকরা দলবদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু তারা জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের গ্রামের পাকা রাস্তাও একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে আমরা এর প্রতিকার চাই।
সময়ের আলো/কেএইচও