প্রকাশ: রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৫ এএম
নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি নওগাঁর নারী ভোটারদের। ছবি : সময়ের আলোআসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নওগাঁয় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। নির্বাচনি আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে নারীদের মাঝেও। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে নানা জনের নানা মত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে কর্মজীবী নারী ভোটাররা বড় নির্ধারক হতে পারেন।
আর নারী ভোটাররা বলছেন, শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি নয়, বাস্তবায়ন চান তারা। তাদের মতে, নারীরা শুধু সংরক্ষিত আসনে নয়, সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করে নির্বাচনে অংশ নেবেন, যার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হবে নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা। আগামী সরকার নারীবান্ধব হবে যারা সমাজ ও দেশের উন্নয়ন করবে। শুধু ভোটেই সীমাবদ্ধ না থেকে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীদের গুরুত্ব দেওয়া এবং উদ্যোক্তা বান্ধব সরকার প্রত্যাশা করেন নওগাঁর নারীরা।
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ। ১১টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ জেলার আয়তন ৩ হাজার ৪৩৫ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ৬টি সংসদীয় আসনে জেলার মোট ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২১ জন। জেলায় পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি।
পুরুষের পাশাপাশি রয়েছে নানা শ্রেণি-পেশার নারী ভোটার। ৬টি সংসদীয় আসনে এবার বিএনপি, জামায়াত, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন নারীরা। নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন নারী উদ্যোক্তারা। শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া মহল্লার নারী উদ্যোক্তা শামিমা খানম বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজন উদ্যোক্তা হয়েছি। আমার মাধ্যমে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ-সুবিধা দেবে এবং নারীদের মূল্যায়ন করবে এমন সরকার প্রত্যাশা করছি। আশা করছি, নতুন সরকার ব্যবসাসহ উদ্যোক্তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াবে।
শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা করেন নারীরা। আগামী নির্বাচনে ভোট প্রদানের জন্য মুখিয়ে আছেন তারা। শহরের মুক্তির মোড়ে ফুটপাথে মাশকালাই রুটি বিক্রেতা গৃহবধূ মোমেনা বেগম বলেন, শুধু ভোটের সময়ই নারীদের দরকার হয়। ভোট শেষ হলে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
অনেকে খোঁজই রাখে না। সুবিধাবঞ্চিত নারীদের মূল্যায়নসহ গুরুত্ব দেবে এমন সরকার প্রত্যাশা করছি। ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে নতুন ভোটারদের মাঝে রয়েছে বেশ উচ্ছ্বাস। মান্দার নতুন ভোটার আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, কেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই। কেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেন বিশৃঙ্খলা বা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়তে না হয়। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।
একুশে পরিষদ, নওগাঁর সহ-সভাপতি নাইচ পারভীন বলেন, নির্বাচনের আগে প্রতিটি দলের প্রার্থীদের কথার ফুলঝুড়ি থাকে। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে কোনো মিল থাকে না। তবে এবারের নির্বাচন আমরা কিছুটা ব্যতিক্রম আশা করছি। কারণ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণ ছিল অন্যরকম।
মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এবং দেশের প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে নারীদের ব্যাপক ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আন্দোলন-সংগ্রাম শেষে নারীদের আবারও ঘরে বন্দি করার পাঁয়তারা চলে। এবারের নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, সংরক্ষিত আসনে নয়, নারীরা যেন সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পারে এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
সময়ের আলো/এআর