জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের লড়াই

গোলাম রসূল কালীগঞ্জ (গাজীপুর)

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ-পূবাইল-বাড়িয়া) আসনে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ব্যক্তি জনপ্রিয়তা, দলীয় প্রভাব

2026-02-09T04:35:14+00:00
2026-02-09T04:35:14+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের লড়াই
গাজীপুর-৫ আসন
গোলাম রসূল কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৫ এএম 
সংগৃহীত ছবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ-পূবাইল-বাড়িয়া) আসনে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ব্যক্তি জনপ্রিয়তা, দলীয় প্রভাব এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের উপস্থিতিতে এ আসনে তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক ও আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। 

প্রার্থীরা বিজয়ী হতে ছবি ও প্রতীক সংবলিত লিফলেট হাতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রতিদিনই উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, পথসভা এবং মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। মাঠ পর্যায়ে প্রচারের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রাফিক্স কার্ড ও ভিডিওতে নিজেদের প্রতীক এবং প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গাজীপুর-৫ আসনে রাজনীতির মাঠ আরও সরগরম হয়ে উঠছে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৮টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪০, ৪১ এবং ৪২ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৫ আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সাংসদ একেএম ফজলুল হক মিলন (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগরের নায়েবে আমির খায়রুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা), জনতার দলের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান (কলম), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. আল আমিন দেওয়ান (চেয়ার), গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী মো. কাজল ভূঁইয়া (উদীয়মান সূর্য), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ডা. শফিউদ্দিন সরকার (লাঙ্গল)।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, গাজীপুর-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৬ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। 

এ ছাড়া মোট ৩ হাজার ৬৭৭টি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করা হয়েছে। এ আসনে মোট ১২৪টি কেন্দ্রে ৬৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ হবে। ৯০টি ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামারার আওতাধীন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমাদের সব প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই আসনে বিএনপির প্রার্থী গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সাংসদ একেএম ফজলুল হক মিলনের ধানের শীষের সঙ্গে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগরের নায়েবে আমির খায়রুল হাসানের দাঁড়িপাল্লার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। 

খায়রুল হাসান প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রত্যন্ত এলাকায় তার জনপ্রিয়তা বেশি। তবে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা এবং ব্যক্তি গ্রহণযোগ্যতায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে তিনি স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। 

এ ছাড়া জনতার দলের প্রার্থী হিসেবে কলম প্রতীকে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান। বিগত সময়ে তিনি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমজনতার ভালোবাসা নিয়ে এ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান চমক দেখাতে পারেন। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত চেয়ার প্রতীকে তরুণ প্রার্থী মো. আল আমিন দেওয়ান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তরুণ ভোটারদের একটি অংশ তার দিকে ঝুঁকছে।
 
অপরদিকে বয়স ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান। গণফোরাম মনোনীত উদীয়মান সূর্য প্রতীকের প্রার্থী মো. কাজল ভূঁইয়া ও জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ডা. শফিউদ্দিন সরকারও এলাকায় তাদের জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সারা দেশে যেখানে দলীয় পরিচয় মুখ্য হয়ে ওঠে, সেখানে গাজীপুর-৫ আসনে এখনও ব্যক্তি গুরুত্ব পায় বেশি। এখানকার ভোটাররা শুধু প্রতীক নয়, প্রার্থী অর্থাৎ ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা, কর্মদক্ষতা ও অতীত ভূমিকা বিবেচনা করেই ভোট দেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সমস্যার কার্যকর সমাধানের ক্ষেত্রে যে প্রার্থী বাস্তব ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারবেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত সংসদে যাওয়ার যোগ্য হবেন। ফলে গাজীপুর-৫ আসনে এবারের নির্বাচন কেবল দলীয় লড়াই নয়, বরং ব্যক্তি ও কর্মদক্ষতার পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তের প্রচার ও কৌশলই নির্ধারণ করবে এ আসনে কে হাসবেন বিজয়ের হাসি।

এ আসনের একাধিক ভোটার জানান, বিগত সময়ে দেখেছি নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচিত হয়ে গেলে তারা আর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন না। এলাকার উন্নয়ন না করে তারা ব্যক্তি উন্নয়নে মেতে উঠেন। এবার আর প্রতীক নয়, প্রার্থী দেখে ভোট দেব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা, সেচ ও কৃষি উন্নয়ন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ এবং মাদকমুক্ত সমাজ ব্যবস্থাই মানুষের প্রধান প্রত্যাশা। যে প্রার্থী তাদের এই প্রত্যাশা পূরণ করবেন তারা তাকেই ভোট দেবেন।

সময়ের আলো/এআর

  বিষয়:   লড়াই  গাজীপুর  আসন 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: