ঝালকাঠি-১ ও ২ আসনে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের হিসাব

আতিকুর রহমান ঝালকাঠি

ঝালকাঠির দুটি আসনে বিএনপির বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রুপিং এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের তৎপরতা। বিএনপির ঘাঁটি বা ভোট ব্যাংক খ্যাত এ আসন

2026-02-08T04:03:21+00:00
2026-02-08T04:03:21+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ঝালকাঠি-১ ও ২ আসনে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের হিসাব
আতিকুর রহমান ঝালকাঠি
প্রকাশ: রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৩ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ঝালকাঠির দুটি আসনে বিএনপির বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রুপিং এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের তৎপরতা। বিএনপির ঘাঁটি বা ভোট ব্যাংক খ্যাত এ আসন দুটিতে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মনোনীত এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থীরা তৎপর রয়েছেন ভোটের মাঠে ভোটারদের প্রিয় হতে। 

বিভিন্ন কৌশলে তারা ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। প্রার্থীদের অথবা নেতৃবৃন্দের নিকটাত্মীয় আওয়ামী লীগের কর্মী বা সমর্থক হলেও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ভোট টানার তৎপরতা চলছে। হিন্দু সম্প্রদায়কেও গুরুত্বপুর্ণ বিবেচনায় রেখেছেন প্রার্থী ও নেতৃবৃন্দ। 

ঝালকাঠি জেলার চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে দুটি সংসদীয় আসন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) ও ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি)। এ দুটি আসনে ভোটের মাঠে হিসাব-নিকাশে রয়েছে বিএনপি এবং জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা। অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও প্রচার-প্রচারণায় সরব রয়েছেন। 

ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন জয় করে ভোট টানার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থক এবং দলীয় নেতৃবৃন্দও তৃণমূলের মাঠ পর্যায়ে সরব ভূমিকা পালন করছেন। এ দুটি আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির দুটি আসনই এখন বেশ সরগরম। উঠান বৈঠক, মাইকিং আর গণসংযোগসহ প্রচার-প্রচারণায় মুখর শহর-গ্রাম সবখানে। প্রার্থীদের সবারই তৎপরতা চলছে পুরোদমে। তবে মাঠের বাস্তবতায় এখন পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বলে সাধারণ ভোটারদের ধারণা।

সুগন্ধা আর বিশখালি নদীপাড়ের চারটি উপজেলা নিয়ে দেশের দক্ষিণ জনপদের জেলা ঝালকাঠি। এ জেলায় দুটি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি-১ এবং জেলা সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি-২ আসন গঠিত। 

জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ১ হাজার ৯৭৩ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৯২ হাজার ২৭ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও রয়েছেন ৪ জন। এর মধ্যে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ২৫ হাজার ২২৫ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৪ হাজার ৫১১ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ১০ হাজার ৭১২ জন। ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। অপরদিকে ঝালকাঠি-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৮ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৩৭ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৯৯ জন। ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বীর উত্তম মেজর (অব.) মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর (ব্যারিস্টার) জয়ী হন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও তিনি নির্বাচিত হন। 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য হন এবং বর্তমানে একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন। এবার এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি ২০০৮ সালেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে তিনি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রথম দফার প্রার্থী পরিবর্তন করে দ্বিতীয় দফায় ড. ফয়জুল হককে মনোনয়ন দেয়। বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়া ফয়জুল হক পারিবারিকভাবে এলাকায় বিশেষভাবে পরিচিত। তাই ভোটের হিসাবে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনটিতে মোট প্রার্থী ১০ জন। তারা হলেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে রফিকুল ইসলাম জামাল, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ড. ফয়জুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদি, জেএসডির তারা প্রতীকে মো. সোহরাব হোসেন, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে মো. কামরুজ্জামান খান, জাতীয় পার্টি (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীকে অ্যাডভোকেট মো. রুবেল হাওলাদার, ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের মো. শাহাদাত হোসেন, কলম প্রতীকে জনতার দলের মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার এবং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরগ মার্কায় মেজর (অব.) মো. সাব্বির আহমেদ ও হাঁস প্রতীকের ব্যারিস্টার এম মঈন আলম ফিরোজী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। আগে সংসদ সদস্য থাকায় এলাকায় তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আসনটিতে তার প্রয়াত স্বামী জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি জুলফিকার আলী ভুট্টো ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়। এ কারণে ভুট্টোর জন্মস্থান অর্থাৎ স্বামীর উপজেলা নলছিটিতে ইলেন ভুট্টোর একটি ভোট ব্যাংক তৈরি হয়ে আছে।

অপরদিকে ঝালকাঠি-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে শেখ নেয়ামুল করীম প্রার্থী হয়েছেন। পরিচিতির দিক থেকে তিনিও কোনো অংশে কম নন। বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক এজিএস এবং কিশোর জীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতি করার কারণে তার বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা ও দক্ষতায় সবশ্রেণির মানুষের মাঝে তিনি আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। 

এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইসলামী বক্তা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সিরাজীরও ঝালকাঠি-নলছিটিতে ব্যক্তি ইমেজ রয়েছে। রয়েছে বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থকও। তবে তিনজনের বাড়িই নলছিটি উপজেলায় হওয়ার কারণে ভোটাররা তিনটি ভাগে রয়েছেন। 

তবে জনসাধারণের মতে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীরা। আসনটিতে মোট প্রার্থী হয়েছেন ৮ জন। তারা হলেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে  ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে শেখ নেয়ামুল করিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, জেএসডির তারা প্রতীকে মাসুদ পারভেজ, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে  মাহমুদুল ইসলাম সাগর, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আম প্রতীকে ফোরকান হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীকে মো. নুরউদ্দিন সরদার ও মোটরসাইকেল প্রতীকে সৈয়দ রাজ্জাক আলী।

সময়ের আলো/এআর



  বিষয়:   ভোট  হিসাব 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: