ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) আসন। মহানগরীর কোল ঘেঁষে ভৈরব, আত্রাই, চিত্রা ও আঠারোবেকী নদী বেষ্টিত এ আসনের সর্বত্র বইছে ভোটের হাওয়া। বিশেষ করে নতুন এবং মহিলা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবারের নির্বাচন। নিজের ভোট নিজে দেওয়ার নিশ্চয়তা এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মাঝে আগ্রহ বাড়িয়েছে। কেননা দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর সর্বস্তরের মানুষের ভোট প্রদানের এ উৎসব থেকে বঞ্চিত ছিল সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগ ভোট উৎসবকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছিল।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে ঘিরে সব প্রার্থীর প্রচারে মুখরিত হয়ে উঠেছে পাড়া-মহল্লা। হাটে-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে, বাজারে, চায়ের দোকানে নির্বাচনি আলোচনার ঝড় বইছে। প্রত্যেকেই নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত অবধি উঠান বৈঠক, গণসংযোগ এবং মতবিনিময়সহ নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ভোটাররাও তাদের নানা সমস্যা তুলে ধরছেন।

অধিকাংশ মানুষের মতে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৪টি সংসদ নির্বাচন ছিল সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য। ওই চরটি নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা ২ বার, মোল্লা জালাল উদ্দিন ১ বার এবং বিএনপির এম নুরুল ইসলাম ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে এ আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বিএনপির আজিজুল বারী হেলাল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন (দেয়ালঘড়ি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম আজমল হোসেন বাচ্চু (ফুটবল)।
এবারের নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও পিছিয়ে নেই। বসে নেই হাতপাখার প্রার্থী। বিগত পরিসংখ্যান অনুযায়ী খুলনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের জয়ের পাল্লা ভারী ছিল। তবে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলা থাকায় কেউ রয়েছে জেলহাজতে, কেউ রয়েছে পলাতক। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভোট নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ বদলে দিতে পারে। তাদের বিপুলসংখ্যক ভোট যেদিকে যাবে জয়ের পাল্লা তারই ভারী হবে। এমন ধারণা সচেতন মানুষের।
খুলনা জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু দাস বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই জনপদের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আজিজুল বারী হেলাল ভাইকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়যুক্ত করবে।
জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন বলেন, ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তনের আকাক্সক্ষায় বৈষম্যহীন দেশ গড়তে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন ভাইকে দেয়ালঘড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ। দিনমজুর শাহিন বলেন, ভোটে যে দলই জিতুক আমরা চাই দুবেলা দু-মুঠো পেটপুরে খেয়েদেয়ে নিরাপদে ঘুমাতে।
রূপসাঘাট পারাপারের যাত্রীরা বলেন, রূপসা ঘাটে হয়রানি এবং অব্যবস্থাপনা নির্মূলে প্রার্থীরা যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, নির্বাচিত হলে তা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।