কাপ্তাই লেক থেকে মালবাহী কার্গো ট্রলি দিয়ে বাঁশসহ বিভিন্ন কাঁচামাল থেকে শুরু করে নৌকাও পার করে ফেলা হয় কর্ণফুলী নদীতে। মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হয়। এমন দৃশ্য দেখা যায়- রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার নতুনবাজার এলাকায়।
কাপ্তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে মালবাহী এই কার্গো ট্রলি দিয়ে বিগত ৬৪ বছর ধরে কাজটি করা হচ্ছে। ১৯৬২ সালে যখন কাপ্তাই বাঁধ উদ্বোধন করা হয় তখন থেকে এই কার্গো ট্রলিতে লেক থেকে কর্ণফুলী নদীতে বাঁশ, কাঁচামাল এবং ছোট ছোট নৌকা পার করা হচ্ছে। শুরুর দিকে টনপ্রতি ৪ আনা ভাড়া হলেও বর্তমানে টনপ্রতি সেই ভাড়া ২৫ টাকা। সরেজমিন আলাপকালে এমনটাই জানালেন কাপ্তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কর্মরত ক্রেন অপারেটর জাকির হোসাইন।
ক্রেন অপারেটর জাকির হোসাইন বলেন, ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের আইয়ুব খান সরকার কাপ্তাই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কাপ্তাই বাঁধ তৈরি করে। তখন নতুনবাজার এলাকায় এই কার্গো ট্রলিও নির্মাণ করা হয়। এই কার্গো ট্রলি দিয়ে কাপ্তাই লেক থেকে কর্ণফুলী নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ, কাঁচামাল এবং ছোট ছোট নৌকা পার করা হচ্ছে।
শুরুর দিকে টনপ্রতি ৪ আনা ভাড়া হলেও বর্তমানে টনপ্রতি ভাড়া ২৫ টাকা। ক্রেন অপারেটর জাকির হোসাইন আরও বলেন, এখানকার বাঁশ একসময় পাকিস্তানের করাচি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হতো। বর্তমানে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, চট্টগ্রাম এমনকি রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও বাঁশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এখান থেকে।
কথা হয় শ্রমিক মো. ইউনুছের সঙ্গে, যিনি বিগত ৩০টি বছর ধরে এখানে কার্গো শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। আলাপকালে মো. ইউনুছ বলেন, রাঙামাটির মারিশ্যা, মাইয়ানি, হরিনা, বরকল, ফারুয়া, কাচালংসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে থেকে বাঁশের চালি এসে এখানে ভিড়ে।
আমরা শ্রমিকরা লেক থেকে কার্গোতে বাঁশ তুলে দিই। তারপর বাঁশগুলো কর্ণফুলী নদীতে ফেলা হয়। এখানে বর্তমানে ৪০ জনের মতো শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিদিন গড়ে ৮০০ টাকা হতে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয় আমাদের। আরেক শ্রমিক কেরামত আলী বলেন, রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে বাঁশ এখানে আনা হয়। তারপর এই কার্গো ট্রলি দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে পার করা হয়। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
সময়ের আলো/কেএইচও