উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে টানা চারদিন সূর্যের দেখা মিলেনি। গতকাল বুধবার সকালে হালকা ঝলমলে রোদ দেখা দিলেও আজ প্রখর রোদের দেখা মেলেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। গত কয়েকদিন দিনের বেলাতেও বৃষ্টির মতো পরেছে কুয়াশা, সঙ্গে বইছিল হিমেল বাতাস। জেঁকে বসেছিল কনকনে শীত।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ।
সদ্য বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই ৯ থেকে ১২ ডিগ্রির ঘরে তাপমাত্রা উঠানামা করেছে। শীতের তীব্রতা দিনদিন বাড়ছিল। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ছিল শীতের দাপট। এরপর সূর্য উঁকি দিলে খানিকটা স্বস্তি ফেরে।
বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সকালে হালকা কুয়াশা ভেদ করে জেগে উঠেছে পূবালি সূর্য। ছড়াচ্ছে সকালের মিষ্টি রোদ। এতে চা-শ্রমিক, পাথরশ্রমিক, ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। ভোর থেকেই অনেককে কাজে যেতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলে এখন সন্ধ্যা ও রাতেই বেশি ঠান্ডা লাগছে। ভোরে সূর্য উঠে যাওয়ায় রোদে কমতে থাকে শীতের মাত্রা। সকালের মিষ্টি রোদে আগের যে কনকনে শীতের অনুভূতিটা ছিল তা কমেছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকছে। এরপরে হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করে। সে হিমেল হাওয়ায় সন্ধ্যা থেকে ঠান্ডা লাগে।
এদিকে শীতের কারণে বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন শীতজনিত রোগব্যাধি। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে ঠান্ডাজনিত রোগী বাড়তে শুরু করেছে। চিকিৎসার পাশাপাশি শীতজনিত রোগ থেকে বাঁচতে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছেন চিকিৎসকরা।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণনাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, আজ সকাল ৯টায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ৯৪ শতাংশ। বিশেষ করে হিমালয় নিকটবর্তী এ উপজেলাটির অবস্থান হওয়ায় এখানে অন্যান্য এলাকা থেকে শীত আগে নামে। এ সময়টাতে তাপমাত্রা অনেক কম থাকে।
আরআর