গভীর শূন্যতা পূরণে খালেদা জিয়ার পথরেখা দিশা

রফিক রাফি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। একটি নেতৃত্বের অবসান শুধু একটি পদ শূন্য করে

2026-01-02T01:59:00+00:00
2026-01-02T01:59:00+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
গভীর শূন্যতা পূরণে খালেদা জিয়ার পথরেখা দিশা
রফিক রাফি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৫৯ এএম   (ভিজিট : ২৮৭)
বেগম খালেদা জিয়া। ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। একটি নেতৃত্বের অবসান শুধু একটি পদ শূন্য করে না, রেখে যায় দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাব ও অপূরণীয় শূন্যতা। দীর্ঘ চার দশকের আন্দোলন-সংগ্রামে গড়ে ওঠা তার আপসহীন নেতৃত্ব, ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক ভারসাম্য সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের মতে- এই শূন্যতা পূরণের চেয়ে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করাই এখন বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিএনপি বলছে, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর খালেদা জিয়া বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পতাকা বহন করেছেন। এখন সেই পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই তিনি সেই পতাকা বহন করবেন বলে দলের প্রত্যাশা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দিয়ে গেছেন, সেই পতাকা খালেদা জিয়া বহন করেছেন। একইভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সেই পতাকা তুলে ধরে তারেক রহমান জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা, জনগণকে সুরক্ষা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন এটাই মানুষের প্রত্যাশা।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পতাকা এখন তারেক রহমানের হাতে এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নিঃসন্দেহে খালেদা জিয়া একটি শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান রেখে গেছেন। তার পুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীরও দায়িত্ব রয়েছে এই উত্তরাধিকার বহন করার।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চলে যাওয়া নিঃসন্দেহে বড় ক্ষতি। তিনি দীর্ঘদিন দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা ছিল অসাধারণ। দেশবাসী সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানিয়ে তা প্রমাণ করেছে। তার অবর্তমানে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়। তবে সময়ের প্রয়োজনে বিএনপি সেই নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলেই আমি মনে করি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের অবসান। তার সাহসী নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে এ দেশের মানুষকে পথ দেখিয়েছে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা ছিল অসামান্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন এবং চড়াই-উতরাই পেরিয়েছেন কিন্তু নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে ছিলেন অবিচল।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ একজন দেশপ্রেমিক নেত্রীর রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তিনি পাকিস্তান আমল, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সব উত্থান-পতনের সাক্ষী ছিলেন। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অভাব ভবিষ্যতে অনুভূত হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মূল্যায়নের দুটি দিক রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ভূমিকা এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তার অবস্থান। এরশাদ ও শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল ইতিবাচক। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার মূল্যায়ন মিশ্র এ নিয়ে এখন বিস্তারিত বলার সময় নয়। বিএনপিতে তারেক রহমান তার শূন্যতা পূরণ করবেন বলে আমি আশা করি।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দল হিসেবে বিএনপি প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিকই, তবে খালেদা জিয়া তার দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে আস্থা ও ভালোবাসা মানুষের মধ্যে তৈরি করেছিলেন, সেটি বহন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। ওই ইমেজের কাছাকাছি যেতে সময় লাগবে। ততদিন বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে কষ্ট করতে হবে।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার শূন্যতা হঠাৎ করে পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। দলের বাইরেও যে গ্রহণযোগ্যতা তিনি তৈরি করেছিলেন, তেমন ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলা কঠিন। তিনি নানা মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন। বিএনপি যদি তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ভিন্নমতের সঙ্গে কাজ করার সংস্কৃতি  গ্রহণ করতে পারে, তা হলেই কিছুটা শূন্যতা মোকাবিলা করা সম্ভব।

আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, এই শূন্যতা কারও পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। আপসহীনতার পাশাপাশি ইনক্লুসিভ রাজনীতির যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা আমাদের জন্য পথনির্দেশক। এই পথ অনুসরণ করা গেলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, খালেদা জিয়ার মতো সর্বজনগ্রাহ্য নেতৃত্ব সহজে তৈরি হয় না। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আপসহীনতা, আবার একই সঙ্গে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এই বিষয়গুলোই আজকের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিভাবককে হারিয়েছে। তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে তার নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য পথনির্দেশনা হয়ে থাকবে।

সময়ের আলো/এসকে/ 




  বিষয়:   খালেদা জিয়া  গভীর শূন্যতা  পথরেখা  বিএনপি 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: