ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ইনশাআল্লাহ আমরা মেজরিটি পাব এবং বিএনপি পরবর্তী সরকার গঠন করবে। পাশাপাশি ‘এবারের নির্বাচনে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ও কাউন্টার ব্যালেন্স’ সঠিকভাবে থাকায় নির্বাচনে তথাকথিত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা নেই বলেও মনে করেন বিএনপি নেতারা।
বিএনপির অধিকাংশ শীর্ষ নেতা জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়ার পর তারেক রহমান থেকে শুরু করে সব প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ধানের শীষকে বিজয়ী করতে রাত-দিন প্রচার কার্যক্রম চালিয়েছেন। তারেক রহমান গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরানের (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে তিনি নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন। এর পর প্রতিদিন সারা দেশে দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ৪৩টি পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
গত সোমবার রাজধানীতে দুই দিনে ১৫টি জনসভা করার পর মা-বাবার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম শেষ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবারও তিনি গুলশান অফিসে বসে সারা দেশে নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। কোন এলাকায় কী অবস্থা সেই তথ্য নেন।
এ ছাড়া গত সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অতীতের ভুলত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ধানের শীষে ভোট চান। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন, তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক। চেয়ারম্যানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিএনপি নেতারাও বলছেন, এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের ভূমিধস বিজয় হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করবে বিএনপি।
নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। এবারের নির্বাচন বিএনপি অনেক সিরিয়াসলি নিয়েছে। দলীয় প্রধান সারা দেশের পথসভাগুলোতে বক্তব্য রাখায় দলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা আরও উজ্জীবিত হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ভোটাররাও ধানের শীষকে জয়ী করতে ভোট দেওয়ার জন্য মনস্থির করে ফেলেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারা দেশে বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদন, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ও জরিপের ফল এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা- সবকিছু মিলিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এবারের নির্বাচনে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ও কাউন্টার ব্যালেন্স সঠিকভাবে থাকায় নির্বাচনে তথাকথিত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা নেই। বিএনপি ল্যান্ডস্লাইড জয় পাবে বলে আমরা আশাবাদী। সার্বিকভাবে মনে হচ্ছে এবারের নির্বাচন ভালো হবে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারবে না।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঠাকুরগাঁও সফর এলাকার রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার সফর বিএনপির রাজনীতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে।
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রত্যাশা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রত্যাশা একটাই। দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে আমরা গণতন্ত্রের উত্তরণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে যাচ্ছি। এই নির্বাচনটি হবে গেটওয়ে। এই গেটওয়ে পার হলে আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে যেতে পারব। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে রাষ্ট্র ও সমাজে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই এই নির্বাচনকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
এই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কি চাপে? এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা সব নির্বাচনই গুরুত্বসহকারে নেই। প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে সিরিয়াসলি নিচ্ছি এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা আশাবাদী যে এবার বিএনপি ল্যান্ডস্লাইড জয় পাবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান সময়ের আলোকে বলেন, আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ গণতন্ত্রের উত্তরণে বিএনপির ওপর তাদের আস্থা রেখেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ইনশাআল্লাহ আমরা তার প্রতিফলন দেখব। আমরা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লবের পরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন দেখেছি। পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯০-এর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জনতার বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দেখেছি। এবার আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে পুনরায় গণতন্ত্রের উত্থান দেখব বলে আশা করি।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, উৎসবমুখর নির্বাচনি সময়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদন, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ও জরিপের ফল, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিপুল উপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সবকিছু মিলিয়ে এখন এটি স্পষ্ট যে জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সারা দেশে বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য, ইনশাআল্লাহ।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান সময়ের আলোকে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুদূর লন্ডন থেকে যুগপৎ আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত করেছেন। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ ফ্যাসিবাদের পতনের পর ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসেন ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে। এরপর নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর সারা দেশে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম চালান রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা- যেখানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস ছিল।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আগামীর কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান সময়ের আলোকে বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী। আশা করি বিএনপি জনগণের রায়ে সর্বোচ্চসংখ্যক আসন পাবে এবং সরকার গঠন করবে।
বিএনপির রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসা উচিত মন্তব্য করে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সময়ের আলোকে বলেন, দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে বলি কিংবা ভোটের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের দল হিসেবে বলি- বিএনপির সরকার গঠন করা উচিত। মানুষ ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি। আশা করি সবাই এবার উৎসব নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। এর মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার গঠন হবে। জনগণের রায় নিয়ে রাজনৈতিক সরকার গঠন করাই হবে গণতান্ত্রিক ও জুলাই চেতনার মূল লক্ষ্য।
সময়ের আলো/কেএইচও