পরিবহন ভাড়া গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ

সমীরণ রায়

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতসহ সব ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি

2026-02-11T00:58:52+00:00
2026-02-11T00:58:52+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
পরিবহন ভাড়া গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ
সমীরণ রায়
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৮ এএম 
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বাসের অপেক্ষায় যাত্রীরা। ছবি : সময়ের আলো
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতসহ সব ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে  নিজ নিজ এলাকায় ছুটছেন রাজধানীতে কর্মরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে দূরপাল্লার পরিবহনের বাড়ছে যাত্রীর চাপ। সংগত কারণে পরিবহনের টিকেট যেন সোনার হরিণ। এই সুযোগ নিচ্ছেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। আর ঘরমুখো যাত্রীরা গুনছেন বাড়তি দ্বিগুণ ভাড়া।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী, শ্যামলী, কল্যাণপুর, কমলাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। এসব টার্মিনালগুলোতে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বাস, লঞ্চ সঙ্গে রেলস্টেশনেও একই চিত্র। এ ছাড়া রাজধানীর মূল সড়কেও তেমন কোনো পরিবহন নেই। রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলো ফাঁকা হতে শুরু করেছে। 

ফাঁকা রাস্তা দেখে মনে হচ্ছে যেন ঈদের ছুটির আমেজ নেমে এসেছে নগরীতে। এতে করে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কগুলোর কোথাও যানজট দেখা দিয়েছে। আর যানজটের সুযোগে মাত্রতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে বিভিন্ন পরিবহন। ৫০০ টাকার ভাড়া ১২০০ থেকে ১৫০০ চাওয়া হচ্ছে। এতে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা ও মাওনা, ঢাকা-সাভার এলাকায় কিছু সময় সড়ক অবরোধ করে রাখেন।

এদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্প এলাকাসহ ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি তিন দিন সরকারি-বেসরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ ছাড়া ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন ভোটাররা। এতে করে শত কষ্ট হলেও নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চাইছেন না। ফলে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। এতে পরিবহন ব্যবসায়ীরা নিতে চাইছেন সুযোগ। ফলে ভাড়ার দ্বিগুণ গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। 

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে ঘরমুখো যাত্রীর আনাগোনা, পুরো এলাকা লোকারণ্য। যাত্রীরা নিজের মতো গাড়ির জন্য দিগ্বিদিক ছুটছেন। টিকেটের জন্য এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে দৌড়াদৌড়ি করছেন যাত্রীরা। কেউ নির্ধারিত গাড়িতে উঠতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ কাউন্টারে বসেই গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন। আর কেউ কেউ গাড়ির সিট না পেয়ে ট্রাক ও মিনি পিকাপেও যাচ্ছেন।

মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে গাজীপুরগামী সড়কের শত শত মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সপরিবারে দাঁড়িয়ে আছেন গাড়ির অপেক্ষায়। একই চিত্র দেখা গেছে গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও। কোথাও বাসের সংকট, কোথাও আবার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

অবশ্য স্বাভাবিক সময়ে চেয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে ফিরতে হচ্ছে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। রাজধানী থেকে ময়মনসিংহের বাস ভাড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, সেখানে এখন ৭০০ টাকা দিয়েও গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।

এদিকে ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকামুখী যাত্রীরা ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি দিতে হলেও উৎসবকে সামনে রেখে তাদের মধ্যে আগ্রহে ভাটা পড়েনি। বরং রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও প্রধান সড়ক এবং লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। এমনকি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে নিমতলা, হাসাড়া, ষোলঘর ও শ্রীনগর সাওনি এলাকায় বাস থামিয়ে যাত্রী না নেওয়া এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। ভোট দিতে যাওয়া ঘরমুখো যাত্রীরা বলছেন, বহুদিন পর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলবে। ফলে ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় যাচ্ছি।

ময়মনসিংহগামী যাত্রী বাদশা বলেন, বাড়ি যাওয়ার জন্য দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু কোনো গাড়িতে উঠতে পারছি না। আর গাড়ির ভেতর থেকেই সুপারভাইজার ও হেলপার হাত দেখিয়ে বলছেন ৭০০ টাকা দিতে হবে। অথচ আমার রুটে বাস ভাড়া লাগে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।

স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক রুটে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তবু ভোটের আগে বাড়ি পৌঁছানো এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে তারা ছুটছেন নিজ নিজ এলাকায়।

সৌখিন পরিবহনের সুপারভাইজার সবুজ বলেন, ভোটের কারণে গত সোমবার রাত থেকেই যাত্রীর চাপ বেড়েছে। তবে গাড়ির সংখ্যা তুলনামূলক কম রয়েছে। ফলে ভাড়া একটু বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। আর এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি একটু বাড়ছে।

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন রাশেদ। তিনি যাবেন বগুড়ায়। কয়েক দিনের টানা ছুটিতে ভোট দিতে বাড়িতে ফিরছেন তিনি। রাশেদ বলেন, নির্বাচনের কারণে কয়েক দিনের ছুটি পেয়ে ভোট দিতে বাড়িতে যাচ্ছি। খুব কষ্টে একটা সিট ম্যানেজ করতে পেরেছি। এখন ঠিকঠাকভাবে বাড়ি পৌঁছাতে পারলেই হয়।
রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন সোহাগ। তিনি লম্বা ছুটিতে নিজ বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে যাবেন। সোহাগ বলেন, কোনো গাড়িতে সিট পাচ্ছি না। দুই-তিনটি গাড়িতে পেছনের লাইনের সিট খালি থাকলেও সেগুলোর ভাড়া অনেক বেশি চাইছে। সাধারণ সময় ভাড়া ৬০০-৬৫০ টাকা হলেও এখন ১০০০-১২০০ টাকা চাইছে। তবু ভালো সিট পেলে তা নেওয়া যায়।

কুষ্টিয়ার যাত্রী আবির। তিনি বলেন, সিট পেয়েছি তবে ভাড়া অনেক বেশি নিয়েছে। সবসময় ৬০০ টাকা। কিন্তু আজ ১ হাজার টাকা নিয়েছে। বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে, সিট খালি নেই।
রাজশাহীর নওগাঁ যাবেন পোশাক শ্রমিক আবুল কালাম সোহাগ। তিনি বলেন, ভোট দিতে নওগাঁ যাব। আগে ৫০০ টাকা ভাড়া ছিল, এখন ১ হাজার টাকার বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। প্রশাসন যেন এর সমাধান করে দেয়।

জামালপুর যাচ্ছেন মো. মুখলেস। তিনি বলেন, আমি গ্রামের বাড়ি জামালপুরে যাব। ৩০০ টাকার ভাড়া এখন ১ হাজার টাকা চাচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান চাই। অবশ্য যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে একাধিক কাউন্টারে যোগাযোগ করা হলে তারা অস্বীকার করেন। তবে যাত্রীর চাপের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আসিফ বলেন, আজকের কোনো গাড়িতেই সিট খালি নেই। সিডিউল অনুযায়ী গাড়ি চলাচল করছে। সাধারণ দিনে যে পরিমাণ গাড়ি যায়, সেই পরিমাণ ছেড়ে গেছে। তবে সাধারণ দিনগুলোতে গাড়িতে কিছু সিট ফাঁকা থাকে, কিন্তু ভোটের কারণে সিট খালি নেই।

গোল্ডেন লাইনের কাউন্টার মাস্টার শওকত বলেন, সাধারণ দিনের তুলনায় সোমবার সকাল থেকে তিনটি ডাবল গাড়ি ছেড়ে গেছে। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কোনো গাড়িতে সিট খালি নেই এবং নতুন গাড়িও নেই। যদি কোনো গাড়ি ট্রিপ রেখে ফিরে আসে, তবেই নতুন গাড়ি ছেড়ে যাবে।

লিটন ট্রাভেলসের কাউন্টার মাস্টার লিমন বলেন, আমাদের গাড়ির সব টিকেট অনলাইনে আগে থেকেই বিক্রি হয়ে গেছে। ১০-১২ দিন আগেই সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। কোনো গাড়িতে সিট খালি নেই এবং যাত্রীর চাপ বেশি।

অন্যদিকে ‎রাজধানীর সায়েদবাদ বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। ‎অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে অন্তরা পরিবহন নামক একটি বাস কাউন্টারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

‎অভিযানটি পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক (মেট্রো-১) মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল। অভিযান চলাকালে কাউন্টারগুলোকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয় যেন কোনোভাবেই যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয়।

যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সচেতন থাকুন এবং বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত দেবেন না। যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ভাড়া নিয়ে হয়রানির শিকার হলে আপনি সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। এ ছাড়া রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গাবতলী বাস টার্মিনালে অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিদফতর। অভিযানের সময় সেলফি পরিবহনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি টের পেয়ে কাউন্টার বন্ধ করে সেখান থেকে সরে যায় পরিবহন কর্তৃপক্ষ। পরে অভিযান পরিচালনাকারী টিমের হস্তক্ষেপে যাত্রীদের সরকারি নির্ধারিত ভাড়ায় বাসে ওঠার ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে ঢাকার সাভারে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়ের অভিযোগে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিক ও ঘরমুখী মানুষ। সকাল ৮টার দিকে নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় এ অবরোধ করেন তারা। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়া থানার পুলিশের আশ্বাসে সড়ক থেকে সরে যান অবরোধকারীরা।

বাসের জন্য অপেক্ষারত পোশাক শ্রমিকরা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছুটি শুরু হওয়ায় গতকাল সকাল থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য তারা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হচ্ছেন। যাত্রী পরিবহনের মতো বাসের সংখ্যা কম। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রীদের বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ওই সুযোগে বাসের বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন বাসের মালিকপক্ষ। সকাল ৮টার দিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে এক পর্যায়ে ঘরমুখী যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আশুলিয়ার বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নবীনগর থেকে চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   সায়েদাবাদ  বাস টার্মিনাল  যাত্রী  পরিবহন ভাড়া 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: