আজ বাদে কাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে ভোটার টানতে টানা ১৯ দিন নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো। দেশজুড়ে বিরাজ করছে ভোট উৎসব। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে দেখা যাচ্ছে বেশি আগ্রহ।
এবারের নির্বাচনি প্রচারে সহিংসতার সংখ্যা ও তীব্রতা দুই-ই কম থাকলেও ভোটের দিন সহিংসতার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় তা হলে সরকার গঠন করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। যদিও দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ভোটকেন্দ্রে ভোট দখল হয়ে যাবে এমন আগাম আওয়াজ তুলে উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা।
তারা মনে করেন, এবারের নির্বাচনে জনগণ দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাবে। চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে। মামলাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে। দখলদারদের লাল কার্ড দেখাবে। তাই কোনো ধরনের মিথ্যাচার, গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ এবং কোনো দলের প্রতি কিংবা প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলম সময়ের আলোকে বলেন, এবারের নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী আমরা। আশা করছি ১২ তারিখে নির্বাচনে জনগণ উৎসাহ-উদ্দীপনায় দাঁড়িপাল্লা ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। কারণ আমরা সারা দেশেই আমাদের প্রার্থীদের প্রচারের গণজোয়ার দেখেছি। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। মানুষ দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। জনগণ চায় নিরাপত্তা, সুশাসন ও ইনসাফ। তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠনে শতভাগ আশাবাদী। আর যদি এ নির্বাচনে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র হয় তা হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তবে এবার কোনো ষড়যন্ত্রই কাজ হবে না বলেও জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের উত্তরের আমির ও সিলেট-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ নির্বাচন চাই। এটার জন্যই জাতি মুখিয়ে আছে। আমাদের জোট জয়ের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে শাসক নয়, জনগণের খাদেম ও সেবক হিসেবে কাজ করব।
অন্যদিকে বরিশাল-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঁচটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। আমরা এলাকার সন্ত্রাসীদের তালিকা দিয়েছি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সঙ্গে একমত হলেও ওপর মহলের গড়িমসির কারণে কোনো অভিযান হচ্ছে না। সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও ভোটারদের প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে কেউ গণ্ডগোল করলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সেটা যদি আমার লোকও হয়, তাকে যেন ছাড় না দেওয়া হয়।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আমরা দেখেছি একটি নির্দিষ্ট দল ঋণখেলাপি, বিদেশি নাগরিক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের মনোনয়ন দিয়েছে। কারণ তারা জানে, দেশের মানুষ ইতিমধ্যে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তারা মাফিয়া ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে। দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
গত ১৭ বছর এবং পরবর্তী ১৭ মাসের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী দলগুলোর ঐক্যকে বিজয়ী করতে প্রস্তুত। এখন প্রতিটি আসনে ও কেন্দ্রে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব হলো জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভোটদান নিশ্চিত করা। আমরা যদি শুধু এটি নিশ্চিত করতে পারি যে জনগণ নির্ভয়ে ভোট দিয়ে ফিরতে পারবে, তা হলেই ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার মধ্যেই আমাদের বিজয়ের ঘোষণা চলে আসবে ইনশাআল্লাহ।
সময়ের আলো/কেএইচও