নতুন বইয়ের রং ছড়াল মুখে

এম মামুন হোসেন

শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। ঘটা করে না হলেও সারা দেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে নতুন বই। কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পুরো

2026-01-02T02:07:31+00:00
2026-01-02T02:07:31+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
নতুন বইয়ের রং ছড়াল মুখে
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০৭ এএম   (ভিজিট : ১৬৭)
বছরের প্রথম দিন নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বাসিত এক শিক্ষার্থীর। বৃহস্পতিবার নারিন্দা কে. এ. হামিদ গভর্নমেন্ট প্রাইমারি স্কুল থেকে তোলা। ছবি : আবদুল হালিম
শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। ঘটা করে না হলেও সারা দেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে নতুন বই। কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পুরো সেট নতুন বইয়ের গন্ধ না পেলেও কেউ কেউ পেয়েছেন দুই থেকে তিনটি করে। এতে তাদের মাঝে ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। নতুন এই শিক্ষাবর্ষে নতুন শিক্ষাক্রম বাদ দিয়ে পুরোনো শিক্ষাক্রমে ফিরেছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা। অনলাইনে এনসিটিবির ওয়েবসাইটে বইয়ের পিডিএফ কপি দেওয়া হয়েছে। অন্য বছরগুলোর তুলনায় এ বছর বইয়ের কাগজ ও ছাপার মান ভালো। কালিতে লেপ্টে যাওয়াও কমেছে। 

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পরিকল্পনা ছিল প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে অন্তত এক থেকে দুটি করে হলেও বই তুলে দেওয়া। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির একটি বইও যায়নি অনেক স্কুলে, এমন স্কুল রাজধানীতেও আছে। তবে এবার কোনো সংকট নেই প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই নিয়ে। আরও দুই সপ্তাহ আগেই প্রাথমিকের শতভাগ পাঠ্যবই মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যতিক্রম ছাড়া প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনে সব পাঠ্যবই হাতে পেয়েছে। মাদরাসার ইবতেদায়ি বই নিয়ে সমস্যা নেই। তবে দাখিল স্তরের মধ্যে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই আসেনি। আর অষ্টম শ্রেণিতে পাঁচটি ও নবম শ্রেণির সব বই এসেছে। এনসিটিবি থেকে বলা হয়েছে, মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব পাঠ্যবই পেয়ে যাবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাস্তবে আরও দেরি হওয়ার আশঙ্কা আছে। ফলে নতুন বই হাতে না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পড়াশোনার ক্ষতি হবে।

যদিও এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, সব পাঠ্যবইয়ের অনলাইন ভার্সন এনসিটিবির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে কেউ চাইলে সেখান থেকেও তা ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, এবার মাধ্যমিক স্তরে (ইবতেদায়িসহ) মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪। এর মধ্যে গত ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত মাধ্যমিকের ৭২ দশমিক ৮৫ শতাংশ পাঠ্যবই মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। ইবতেদায়ি স্তর ছাড়া কেবল ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বই সরবরাহ করা হয়েছে ৬৯ শতাংশ। ষষ্ঠ শ্রেণিতে গেছে ৮০ শতাংশেরও বেশি, সপ্তম শ্রেণিতে ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, অষ্টম শ্রেণিতে প্রায় ৪৫ শতাংশ ও নবম শ্রেণিতে সরবরাহ করা হয়েছে প্রায় ৮৪ শতাংশ।

প্রাথমিকে শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে : নতুন শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রাথমিক স্তরে মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ৫৯ লাখেরও বেশি। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার নতুন বছরের প্রথম দিনে ঢাকার আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনও করেন।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, নতুন বছরের শুরুতেই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন, এই বইগুলোর মান আগের তুলনায় নিশ্চিতভাবেই ভালো। এটি বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। পরে উপদেষ্টা ঢাকার ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি বলেন, এখানে কয়েক দিন আগে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে, যা জাতির জন্য কলঙ্কজনক। আমরা দেখেছি সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত হয়েছে, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে, একজন সংখ্যালঘু নাগরিক আক্রান্ত হয়েছেন। এসব ঘটনা গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে আশার কথা হলো, এ দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এসব ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন।

বই পেল মসজিদভিত্তিক ২৪ লাখ শিশু শিক্ষার্থী : নতুন বছরের বই পেয়েছে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের ২৪ লাখ ৩০ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে বই বিতরণ কার্যক্রম ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন। ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ৭৩ হাজার ৭৬৮টি কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭০৪টি বই বিতরণ করা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও মনির হায়দার এবং ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন। 

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন,  নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটি পাসের করার জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এ প্রকল্পটি পাস করাতে হয়েছে। প্রকল্পটিকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আলেমদের কল্যাণে গৃহীত নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আলেমদের পিএইচডি স্কলারশিপ দেওয়া হবে। ইসলামি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি আছে এমন ইমাম ও আলেম-ওলামারা এ স্কলারশিপ পাবেন। বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে এ স্কলারশিপ দেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সারা দেশে ইসলামের খেদমতে যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন তাদের চলতি মাসেই কেন্দ্রীয়ভাবে সম্মাননা প্রদান করা হবে বলে জানান উপদেষ্টা।

ড. খালিদ বলেন, কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস সনদকে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য চারটি মন্ত্রণালয়ে আধা-সরকারি পত্র দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে দাওরায়ে হাদিস সনদধারীদের নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স দিতে বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া এই সনদধারীদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন দফতর-সংস্থার খতিব, ইমাম ও ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে পদায়নের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গেও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। জনবল নিয়োগে কোনোরূপ স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, যতক্ষণ আমরা দায়িত্বে আছি ততক্ষণ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এবং আল্লাহর ভয় অন্তরে রেখে কাজ করে যাব। অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে এবং বিধিবিধান অনুসারে নিয়োগ, পদোন্নতিসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের চলতি মেয়াদে পর্যায়ক্রমে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৮১ হাজার ২০০ জনকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশ এবং পবিত্র কুরআনসহ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হবে।

সময়ের আলো/এসকে/ 




  বিষয়:   নতুন বই  রং  শিক্ষাবর্ষ 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: