বিদায়ি বছরে ভারত সীমান্তে ৩৯ বাংলাদেশিকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদায়ি বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। দুজনকে

2026-01-02T02:38:09+00:00
2026-01-02T02:38:09+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
বিদায়ি বছরে ভারত সীমান্তে ৩৯ বাংলাদেশিকে হত্যা
এইচআরএসএস প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৮ এএম 
বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে বিএসএফের সদস্য। ছুব : সংগৃহীত
বিদায়ি বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। দুজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তা ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় নাগরিকদের গুলিতে ও হামলায় আরও অন্তত সাতজন বাংলাদেশি খুন হয়েছেন। সব মিলিয়ে গত বছর ভারত সীমান্তে ৩৯ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং নিজেদের তথ্যানুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিসহ উল্লিখিত নানা ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে কমপক্ষে ৩ হাজার ৪৯৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইন ও ভারতীয় জলসীমার কাছে বঙ্গোপসাগর থেকে ১৪৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় কোস্ট গার্ড।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির গুলিতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন আহত হয়েছেন। আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক আনসার সদস্যসহ ১২ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন এবং একজন নিহত হয়েছেন। সীমান্তের নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের জলসীমা থেকে ২১টি ট্রলারসহ কমপক্ষে ১৭৬ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালে দেশে নানাবিধ সহিংসতার দিক বিবেচনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। বিশেষত রাজনৈতিক ও নির্বাচনি সহিংসতা, মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, সীমান্তে হত্যা ও নির্যাতন এবং শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

৯১৪ রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৩৩ : প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে সারা দেশে রাজনৈতিক ও দলীয় আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ পরায়ণতা, সমাবেশকেন্দ্রিক সহিংসতা, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন স্থাপনা দখলকেন্দ্রিক ৯১৪টি সহিংসতায় ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বিএনপির ৯৩ জন, আওয়ামী লীগের ২৩ জন, জামায়াতের ৩ জন, ইনকিলাব মঞ্চের একজন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের একজন, ইউপিডিএফের ৬ জন এবং চরমপন্থি দলের একজন রয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৫১১ জন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি সহিংসতার ৫৪টি ঘটনায় তিনজন নিহত এবং ৪৯৪ জন আহত হয়েছেন।

বিদায়ি বছরে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের নামে কমপক্ষে ২৪৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১১ হাজার ৯৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৪২ হাজার ৫২৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলায় ও যৌথবাহিনীর অভিযানে ৫০ হাজারের অধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। পুলিশ গত এক বছরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহ‌রীরের অন্তত ৪৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

মব-গণপিটুনিতে নিহত ১৬৮ : মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে সারা দেশ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৯২টি ঘটনায় মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে ১৬৮ জন নিহত ও ২৪৮ জন আহত হয়েছেন।

খুন তিন সাংবাদিক : বিদায়ি বছরে ৩১৮টি হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ৫৩৯ জন সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনকে হত্যা, ২৭৩ জনকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও আহত, ৫৭ জনকে লাঞ্ছিত, ৮৩ জনকে হুমকি এবং ১৭ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩৪টি মামলায় ১০৭ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর অধীনে ২৭টি মামলায় ২৪ জনকে গ্রেফতার এবং ৫৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারা দেশে ৪৭টি সভা-সমাবেশ আয়োজনে বাধা প্রদান, ১৪৪ ধারা জারি, সংঘর্ষ, সভা-সমাবেশ থেকে আটকসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫১২ জন আহত এবং ৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিচারবহির্ভূত হত্যা, থানা ও কারাগারে মৃত্যুর বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশি হেফাজত, নির্যাতন, গুলি, বন্দুকযুদ্ধ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংষর্ষ ইত্যাদি ঘটনায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন সংঘর্ষে বা কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে, ১২ জন নির্যাতনে, ১২ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এবং ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশের ভয়ে পালাতে গিয়ে ও অসুস্থ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কারাগারে বা কারা হেফাজতে অসুস্থ, আত্মহত্যা ও নির্যাতনে ৯২ জন আসামি (৩০ জন কয়েদি ও ৬২ জন হাজতি) মারা গেছেন।

ধর্ষণের শিকার ৮২৮, ধর্ষণের পর খুন ২৮ জন : ২০২৫ সালে কমপক্ষে ২ হাজার ৪৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮২৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এর মধ্যে ৪৭৪ জন ১৮ বছরের কম বয়সি/শিশু। এ ছাড়া ১৭৯ জন নারী ও কন্যাশিশু সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৮ জনকে। এসব ঘটনায় আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন নারী।

৪১৪ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তন্মধ্যে শিশু ২৩৬ জন। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত ৩৫ জন (আত্মহত্যা ৪) ও আহত ৩২ জন। তা ছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় ৩৮৩ জন (আত্মহত্যা ১৯৪ জন) নিহত ও আহত ১৩৩ জন। অ্যাসিড সহিংসতায় শিকার হয়ে নিহত দুজন এবং আহত দুজন।

সময়ের আলো/এসকে/ 



  বিষয়:   বিদায়ি বছর  এইচআরএসএস  প্রতিবেদন  বাংলাদেশিকে হত্যা  ভারত সীমান্ত 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: