যারা বিটিআরসিতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, তারা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ মোবাইল আমদানি রোধে দেশের সব স্থল ও বিমানবন্দরের কাস্টমস হাউসে কঠোর অভিযান শুরু হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তার স্বার্থে এনইআইআর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিম, ডাটাবেজ ও এনইআইআর ডাটাবেজের অপব্যবহার রোধে নতুন টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে কঠোর সুরক্ষা ধারা সংযোজন করা হয়েছে এবং যেকোনো অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বার্তা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। অবৈধভাবে আমদানি ও বিক্রয় করা মোবাইল ফোনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে ও কাস্টমস হাউসে অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ সেট জব্দ করা হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেকোনো পণ্য আমদানিতে আমদানিকারকদের বিভিন্ন ধরনের শুল্ক দিতে হয়, এর মধ্যে কাস্টমস ডিউটি অন্যতম। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মোবাইল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। গাড়ি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও কম্পিউটারসহ অন্যান্য পণ্যের তুলনায় মোবাইল আমদানিতে শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের হাতে থাকা ইতিমধ্যে আমদানি করা মোবাইল ফোনগুলোকে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই স্টক লট হিসেবে সিস্টেমে অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সরকারের পক্ষ থেকে আমদানি শুল্ক হ্রাস এবং বর্তমানে বাজারে থাকা মোবাইল ফোন বৈধ করার সব যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বৈধ মোবাইল আমদানিকারকদের কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ এবং দেশীয় উৎপাদকদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা যথাক্রমে ৬০ শতাংশ ও ৫০ শতাংশ হ্রাস। এর মাধ্যমে বৈধ আমদানি ও দেশীয় উৎপাদন উভয়ই উৎসাহিত হবে এবং বাজারে মোবাইল ফোনের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে সরকার আশা করে।
উল্লেখ্য, আমদানির বিপরীতে উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে আমদানি শুল্ক কমানোর বিপক্ষে মত থাকলেও বাস্তবতা বিবেচনায় সিডি ৬০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে চলমান অর্থবছরে সরকারের প্রায় ৩৫ কোটি টাকা লোকসান হবে।
জুলাইযোদ্ধা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে, অভিযুক্ত খুনির ১৭টি সক্রিয় সিম পাওয়া গেছে। এ প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে ন্যাশনাল ইকুপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) বাস্তবায়ন ও জনপ্রতি সিম সংখ্যা কমানোর বিষয়ে জোরালো তাগিদ রয়েছে। বৃহস্পতিবার ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রবাসীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, প্রবাসীরা দেশে ফেরার পর তাদের ব্যবহার করা ফোন আগামী তিন মাস বন্ধ করা হবে না। কেউ তিন মাসের কম সময় দেশে অবস্থান করলে রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হবে না, তিন মাসের বেশি হলে পরে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও আগামী তিন মাস ফোন ব্লক করা হবে না এবং ব্যবসায়ীদের স্টক লট নিয়মিত করা হবে। এ জন্য বিটিআরসিকে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বৈধ নম্বরের তালিকা দিতে হবে শুধু। এ বাস্তবতায় স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন- সরকার সব বৈধ ও যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছে। শুল্ক কমানো হয়েছে, অবৈধভাবে আমদানি হওয়া ফোনও এ মুহূর্তে নিয়মের আওতায় আনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/এসকে/