ঘনিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে সরগরম হয়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) সংসদীয় আসন। বিএনপি ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যকার ভোট বিভাজনের সুযোগে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর ‘বাজিমাত’-এর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এমন ধারণা করছেন সাধারণ ভোটাররা।
স্থানীয়দের মতে, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য। ফলে ঐতিহ্যগত বিএনপির ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সংগঠিত ভোটব্যাংকের কারণে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এগিয়ে যেতে পারেন বলে মনে করছেন ভোটারদের একটি বড় অংশ।
মুন্সীগঞ্জ জেলার তিনটি আসনের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-১ একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। জাতীয় সংসদের ১৭১ নম্বর এই আসনটি শ্রীনগর উপজেলার ১৪টি ও সিরাজদিখান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। নির্বাচন কমিশনের সবশেষ তথ্যমতে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৩০৩ জন। এর মধ্যে শ্রীনগর উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮৫ জন এবং সিরাজদিখানে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩১৮ জন।
অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এমন প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ। পথে-ঘাটে, হাটে-বাজারে, চায়ের দোকান ও বন্ধুদের আড্ডায় সর্বত্র বইছে নির্বাচনি আমেজ। নতুন ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা এ কে এম ফখরুদ্দীন রাজী (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেএম আতিকুর রহমান (হাতপাখা), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. আব্দুর রহমান (কাস্তে), বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মমিন আলী (ফুটবল) এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রোকেয়া আক্তার (আপেল)।
একজন সাধারণ ভোটার বলেন, আমি ভোট দেব দেখে-শুনে। অত্যাচারী বা ক্ষমতালোভী নয়, জনদরদী ও শান্তিপ্রিয় প্রার্থীই আমার পছন্দ। অটো রিকশাচালক আসলাম শেখ জানান, পরিবার নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষক মুনিরুল ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালন যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে করা যায়।
চায়ের দোকানে আড্ডারত এক শিক্ষিত যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অতীতের নির্বাচনগুলোতে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি তারা। এবার প্রশাসনের দায়িত্ব সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের মানুষ শান্তিপ্রিয়। উন্নয়ন ও জনসেবায় যিনি কাজ করবেন, তাকেই ভোট দেওয়া উচিত।
সব দলের অংশগ্রহণে এবারের নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে ভোটারদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটের বাক্সে শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে রায় দেন শ্রীনগর ও সিরাজদিখানের ভোটাররা।
এফআর