উত্তর চট্টগ্রামে ভোটের মাঠ কাঁপাচ্ছে দেড় ডজনের বেশি প্রার্থী। তারা চষে বেড়াচ্ছেন পথঘাট ও অলিগলি। তবুও ঘুরেফিরে আলোচনায় বিএনপি আর ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। দুই দলের নেতাকর্মীরা মাথা ঘামাচ্ছেন ভোটযুদ্ধের ফ্যাক্টর বিশ্লেষণে। তাতে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের হিসাব। ১৫ বছর ভোট দিতে ব্যর্থ ভোটাররাও হিসাব কষছেন প্রার্থী নির্বাচনে। বিএনপি-জামায়াত দুই দলের প্রার্থীরাই প্রতিটি আসনেই জয়ের হিসাব কষছেন। জয়ের সম্ভাবনায় বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও আশা জাগিয়েছে জামায়াত প্রার্থীরাও।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাত সংসদীয় আসন কোনোটি কোনো প্রার্থীর জন্য নির্ভার নয়। শুরুর দিকে সব আসন বিএনপি প্রার্থীদের জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছে কিন্তু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় সেই স্বপ্নে বেড়েছে শঙ্কা। প্রতিটি আসনে বিএনপির দলীয় কোন্দল আছে। পাশাপাশি আছে ভোট বাক্সের হিসাব। তাই নির্বাচনে জয়ের হিসাবে গরমিলের আশঙ্কা বাড়ছে। তবে উত্তরের আসনগুলোতে বড় ধরনের কোনো নির্বাচনি সহিংসতা হয়নি। তবে সহিংসতার শঙ্কা আছে দুটি আসন- রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাউজানের পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়। অন্তর্দলীয় কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে বিএনপির রাজনীতি। এরই মধ্যে শুধু রাউজানেই একাধিক খুনোখুনির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত ১৮-১৯ জন নিহত হয়েছেন। তাই নির্বাচনের আগ মুহূর্তে কিংবা নির্বাচনের দিন সহিংসতার আশঙ্কাও বেড়েছে।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে চলছে জমজমাট প্রচার। পোস্টার ছাড়া প্রার্থীদের প্রচার ভিন্ন আবহের সৃষ্টি করেছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের কাছে। নেতাকর্মীরা ব্যস্ত থাকলেও ভোটারদের মধ্যে এখনও পুরোপুরি ভোটের আমেজ দৃশ্যমান নয়। মাঠের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে সরব প্রচার।
এই আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে আলোচনায় আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নূরুল আমিন ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান। আরও আছেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী। দলের নেতারা জানান, এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর সহজ জয়ে প্রধান বাধা ছিল গ্রুপিং। তবে সেই গ্রুপিং আর নেই। কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে। বলা হচ্ছেÑ দলের ৪০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম সবাই একক প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন। অন্যদিকে জামায়াতও সুসংগঠিতভাবে প্রচার চালাচ্ছে। তাদের নারী কর্মী বাহিনীও মাঠে সক্রিয়, যা নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নারী ও তরুণ ভোটাররাই হতে পারেন জয়-পরাজয়ের বড় নিয়ামক।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন। তিনি বলেন, এবার জয় ছিনিয়ে আনব। দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার ভোট দিতে সবাই মুখিয়ে আছে। মিরসরাইয়ের ইতিহাসে এবার সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের বিজয় হবে।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান বলেন, নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে আছি। আশা করি ভোটাররা সমর্থন দেবেন বিজয়ের মাধ্যমে। মানুষ পরিবর্তন চায়। পুরো উপজেলায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) : চট্টগ্রামের আলোচিত দুই থানা ফটিকছড়ি ও ভূজপুর নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনটি বিএনপির ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত। সেই ভোট ব্যাংকে ভাগ বসাতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দুই দলের বাইরে অন্যদের দৃশ্যমান কার্যক্রম চোখে পড়ে না। মাইজভান্ডার দরবারকেন্দ্রিক ভোটাররা বড় ফ্যাক্টর এই আসনে। এবারও ফ্যাক্টর মনে করছেন নির্বাচনি মাঠে চষে বেড়ানো প্রার্থীরা। এই আসনে নির্বাচনি মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি আর ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। আর জামায়াতে ইসলামীর মো. নুরুল আমিন। অন্য ছয় প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হবে ওই দুই প্রার্থীর মধ্যে। এই আসনে প্রচারে আছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারী, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান, ইসলামী আন্দোলনের মো. জুলফিকার আলী মান্নান, জনতার দলের মো. গোলাম নওশের আলী এবং স্বতন্ত্র আহমেদ কবির ও জিন্নাত আকতার। বিএনপি প্রার্থী এখন প্রচারের মাঠে। সর্বত্র সমর্থন আদায়ে মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির এই প্রার্থী।
বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর জামায়াতের প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে বলেন, একটি দল আমাদের আদালতে রেখে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখিয়েছে কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। ইনশাআল্লাহ আমাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী এবার এই আসনে চমক দেখাতে চায়। দলের নেতাকর্মীরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটিতে বিজয়ের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা দারণভাবে উজ্জীবিত বলেও মনে করেন তারা। জয়ের ব্যাপারে জামায়াতের প্রার্থী নূরুল আমিন বলেন, আমরা আশাবাদী, জয়ী হব আমরা। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) : আসনে পাঁচজন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন জমা দিলেও জাতীয় পার্টির এম এ ছালামের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। এখন ৪ প্রার্থী খাতা-কলমে থাকলেও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ৩ প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সভাপতি আলহাজ মোস্তফা কামাল পাশা। ধানের শীষের এই প্রার্থী এখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সাবেক তিনবারের এই এমপি এবারও বাজিমাত করতে চান। অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাঠে আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার। ভোটের মাঠে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। মাঠে তৎপর আরেক ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন। দলীয় প্রতীক হাতপাখা নিয়ে মাঠে তৎপর রয়েছেন। তবে নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে অনেক পিছিয়ে।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) : চট্টগ্রাম জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সীতাকুণ্ড। এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় লড়াই হচ্ছে দুই দলের মধ্যে। নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে প্রচারে আছেন বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামী তথা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা কারি দিদারুল মাওলা (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের এ টি এম পারভেজ (মাথাল), ইসলামিক ফ্রন্টের মো. সিরাজুদ্দৌলা (মোমবাতি), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মছিউদদৌলা (কাস্তে), গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম, নেজামে ইসলাম পার্টির জাকারিয়া খালেদ। তবে প্রচারের দিক থেকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে।
সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকা জামায়াত ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে। নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সততার বার্তা তুলে ধরছেন। নারী ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। বরাবরের মতো এই আসনে নতুন ভোটারই হতে পারে ফ্যাক্টর।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) : হাটহাজারী আসনে ছয়জন প্রার্থী এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের মধ্যে আছেনÑ বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মতি উল্লাহ নূরী, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ার প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন। বিএনপির মহিলা সংগঠনের প্রচার চোখে পড়ার মতো। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীর এবার ভোট জয়-পরাজয় নির্ধারণের বড় ফ্যাক্টর বলে অনেকে মন্তব্য করছেন। হাটহাজারী আসনেও মূল লড়াই হবে বিএনপি ও ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি প্রার্থীর প্রতিপক্ষ দুর্বল। তাই বিএনপির মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সহজে জয় পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) : সাত সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনের গুরুত্ব অনেক বেশি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এই আসনের জয় নিয়ে এবারও সহজ অঙ্ক কষছেন স্থানীয়রা। এখানে হেভিওয়েট প্রার্থী একজনই। তিনি হলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী।
জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জু আছেন প্রচারে। তবে তার অবস্থা তেমন সুবিধাজনক নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন আরও ৩ প্রার্থী। তাদের সবাই নতুন মুখ। ফলে এবারও ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী। বিএনপি থেকে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন দলের সিনিয়র নেতা গোলাম আকবর খোন্দকার কিন্তু শেষ মুহূর্তে গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পান। এ নিয়ে তার মধ্যে ক্ষোভও আছে। তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ক্ষোভ ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না তা নিয়ে বিএনপির মধ্যেই সন্দেহ কাজ করছে। তা ছাড়া মোমবাতি প্রতীকের বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী অধ্যক্ষ ইলিয়াস নূরীর বড় একটি ভোট ব্যাংক আছে। তিনি জয়ের তালিকায় আছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) : এই আসনে ভোটারদের দৃষ্টি কাড়ছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তার সরব উপস্থিতি দীর্ঘদিন আওয়ামী বলয়ে থাকা এই আসনের ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। হুম্মাম কাদের নতুন প্রজন্মের ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার আশা করছেন। পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের ডা. এটিএম রেজাউল করিমও আছেন নির্বাচনি মাঠে। ইসলামী ফ্রন্টের মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছানও আছেন প্রচারে। এই আসনে আনেক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এখনও পর্যন্ত হুম্মাম কাদেরের পাল্লা ভারী বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি মেজবাহ উদ্দীন খালেদ, ফটিকছড়ি প্রতিনিধি এস এম আক্কাস হাটহাজারী প্রতিনিধি আলা উদ্দীন, রাউজান প্রতিনিধি আমির হামজা রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি জাহেদ হাছান তালুকদার)
এএডি/