বর্তমানে নির্বাচনি পরিবেশ খুবই ইতিবাচক। তবে কিছু কিছু বিষয় আছে, যা নিয়ে আলোচনা করা দরকার। মোটা দাগে একটি আশাবাদী পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করেছি। তাদের বেশিরভাগই বলেছেন যে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) প্রধান ইভার্স ইইয়াবস স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকদের মোতায়েন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইইউ ইওএম প্রধান ইভার্স ইইয়াবস বলেন, দেশে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ জেলা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের সার্বিক ধারণা হলো, পরিস্থিতি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বলব, ভোটের পরিবেশ খুবই ইতিবাচক। যেমনটা আপনি বলেছেন, আমরা সব জেলা ও অঞ্চলে প্রার্থী ও কর্তৃপক্ষ উভয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বিষয়ে কী জানা গেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ইভার্স ইইয়াবস বলেন, কেবল নির্বাচনি প্রচারের সময়েই নয়, তার আগে থেকেই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমরা এটা নিয়ে কথা বলেছি। নির্বাচন প্রক্রিয়ার এই অংশগ্রহণমূলক বিষয়টির ওপর আমরা অবশ্য জোর দিয়েছি। নারীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সব সম্প্রদায়, সব সংখ্যালঘুর এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তি করাটা খুবই কাক্সিক্ষত। এ বিষয়েও আমরা নজর রাখব।
ইইউ ইওএম জানিয়েছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে, যারা ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় নির্বাচনের দিন চলমান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। এই স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, ভোটকেন্দ্র বন্ধ, ব্যালট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেন, স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা প্রায় প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার শহর, নগর ও গ্রামে উপস্থিত থাকবেন। সারা দিনজুড়ে তাদের করা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকদের এই নিয়োগ মূলত পূর্বের ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকের কাজেরই একটি ধারাবাহিকতা, যারা জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তারা নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছেন, যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচন প্রশাসনের প্রস্তুতি, নির্বাচনি প্রচারের কার্যক্রম এবং ভোটার সচেতনতামূলক উদ্যোগ। এ ছাড়া তারা রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গেও নিয়মিত বৈঠক করছেন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল মিশনটিকে আরও জোরদার করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশন থেকে স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৫ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক, পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরাও মিশনে যোগ দিচ্ছেন। পূর্ণ সক্ষমতায় এই মিশনে ২০০ জনেরও বেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন, যারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আগত।
প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেন, দেশজুড়ে আমাদের ২০০ পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন, যার মাধ্যমে আমরা এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অবদান রাখছি। এই বৃহৎ এবং নিবেদিত মিশন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবিচল অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।
ইইউ ইওএম ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে একটি বিবৃতির মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ভবিষ্যৎ নির্বাচনি প্রক্রিয়ার জন্য সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
উভয় প্রতিবেদনই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ইইউ ইওএম একটি আচরণবিধির অধীনে পরিচালিত হয়, যা কঠোর নিরপেক্ষতা ও কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। মিশনটি ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালা অনুযায়ী এর কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সময়ের আলো/কেএইচও