রাত পোহালেই ভোট। এর আগে প্রচারের পুরো সময়ে ঢাকা-৬ আসনে ভোটের উত্তেজনা ছিল স্পষ্ট। পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়ার অলিগলি ছিল মিছিল আর স্লোগানে সরগরম। ঢাকার ইতিহাস ঐতিহ্য কিংবা ঢাকা আদিবাসীদের বসবাস এখানে। শত বছরের বয়সের নুব্জ মহল্লার অলিগলিতে এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত।
পুরো এলাকা অপেক্ষায় আছে কে হবেন তাদের জনপ্রতিনিধি। এলাকাবাসী জানান, এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঢাকার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন।
আর জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক শিবির নেতা ও বর্তমানে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান। এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন- গণফ্রন্টের আহম্মেদ আলী শেখ, গণঅধিকার পরিষদের মো. ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ইউনুস আলী আকন্দ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. আকতার হোসেন, জাতীয় পার্টির আমির উদ্দিন আহমেদ (ডালু)।
বায়ান্না বাজার তেপান্ন গলির বাসিন্দাদের তেমন নাগরিক সুবিধা পাওয়া দুষ্কর। এলাকার দীর্ঘদিনের নাগরিক সংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে যান প্রার্থীরা। জাতীয় নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করে সংসদে পাঠিয়ে পরিবর্তনের আশায় আছেন এলাকার বাসিন্দারা।
ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি থানাধীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৪, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড মিলে ঢাকা-৬ আসন। এ আসনেই ঢাকার প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, পোগোজ স্কুল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সদরঘাট, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, আহসান মঞ্জিল, জয়কালী মন্দির, বলধা গার্ডেন, ওয়ারী, নারিন্দা ও ধূপখোলার অবস্থান। ঢাকা-৬ আসনের মোট ভোটার ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮৩, যার মধ্যে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫১৯ জন পুরুষ, ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬১ জন নারী ও তিনজন হিজড়া। দুজনই এলাকায় জোরেশোরে প্রচার চালান, ভোটারদের কাছে যান। ভোটাররাও উপভোগ করেন নির্বাচন সামনে রেখে দুই প্রার্থীর কার্যক্রম।
ভোটাররা জানান, ঢাকা-৬ আসনের প্রধান সমস্যা হলো গ্যাস ও পানি সংকট, পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশ, সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ যানজট এবং বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ ও দখল। স্থানীয়দের মতে, বিএনপি প্রার্থী ইশরাক তার বাবা সাদেক হোসেন খোকার কারণে বাড়তি সাড়া পান। তিনি গণসংযোগে বের হলে বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটাররা তাকে বাবার রাজনীতির উত্তরাধিকারী হিসেবে সমর্থন জানান। আর জামায়াত প্রার্থী মান্নান সম্প্রতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, আমার ও আমার পরিবারের ওপর বিভিন্ন সময়ে ‘জুলুম-নির্যাতনের’ কারণে জনগণের মধ্যে আমার প্রতি সহানুভূতি কাজ করছে। বাবা সাদেক হোসেন খোকার উত্তরাধিকার সূত্রে নয়, আমি নিজেই লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে অবস্থান তৈরি করতে চাই। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি যানজট নিরসনে রাস্তার অবৈধ দখল মুক্ত করা এবং বাস রুট রেশনালাইজেশনের চিন্তা করছেন। এ ছাড়া তিনি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি জানান, তরুণদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং এবং আইটি স্টার্টআপের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা আছে।
নারীদের জন্য দলের ইশতেহার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং গণপরিবহনে আলাদা সেবার ব্যবস্থা করা হবে। ভোটারদের উদ্দেশে ইশরাক বলেন, আমাকে সুযোগ দিয়ে দেখতে পারেন। রাজনৈতিক ওয়াদাগুলো সঠিকভাবে পূরণ করার ক্ষেত্রে আমি আপনাদের নিরাশ করব না। জামায়াত প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান বলেন, পুরান ঢাকার বাসিন্দারা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার।
আমাদের এখানে গ্যাস ও পানির সমস্যা বহুদিনের। এটি সমাধান হচ্ছে না। রাস্তাঘাট সরু, দিনভর যানজট লেগেই থাকে। আর ধুলোবালি, ময়লা-আবর্জনার কারণে এলাকার পরিবেশ খুবই দূষিত। নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
সময়ের আলো/কেএইচও