বছরের প্রথম সকাল মানেই শিশুদের চোখে অন্যরকম এক ঝিলিক- নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, রঙিন প্রচ্ছদ আর নতুন শুরুর স্বপ্ন। বই উৎসবের চেনা আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও থেমে থাকেনি আনন্দ। বছরের প্রথম দিনেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে গেছে নতুন পাঠ্যবই। অনাড়ম্বর পরিবেশে, শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ঝকঝকে নতুন বই। নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বই-ই হয়ে উঠেছে শিশুদের সবচেয়ে বড় আনন্দের উপলক্ষ।
সিলেট : বছরের প্রথম দিনেই নতুন বইয়ের ঘ্রাণে উচ্ছ্বসিত সিলেটের শিক্ষার্থীরা। সারা দেশের মতো সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন পাঠ্যবই। সকালে সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে নতুন বই বিতরণ করা হয়।
একই দিনে সিলেট জেলার সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা জানায়, বছরের শুরুতেই বই পাওয়ায় পড়াশোনায় নতুন উদ্যম ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বরিশাল : বছরের শুরুতেই বরিশালের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন বই। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো প্রকার বই উৎসব করা হয়নি। তবে বছরের শুরুতেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নতুন বই হাতে পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা।
গাইবান্ধা : সকালে বিদ্যালয়ে এসে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে বই নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায় গাইবান্ধার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষকরা নিজ হাতে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন নতুন বই। উৎসবের শব্দ না থাকলেও শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাস।
শিক্ষকরা জানান, রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন না থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই পাওয়ার আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ কেউ বইয়ের পাতা উল্টে দেখছে, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে নতুন বইয়ের ছবি তুলছে। গাইবান্ধা জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এক হাজার ৪৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৫৮৫টি কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয়। এ বছর প্রাথমিক স্তরে বইয়ের মোট চাহিদা ছিল ১৭ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬২টি। এর বিপরীতে শতভাগ নতুন বই বরাদ্দ পাওয়া গেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ জানান, বছরের প্রথম দিন থেকেই চাহিদা অনুযায়ী সব নতুন বই বিতরণ শুরু করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার শুরুতে কোনো ঘাটতি থাকবে না।
চাঁদপুর : সারা দেশের মতো চাঁদপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কারণে এ বছর কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই বই বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ শুরু হয়। চাঁদপুর শহরের হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয়, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা সরাসরি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছেন।
নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায় উচ্ছ্বাস ও আনন্দ। অনেকেই বইয়ের মলাট উল্টে উল্টে দেখছে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব বই সরবরাহ করা হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সব পাঠ্যবই এখনও এসে পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য মতে- জেলায় প্রায় ১ হাজার ১৫০ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার শিক্ষার্থীর বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বিদ্যালয়গুলোতে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল্লাহ জানান, জেলায় ২৮০টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ২৩০টি মাদরাসার প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় ৩৫ লাখ ৭২ হাজার পিস বই বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সব বই আসলেও ৭ম শ্রেণি ও মাদরাসার ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোনো বই আসেনি। অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কিছু বই আসলেও এখনও অনেক বই বাকি রয়েছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যে বাকি বই বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়।
পটুয়াখালী : নতুন বছরের প্রথম দিনে পটুয়াখালীর ১ হাজার ২৩৫টি প্রাথমিক ও ৫৬৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪ লাখ ২১ হাজার ১৪৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩২ লাখ ৬২ হাজার ১৭৩ টি নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার সব বিদ্যালয়ে কিছুটা অনাড়ম্বরভাবে বই বিতরণ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ বই বিতরণ করা হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী সব বই না আসায় ৮৪ শতাংশ বই বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বই হাতে পেয়ে অনেক উচ্ছ্বসিত ছিল শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের নতুন বইয়ের মাধ্যমে তাদের জ্ঞানের ভান্ডার আলোকিত করবে এবং আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। (প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা।)
সময়ের আলো/এসকে/