ফটিকছড়িতে হাতচাঁদায় পাকা হচ্ছে সড়ক

এস এম আক্কাছ ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

‘স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন ধরে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি ছিল গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাকা করার। কিন্তু এ দাবি অরণ্যেরোদনে পরিণত হয়। কয়েক

2026-01-02T04:24:49+00:00
2026-01-02T04:24:49+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
ফটিকছড়িতে হাতচাঁদায় পাকা হচ্ছে সড়ক
এস এম আক্কাছ ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২৪ এএম   (ভিজিট : ১০৬)
ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ সড়কটির নির্মাণকাজ চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। ছবি : সময়ের আলো
‘স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন ধরে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি ছিল গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাকা করার। কিন্তু এ দাবি অরণ্যেরোদনে পরিণত হয়। কয়েক মাস আগে আমরা কয়েকজন বসে ঠিক করি হাতচাঁদা তুলে হলেও সড়কটি পাকা করব। 

কথামতো রাত-দিন কষ্ট করে হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকা করে চাঁদা তুলতে থাকি। দশ-বারো লাখ টাকার মতো হলে স্থানীয় যুবকদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হলো। এখন সরকারের সাহায্য ছাড়াই আমাদের দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়ক হচ্ছে। মনের কষ্ট দূর হচ্ছে। ক্ষোভ আর আনন্দ মেশানো কথাগুলো বলছিলেন সড়কের জন্য অর্থ সহায়তাকারীদের একজন। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. এমরান হোসেন। তিনি নিজে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সরকারের অবহেলায় সড়কটি না হওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাধীনতার পর থেকে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডস্থ চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ সড়কটি অবহেলিত ছিল। কোর্টের পাড়ের পশ্চিম পাশে বড়ুয়াপাড়া সংলগ্ন হতে আয়নাওয়ালা জামে মসজিদ হয়ে আজাদী বাজার মাদরাসা পর্যন্ত সড়কটি ওই এলাকার বাজারে আসা-যাওয়ার বিকল্প সড়ক হিসেবেও ব্যবহার হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি অবহেলিত। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে কেউ সড়কটি উন্নয়নে কথা রাখেননি। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ভুক্তভোগী লোকজনের দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোরশেদুল আলম এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে স্থানীয় যুবকরা উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে গঠন করেন একটি সড়ক উন্নয়ন কমিটি। যার আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউপি সদস্য মোরশেদুলকে।

পরে কিছু টাকা জোগাড় হলে চলতি বছরের ২৫ অক্টোবর থেকে কাজ শুরু হয়। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সড়কটির প্রায় এক হাজার ফুট ঢালাই কাজ শেষ হয়। এতে খরচ হয় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। আর্থিক সংকটের কারণে কখনো মাঝপথে কাজ বন্ধ থাকলেও এলাকার মানুষ এই সড়কের প্রতি ভালোবাসায় যেন আবদ্ধ হয়েছেন। তারা বিভিন্ন উপায়ে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে পাকা ঢালাইয়ের কাজ চলমান রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের আশা শেষতক জনগণের হাতচাঁদার অর্থ সহায়তায় পাকা হবে এই অবহেলিত সড়কটি। দীর্ঘদিনের কষ্ট তারা অবশ্যই লাঘব করবেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে শ্রমিকের সঙ্গে এলাকার লোকজন মিলেমিশে কাজে নেমে পড়েছেন। কেউ পানি হাতে; আবার কেউ চায়ের কাপ হাতে দিচ্ছেন শ্রমিকদের। নারীরাও সহায়তায় এগিয়ে আসছেন পান-সুপারি হাতে নিয়ে। এ যেন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এক উৎসবের আমেজ। 

সড়ক উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. মোরশেদুল আলম বলেন, ‘সড়কটির উন্নয়নে এলাকার কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, প্রবাসী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সবাই সাধ্যমতো সহযোগিতা দিয়েছেন। এখনও দিচ্ছেন, সামনেও দেবেন। কেউ লাখ টাকা আবার কেউ হাজার টাকা দিয়ে শরিক হয়েছেন। এখন সড়কের সুফল পেতে যাচ্ছেন মানুষ। এলাকার সবাই এতে খুশি। এত দিনের দুর্ভোগের কথা আস্তে আস্তে ভুলে যাচ্ছেন তারা।’

কমিটির অন্যতম সদস্য মো. এমরান উদ্দিন বলেন, আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিল সড়কটি আমরা করবই। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অবস্থাপন্ন ব্যক্তিরাও আমাদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। পুরো সড়কের কাজ শেষ করতে অন্তত দেড় কোটি টাকা প্রয়োজন। এলাকার মানুষ অত্যন্ত আন্তরিক। আমরা দেখিয়ে দেব; সরকার আমাদের পাশে না থাকলেও আমরা সরকারের পাশে আছি। তিনি ভালো কাজে এলাকার সবাইকে পাশে থাকার অনুরোধ জানান।

সড়কের জন্য আর্থিক সহায়তাদানকারীদের একজন প্রবাসী মো. আবদুল ওহাব। তিনি বলেন, জীবনভর সড়কটি এলাকার দুঃখ হিসেবে পরিচিত ছিল। এলাকার যুবসমাজ সেই দুঃখ ঘুচিয়ে দিয়ে প্রমাণ করল, ভালো কাজের উদ্যোগ অর্থের অভাবে আটকে থাকে না।

ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, সড়কটি উন্নয়নের জন্য আমরা দুবার কিছু অর্থ সহায়তা দিয়েছি। পরে আরও সহায়তা চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার লিখেছি। কিন্তু কাজ হয়নি। আমাদের যুবসমাজ দেখিয়ে দিয়েছে সরকারের সাহায্য ছাড়াও উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, চমৎকার কাজ। যুবসমাজ ইচ্ছা করলে পুরো দেশ পরিবর্তন সম্ভব; এটাই তার প্রমাণ। তারা দেখিয়েছেন সরকারের সাহায্য ছাড়াও অনেক কাজ হয়। তিনি সড়কটি পরিদর্শন করে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সময়ের আলো/এসকে/ 




  বিষয়:   ফটিকছড়ি  হাতচাঁদা 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: