ভাসমান হাসপাতালে আরাধ্য স্বাস্থ্যসেবা

এস আর শাহ্ আলম বেড়া (পাবনা)

পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলে মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া একসময় ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আর দারিদ্র্যতার কারণে

2026-01-02T04:26:14+00:00
2026-01-02T04:26:14+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
ভাসমান হাসপাতালে আরাধ্য স্বাস্থ্যসেবা
এস আর শাহ্ আলম বেড়া (পাবনা)
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২৬ এএম   (ভিজিট : ২০৬)
পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলে মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে ভাসমান হাসপাতাল। ছবি : সময়ের আলো
পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলে মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া একসময় ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আর দারিদ্র্যতার কারণে অসুস্থ হলেও সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিতে পারতেন না চরাঞ্চলের মানুষ। সেই চিত্র এখন বদলেছে। ফ্রেন্ডশিপ মোবাইল হাসপাতাল বাংলাদেশ-৩-এর মাধ্যমে এখন চরের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা।

নতুন পেচাকোলো গ্রামের আসমা খাতুন বলেন, পেটের ব্যথার কারণে ওই ভাসমান হাসপাতালে গিয়েছিলাম, চিকিৎসা নিয়ে এখন আমি অনেক ভালো। গরিব মানুষের জন্য ভাসমান হাসপাতালটি খুবই যুগোপযোগী। একই গ্রামের চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া ছারা খাতুন বলেন, চোখের সমস্যার জন্য গিয়েছিলাম, চোখ পরীক্ষা করে বিনামূল্যে ড্রপ দিয়েছে। কয়েক দিন ব্যবহার করে সেরে গেছে। ভাসমান হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিনামূল্যে অনেক ওষুধও দেওয়া হচ্ছে।

চর পেচাকোলা গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, চরাঞ্চলের মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো সেটার অবসান ঘটেছে ভাসমান হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায়। শুধু চরাঞ্চলই নয় আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক মানুষ এই ভাসমান হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে অনেক খুশি। 

বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ কর্মসূচির আওতায় এই ভাসমান হাসপাতালটি ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। পাবনার বেড়া এবং কুষ্টিয়ার কুমারখালী চরাঞ্চলে তিন মাস অন্তর ঘুরে ঘুরে এটি সেবা দেয়। মোট ২২ জনের একটি দল ওই ভাসমান হাসপাতালে সেবামূলক কাজে নিয়োজিত আছেন। চরাঞ্চলের এই হাসপাতালে সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে জটিল অনেক সমস্যার প্রাথমিক সমাধান মিলছে জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও পেটের সমস্যার চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রসব-পূর্ব ও পরবর্তী পরামর্শ এবং শিশুদের পুষ্টি ও টিকাদান, দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, ছোটখাটো অস্ত্রোপচার এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি স্বল্প খরচে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষাসংক্রান্ত সেবা পাওয়া যায় এখানে।
ভাসমান হাসপাতালটির বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলের জন্য ভাসমান হাসপাতাল সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি না থাকলে অনেকেই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতো। তাই ভাসমান হাসপাতাল চরাঞ্চলের মানুষের এখন একমাত্র ভরসা। ভাসমান হাসপাতালের এমন মহৎ সেবায় স্থানীয়রা অত্যন্ত খুশি। শুধু তাই নয় তাদের দাবি বছরের নির্দিষ্ট কয়েক মাস নয় বরং সারা বছরই যেন এই ভাসমান হাসপাতালটি এ এলাকায় চালু থাকে। 

এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা সুলতানা নীলা এ প্রতিবেদককে জানান, আমি নিজে জেলা সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে চর পেচাকোলা গ্রামসংলগ্ন যমুনা নদীতে ভাসমান হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছি, এখানে সেবার মান খুবই ভালো ও উন্নতমানের। চরাঞ্চলের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত শত শত মানুষ ছোটখাটো রোগের খুব ভালো চিকিৎসা পাচ্ছে এখানে। শুধু চরাঞ্চল নয় আশপাশের দূরদূরান্ত থেকেও প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড়শ মানুষ চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে ওই ভাসমান হাসপাতাল থেকে। তিনি আরও বলেন, বিদেশি সংস্থার অর্থায়নে ওই হাসপাতালে একজন এমবিবিএস, একজন মেডিকেল অফিসার, দুজন প্যারামেডিকেল, চারজন টেকনিশিয়ান ও একজন ফার্মাসিস্ট রয়েছেন।


সময়ের আলো/এসকে/ 

  বিষয়:   ভাসমান হাসপাতাল  স্বাস্থ্যসেবা 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: