ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিল শেষে সম্ভাব্য প্রার্থীদের হলফনামায় উল্লেখ করা আয়-ব্যয়ের হিসাব, সম্পদের বিবরণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এসব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে মনোনয়ন জমা দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা কিংবা আলোচিত প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। হলফনামায় দেওয়া অনেক প্রার্থীর বার্ষিক আয় বা সম্পদের বিবরণ বাস্তবসম্মত কি না, এমন প্রশ্নও সামনে আসছে। তবে কেউ ঠিক তথ্য দিলেন, না ভুল তথ্য দিলেন, কেউ সেটা যাচাই করে না। অথবা পাঁচ বছরের ব্যবধানে একজন মন্ত্রী বা এমপি কীভাবে আঙুল ফুলে কলাগাছ হলেন সে তথ্য কেউ খুঁজে বের করেন না। ফলে প্রশ্ন উঠেছে আদৌ কি হলফনামার কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে নির্বাচনে যারা প্রার্থী হতে চান, তাদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। নির্বাচনের প্রার্থীদের এসব তথ্য দেওয়া এবং তা প্রকাশের বাধ্যবাধকতার উদ্দেশ্য হচ্ছে ভোটারদের তথ্য দিয়ে ওই প্রার্থী সম্পর্কে জানানো। তারা যাতে জেনে-বুঝে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
তফসিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এরপর থেকেই প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা ওয়েবসাইটে সবার জন্য উন্মুক্ত রেখেছে নির্বাচন কমিশন।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর হলফনামা জমা দেওয়ার নিয়ম কার্যকর হয় ২০০৮ সাল থেকে। যার মধ্যে প্রার্থীর আয়-ব্যয়, সম্পদের হিসাব, তার ওপর নির্ভরশীলদের আয়-ব্যয়, সম্পদের হিসাব সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। হলফনামায় দেওয়া সম্পদের তথ্য অনুযায়ী, আয় ও সম্পদ বাড়ার পর তা নিয়ে সমালোচনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। বরং এর আগের নির্বাচনগুলোতেও অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে একই ধরনের সমালোচনা সামনে এসেছে।
হলফনামায় প্রার্থীর বয়স, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়, সম্পদ, মামলাসহ ১০ ধরনের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দাখিলকৃত মনোনয়নের সঙ্গে জন্মতারিখ ও বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ফৌজদারি মামলার বর্তমান ও অতীত তথ্য, পেশা, নির্ভরশীলদের পেশা, আয়ের উৎস, সম্পত্তি ও দায়ের বিবরণী, প্রতিনিধিত্বের ইতিহাস, ঋণ সংক্রান্ত তথ্য এবং আয়কর সংক্রান্ত তথ্য। ২০২৫ সালের সংশোধিত আরপিও এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমানে প্রার্থীর বিদেশে থাকা সম্পদ ও আয়ের উৎস প্রকাশ করার বিষয়টিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া রিটার্নিং অফিসারকে হলফনামার তথ্য ভোটারদের মধ্যে প্রচার করার জন্য লিফলেট বা অনলাইনে প্রকাশের নির্দেশনাও রয়েছে। সাধারণত একজন প্রার্থী ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের সামনে হলফনামার মাধ্যমে সত্য তথ্য প্রদানের ঘোষণা দেন। এ কারণে কোনো ব্যক্তি যদি প্রার্থীর দেওয়া তথ্য যথার্থ নয় বলে অভিযোগ করেন এবং দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, তবে সেটি কাউন্টার এফিডেভিট হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর স্বাক্ষরিত একটি হলফনামা যার সঙ্গে সর্বশেষ কর বছরের আয়কর রিটার্নের কপি সংযুক্ত করে দাখিল করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামার নমুনা অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য ও তার স্বপক্ষে কাগজপত্র যথাযথভাবে দাখিল করা হয়েছে কি না এবং হলফনামার তথ্যগুলো যথাযথ কি না সেটি যাচাই করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং অফিসারের। এ ক্ষেত্রে হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সহায়তা নেওয়া হয়। প্রার্থীর দেওয়া আর্থিক এবং ঋণ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে তথ্য পাঠায় কমিশন। প্রার্থীর আয়ের উৎস, আর্থিক বিবরণের যথার্থতা এবং ঋণখেলাপি কি না, সেটি এখান থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায়। প্রার্থীর আয়কর প্রদানের তথ্য এবং টিআইএন নম্বর সঠিক কি না, তা জানতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহায়তা নেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না বা তিনি সাজাপ্রাপ্ত কি না, সেটি যাচাই করা হয় পুলিশ বিভাগ এবং আদালতের রেকর্ডের মাধ্যমে।
অসত্য তথ্য দেওয়া হলে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এমনকি নির্বাচনে জয়ের পরও হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে যে কারও সংসদ সদস্য পদ বাতিল করতে পারে কমিশন।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ২০১৪ সালের নির্বাচন অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ৪৮ জন প্রার্থীর ২০০৮ সালের হলফনামা ও ২০১৪ সালের হলফনামা পর্যালোচনা করেছিল। তখন প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল যে, বেশ কয়েকজন প্রার্থীর আয় ২০০৮ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ ৮ হাজার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এতে অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ৫৩ জন প্রার্থী যারা দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের হলফনামার আয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে সুজন। সেখানে বলা হয়, সর্বমোট ৫৩ জন প্রার্থীর আয় গড়ে ১০৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আয় বৃদ্ধির এই হার ১০ দশমিক ৯১ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৫২ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য পাঁচটি রাজনৈতিক দলের ১০ শীর্ষ নেতার মধ্যে সাতজনেরই মাসে আয় লাখ টাকার কম। সবচেয়ে কম আয় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এরপরই রয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের, যার আয় বছরে ৪ লাখ টাকা। তাদের চেয়ে আয়ে কিছুটা এগিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা; যা মাসে ৫৬ হাজার টাকার সামান্য বেশি।
পাঁচটি দলের নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বার্ষিক আয় জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারির। তিনি বছরে ৩৩ লাখ টাকা আয় করেন। সম্পদে তিনি শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ধনী। ৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা সম্পদের মালিক তিনি। ৪ কোটি ৫ লাখ টাকার সম্পদ নিয়ে এরপরই রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তার মাসিক আয় লাখ টাকার মতো। জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের আয় বছরে ৪ লাখ টাকা। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আয়ে দ্বিতীয়। পেশায় পরামর্শক এই নেতা বছরে ১৬ লাখ টাকা আয় করেন। ১৯০ ভরি স্বর্ণের মালিক ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের মাসে আয় ৩৯ হাজার টাকা। এনসিপির সদস্য সচিব শিক্ষানবিশ আইনজীবী আখতার হোসেনের আয়ও তার চেয়ে বেশি, বছরে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা।
পাঁচটি দলের শীর্ষ ১০ নেতার আটজন দামি গাড়ি এবং ঢাকায় বাড়ির মালিক হলেও, অর্জনকালীন মূল্য অনুযায়ী তাদের সবাই উচ্চ মধ্যবিত্তের কাতারে পড়েন। তাদের পাঁচজনের পেশা ব্যবসা, দুজন আইনজীবী, একজন করে রাজনীতিক, চিকিৎসক ও পরামর্শক। দুজন বাদে সবাই উচ্চশিক্ষিত, ন্যূনতম স্নাতক। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় তারা নিজেরাই এসব তথ্য দিয়েছেন।
তারেক রহমান : ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান এইচএসসি পাস। তার বছরে পৌনে সাত লাখ টাকা আয় হয় শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে। শেয়ার রয়েছে ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার। ব্যাংকে আমানত আছে এক লাখ ২০ হাজার টাকার। এফডিআর আছে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকার। স্বর্ণালংকার (অর্জনকালীন সময়ে) আছে দুই হাজার ৯৫০ টাকার। হাতে নগদ টাকা আছে ৩১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৮ টাকা। তারেক রহমানের স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে অকৃষি জমি, ৩০৫ শতক। অর্জনকালীন দাম দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের নামে আছে ১১১ দশমিক ২৫ শতক অকৃষি জমি এবং যৌথ মালিকানায় ৮০০ বর্গফুটের দোতলা ভবন। তারেক রহমান ২ দশমিক ৯ শতাংশ জমি উপহার হিসেবে পেয়েছেন। জুবাইদা রহমানের নগদ টাকা আছে ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা। ব্যাংকে সঞ্চয় আছে ১৫ হাজার ২৬০ টাকা এবং এফডিআর আছে ৩৫ লাখ টাকার। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নামে ৭৭টি মামলার মধ্যে ৫৪টিতে খালাস পেয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হলফনামায় জানিয়েছেন, চার কোটি ছয় লাখ ৫৪ হাজার ৭১৫ টাকার সম্পদ রয়েছে তার। পেশা ব্যবসা উল্লেখ করা এই নেতার বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা। মির্জা ফখরুলের পাঁচ একর কৃষিজমি রয়েছে। যার অর্জনকালীন মূল্য ৬০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৮৪ শতক জমি। দাম ৫১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামী-স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩৯ লাখ ৭২ হাজার টাকার ১২ শতাংশ অকৃষি জমি। ঢাকার পূর্বাচলে ফখরুল ইসলামের পাঁচ কাঠা জমি রয়েছে, আনুমানিক দাম ৮৫ লাখ চার হাজার টাকা। ঢাকায় অবস্থিত এক হাজার ৯৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। অর্জনকালীন দাম ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মির্জা ফখরুলের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে তিন লাখ ৮২ হাজার টাকা রয়েছে। তবে হাতে নগদ টাকা আছে সোয়া এক কোটি টাকা। বিএনপি মহাসচিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ৫০টি মামলা হয়েছিল। তবে এর বেশিরভাগই আদালতের আদেশে স্থগিত, প্রত্যাহার বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন (এফআরটি) দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান : জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন (মিরপুরের একাংশ ও কাফরুল) থেকে নির্বাচন করবেন। তার বয়স ৬৭ বছর। তিনি হলফনামায় বলেছেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস পাস। বর্তমান পেশা চিকিৎসক। তার স্ত্রী আমেনা বেগম গৃহিণী, যিনি অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য ছিলেন।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের প্রায় দেড় কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার নামে কোনো ঋণ নেই। ২০২৫-২৬ করবর্ষে তিনি ৩০ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে শফিকুর রহমানের নগদ রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তার বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে প্রায় ২৭ লাখ ১৭ হাজার টাকার।
শফিকুর রহমান একটি গাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার কাছে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য ১ লাখ টাকা। তার ২ লাখ টাকার (অধিগ্রহণকালে মূল্য) ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। আরও রয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাব। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে শফিকুর রহমানের কৃষিজমি রয়েছে ২১৭ শতক, যার অর্জনকালীন মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অকৃষি ১৩ শতক জমির অর্জনকালীন মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ১১ দশমিক ৭৭ শতকের ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে জামায়াতের আমিরের; অধিগ্রহণকালে যার মূল্য ছিল ২৭ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে জামায়াতের আমিরের স্থাবর সম্পদের মূল্য ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৪ টাকা।
শফিকুর রহমানের স্ত্রীর কোনো আয় নেই, কোনো সম্পদ নেই। তবে তিন সন্তানের আয়ের তথ্য তুলে ধরেছেন জামায়াতের আমির। এতে দেখা যায়, তার এক মেয়ের ৫ লাখ টাকার, আরেক মেয়ের ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার এবং ছেলে রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহর ৩০ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
জামায়াতের আমির ৩৪টি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এগুলোর মধ্যে বর্তমানে দুটি ফৌজদারি মামলা হাইকোর্টে স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া ২০০৮, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৭ ও ২০২২ সালে দায়ের করা ৩২টি মামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ৩০টি হয়েছে ঢাকায়, ২টি সিলেটে।
৩২টি মামলা থেকেই শফিকুর রহমান অব্যাহতি পেয়েছেন কিংবা মামলা খালাস বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ১০ মামলায় অব্যাহতি, ৮টি প্রত্যাহার ও ১টিতে খালাস পেয়েছেন শফিকুর রহমান। ২০২৪ সালে ৬ মামলায় অব্যাহতি ও ৫টিতে খালাস পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ২০১৭ সালে সিলেটে একটি মামলায় খালাস এবং ২০২১ সালে আরেকটি মামলায় অব্যাহতি পান জামায়াতের আমির। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি মামলা করা হয়েছিল ২০১২ সালে, ২০টি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৩ সালে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়। ফলে ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছিলেন শফিকুর রহমান। সেখানে তিনি পরাজিত হন। যদিও ওই নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতীকসহ জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহাল করা হয়। আগামী নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট করবেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার : খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম পরওয়ার হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। তিনি নিজের পেশা দিয়েছেন ব্যবসা ও সাবেক শিক্ষক। ৪৮ মামলার অধিকাংশে তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন। হলফনামায় মিয়া গোলাম পরওয়ার মোট ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকার সম্পদের ঘোষণা দিয়েছেন। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- অকৃষিজমি ও ভবন, যার বর্তমান বাজারমূল্য এক কোটি টাকা। এসব সম্পদের অর্জনমূল্য ২২ লাখ ৭২ হাজার টাকা। নগদ পাঁচ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে সাত লাখ ২৪ হাজার ৭৩৩ টাকা জমা থাকার তথ্য দিয়েছেন। ২০২৫ কর মূল্যায়ন বছরে তিনি পাঁচ হাজার ৬২৫ টাকা কর দিয়েছেন।
নাহিদ ইসলাম : ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম স্নাতক ডিগ্রিধারী। তার পেশা পরামর্শক। শিক্ষকতা ও পরামর্শ দিয়ে বছরে আয় করেন ১৬ লাখ টাকা। নিজের কাছে নগদ আছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা; স্ত্রীর কাছে আছে দুই লাখ টাকা এবং ব্যাংকে আছে তিন লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা। নিজের পৌনে আট লাখ টাকার অলংকার এবং স্ত্রীর আছে ১০ লাখ টাকার গহনা। সব মিলিয়ে এনসিপিপ্রধানের ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকার সম্পদ আছে। গত বছরে আয় হয়েছে ১৩ লাখ পাঁচ হাজার ১৫৮ টাকা। আয়কর দিয়েছেন এক লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা।
আখতার হোসেন : রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী আখতার হোসেনের গাড়ি-বাড়ি নেই। নগদ টাকা আছে ১৩ লাখ। তার স্ত্রী সানজিদা আক্তারের আছে চার লাখ টাকা। নিজের ব্যাংকে জমা আছে দুই লাখ ৯৯ হাজার ৪২৬ টাকা। কৃষি, ব্যবসা ও চাকরি থেকে আখতার হোসেনের বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার টাকা। নিজের সাত লাখ ও স্ত্রীর আছে ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার। নিজের অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৭ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে নগদ ১৩ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে তিন লাখ টাকা। আখতারের ১৮ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে হলফনামা অনুযায়ী।
জিএম কাদের : রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের পেশা রাজনীতি। তার কাছে নগদ টাকার পরিমাণ ৬০ লাখ ৩২ হাজার। গত নির্বাচনে তার নগদ টাকা ছিল ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার। ওই সময় তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের নগদ টাকা ছিল ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার। এবার তা কমে হয়েছে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৮ টাকা। জিএম কাদের ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা দামের গাড়ির মালিক। তার স্ত্রী চড়েন ৮০ লাখ টাকার গাড়িতে। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের কৃষিজমি না থাকলেও নিজের ও স্ত্রীর নামে লালমনিরহাট ও ঢাকায় বাড়ি রয়েছে। বর্তমান মূল্য দুই কোটি টাকার বেশি বলে হলফনামায় তথ্য দিয়েছেন। তিনি বছরে চার লাখ টাকা আয় করলেও তার স্ত্রী ব্যবসা থেকে আয় ছয় লাখ টাকা বলে তথ্য দিয়েছেন। জিএম কাদেরের অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর সম্পদের মূল্য এক কোটি ৭২ লাখ টাকা।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী : গাইবান্ধা-১ আসনের প্রার্থী জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার বার এট ল ডিগ্রিধারী, পেশায় আইনজীবী। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে চার কোটি ৮২ লাখ ২৬ হাজার ২৩৫ টাকা সম্পদের মালিক তিনি। আইন পেশা ছাড়াও কৃষি খাত, সম্পত্তি থেকে ভাড়া, ব্যবসা ও চাকরি থেকে তার আয় হয়। হাতে নগদ টাকা আছে এক কোটি ৫০ লাখ। চার কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ততার কারণে।
ফয়জুল করীম : বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের নগদ অর্থ ও অন্যান্য আয় কয়েক গুণ বেড়েছে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফয়জুলের স্ত্রী ১৮৭ ভরি স্বর্ণ উপহার পেয়েছেন। ২০০৮ সালে তার স্ত্রীর মালিকানায় ১০ ভরি স্বর্ণ ছিল। ২০১৮ সালের হলফনামায় স্বর্ণ দেখানো হয়নি। ২০০৮ সালের হলফনামায় ফয়জুল নিজেকে ব্যবসায়ী উল্লেখ করেন। তখন তার বার্ষিক আয় দেখানো হয় এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ভাড়া, শিক্ষকতা এবং মাহফিলের হাদিয়াসহ এখন তার বার্ষিক আয় ১৪ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। ২০০৮ সালে নগদ ২০ হাজার টাকার মালিক ফয়জুলের এখন নগদ আছে ৩১ লাখ ১২ হাজার ৪৭ টাকা।
অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমদ : খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমদ সেখ কামিল ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস। বর্তমান পেশা ব্যবসা। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য তিন কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় চার লাখ ১৮ হাজার ৭৯২ টাকা। তার কাছে নগদ আছে ২৩ লাখ আট হাজার ৯৯৯ টাকা। সর্বশেষ অর্থবছরে আয়কর দিয়েছেন পাঁচ হাজার টাকা।
শিশির মনির : নিজের আয় ও দলের কর্মী-শুভানুধ্যায়ীদের দানের টাকায় নির্বাচনের ব্যয় মেটাবেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির। পেশা আইন ব্যবসা। বয়স ৪৪ বছর। পেশা থেকে তার বছরে আয় ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৪০৭ টাকা। অন্যান্য উৎস (ব্যাংক লভ্যাংশ ইত্যাদি) থেকে ৯৬ হাজার ৫৯৩ টাকা। স্ত্রীর আয় তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ, অস্থাবর সম্পদ তিন গুণের বেশি। হলফনামায় শিশির মনিরের স্ত্রী সুমাইয়া সাদিয়া রায়হানের পেশা উল্লেখ করা হয়েছে বেসরকারি চাকরি। তার বার্ষিক আয় ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৫১৫ টাকা। এর মধ্যে পেশা থেকে ৬৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৩২ টাকা; শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়, ব্যাংক আমানত থেকে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮৩৮ টাকা, অন্যান্য উৎস (ব্যাংক লভ্যাংশ ইত্যাদি) থেকে ২০ লাখ ৮৭ হাজার ২৪৫ টাকা।
মোহাম্মদ শিশির মনিরের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫১ লাখ ৪ হাজার ৩০৪ টাকা। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৩ টাকা। শিশির মনিরের কাছে নগদ আছে ৯ লাখ ৫২ হাজার ৪ টাকা, ব্যাংকে ২ হাজার ৩০০ টাকা; যানবাহন ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার, ইলেকট্রনিক পণ্য ৪ লাখ টাকার, স্বর্ণ আছে ২৫ ভরি- এগুলো উপহার হিসেবে পাওয়া।
শিশির মনিরের স্ত্রী সুমাইয়া সাদিয়া রায়হানের কাছে নগদ অর্থ আছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৬৫ টাকা, ব্যাংকে ৩৮ লাখ ২৬ হাজার ৩১৭ টাকা; বন্ড ঋণপত্র ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৫ টাকা, যানবাহন ৪৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার, উপহার হিসেবে পাওয়া ২৫ ভরি স্বর্ণ, ইলেকট্রনিকসামগ্রী ৭ লাখ ২০ হাজার ৪০০ টাকার। তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তবে শিশির মনিরের ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৭ হাজার ৪২০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ (অকৃষিজমি) আছে বলে হলফনামায় উল্লেখ আছে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মোহাম্মদ শিশির মনির সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই-শাল্লা) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী। তার বাড়ি শাল্লা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে। শিশির মনির এবার প্রথম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির চৌধুরী। তিনি এখানে এর আগে পাঁচবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে দলীয় চিঠি পেয়ে বিএনপির আরেক নেতা যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহির রায়হান চৌধুরীও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তাহির রায়হান এবার প্রথম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, হলফনামায় প্রার্থীর আয়-ব্যয়সংক্রান্ত সবকিছু খতিয়ে দেখার সুযোগ আছে বিধায়ই এই প্রভিশনটা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটা যথাযথভাবে পালন করা হয় না। এটা দেখার দায়িত্ব মূলত তিনটি প্রতিষ্ঠানের। প্রথমত নির্বাচন কমিশনের। দ্বিতীয়ত দুর্নীতি দমন কমিশনের এবং তৃতীয়ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের। প্রত্যেক প্রার্থীই আয়কর রিটার্ন জমা দেন। সেটার সঙ্গে হলফনামার মিল আছে কি না সেটা রাজস্ব বোর্ড দেখবে। কেউ দুর্নীতি করে টাকা উপার্জন করেছেন কি না সেটা দেখবে দুর্নীতি দমন কমিশন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হল কেউ সেটা দেখেন না। নির্বাচন কমিশন তো নির্বাচনের পরও হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একজনের ক্ষেত্রেও এমনকি ঘটেনি।
হলফনামায় আয়-ব্যয় এবং সম্পদের যে হিসেব প্রার্থীরা দেন তার বেশিরভাগই ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর বলেন, যেসব তথ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে, সেটি যথার্থ কি না যাচাই করা হয় না। এটি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে প্রার্থীকে জবাবদিহিতায় আনা যেত।
এএডি/