যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
কারাকাসে বিস্ফোরণ ও বিমান চলাচলের খবর ট্রাম্প প্রশাসন অবগত বলেও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিস্ফোরণ এবং বিমানের খবর সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত।
কারাকাসের দক্ষিণ দিকে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি ফরচুনা অবস্থিত। বিস্ফোরণের অধিকাংশ শব্দ এসেছে সেখান থেকেই। আলজাজিরার প্রতিনিধি লুসিয়া নিউমান জানিয়েছেন, ফরচুনার ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় গতকাল শেষ রাত এবং আজ ভোরবেলায় সিরিজ বিস্ফোরণ হয়েছে। বিস্ফোরণের পর থেকে ফরচুনা ও আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং অনেকগুলো বিমানের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের পর শহরের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একাধিকবার ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের পক্ষে কথা বলেছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যেন স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশ ছেড়ে চলে যান।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে যখন প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ট্রাম্প, সে সময় থেকেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করতেন তিনি। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ব্যাপারে তার মনোভাবের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার ট্যাংকার জাহাজগুলোর ওপর সর্বাত্মক অবরোধ জারি করেছেন।
গত ডিসেম্বরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার চারটি ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই জাহাজগুলো তেল রপ্তানির কাজে ব্যবহার করা হতো।
সময়ের আলো/ এসকে/