দুর্ভোগ লাঘবের দ্বারপ্রান্তে

ষ মো. আলাউদ্দীন হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)

এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীর তীরবর্তী গড়দুয়ারা, মেখল, উত্তর মাদার্শাসহ কয়েকটি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের কয়েক বছরের

2026-01-04T02:42:40+00:00
2026-01-04T02:42:50+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
দুর্ভোগ লাঘবের দ্বারপ্রান্তে
আনন্দে ভাসছেন হালদাপাড়ের লাখো মানুষ
ষ মো. আলাউদ্দীন হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: রোববার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৪২ এএম  আপডেট: ০৪.০১.২০২৬ ২:৪২ এএম
সংগৃহীত ছবি
এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীর তীরবর্তী গড়দুয়ারা, মেখল, উত্তর মাদার্শাসহ কয়েকটি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের কয়েক বছরের দীর্ঘ দুর্ভোগ শেষ হওয়ার পথে। বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহানোর পর অবশেষে সুদিন আসছে জেনে আনন্দে ভাসছেন হালদা পাড়ের লাখো মানুষ।

সরেজমিন হাটহাজারী উপজেলার হালদা পাড়ের গড়দুয়ারা ইউনিয়নে স্লুইসগেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পুরোদমে কাজ চলছে। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, গত চার বছর আগে ভেঙে পড়ার পর স্লুইসগেটটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজের প্রায় শেষ দিকে আইনি জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক হালদা নদীর জোয়ারের পানিতে ডুবে তলিয়ে যেত। এতে উল্লেখিত গ্রাম ছাড়াও আশপাশের লাখ লাখ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এ ছাড়া প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে ওই এলাকার কৃষিকাজও। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসন ও হাটহাজারী আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন অবহিত হয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবে এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। 

পরে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্লুইসগেট নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক পক্ষ এবং মেখল গড়দুয়ারার সচেতন নাগরিক কমিটির নেতাসহ নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে উপজেলা প্রশাসনের চারপক্ষীয় সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে মামলা করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া মো. রফিককে ক্ষতিপূরণ বাবদ দশ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। পরে বন্ধ হয়ে পড়া কাজটি পুনরায় শুরু হয়। ওই বৈঠকে ইউএনও, হাটহাজারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোরশেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহীন বাদশা, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপসহকারী প্রকৌশলী এলটন চাকমা, সার্ভেয়ার মোহাম্মদ জয়নাল ও সুচিত্র চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে কাজটি খুব দ্রুত শেষ হচ্ছে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও হাটহাজারী প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক খোরশেদ আলম শিমুল জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনেক সংগ্রাম আন্দোলনের পর অবশেষে কাজটি এখন প্রায় শেষের দিকে। আবারও সেই আগের মতো এ সড়ক ব্যবহার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকাবাসী নিজ নিজ গন্তব্যে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে। সব মিলিয়ে তাদের মধ্যে একরকম উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী মো. সেলিম বলেন, ইতিমধ্যে স্লুইসগেট নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন সংযোগ সড়ক তৈরির কাজ চলমান আছে। আগামী দশ থেকে পনেরো দিনের মধ্যেই এ সড়ক দিয়ে মানুষ যাতায়াত করতে পারবেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহীন বাদশা বলেন, আর কিছু দিনের মধ্যে মানুষ এ স্লুইসগেট ব্যবহার করে আগের মতো যাতায়াত করতে পারবেন। এখন ক্লোজআপের কাজ চলছে। আশা করি আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন হবে।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, স্লুইসগেটের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বৈঠকে সমস্যাটির সমাধান হওয়ায় ওই এলাকাসহ আশপাশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হতে চলেছে। শিগগির তারা সুফল ভোগ করতে পারবেন। যেকোনো প্রয়োজনে আমি নিজে হাটহাজারীবাসীর পাশে থেকে সাধ্যমতো সার্বিক সহযোগিতা করব।

স্থানীয় বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সি জামাল উদ্দিন বলেন, অনেক কষ্ট সহ্য করেছি। সামান্য ২০ মিনিটের রাস্তা আমাদের ২ ঘণ্টায় পাড়ি দিতে হতো। অসুস্থ রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বা সদরের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এ স্লুইসগেট পুরোদমে চালু হলে হালদা পাড়ের কৃষিতেও প্রাণ ফিরে আসবে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি খুব সহজে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ ইছাপুর বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়ে যেতে পারবেন। হালদা পাড়ের বাসিন্দা স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী মো. ইমরান হোসেন রাকিব বলেন, এত দিন নৌকা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওপারে যেতাম। সবসময় আতঙ্কে থাকতাম কখন কী হয় তা ভেবে। কিছু দিনের মধ্যে রাস্তা ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারব ভেবে আমার খুব খুশি লাগছে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে হালদা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন চেংখালী খালের সøুইসগেটের মাঝখানের মাটি ধসে পড়ে স্লুইসগেটটি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে উপজেলার মেখল ও গড়দুয়ারা ইউনিয়নের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ১৯৮০ সালের দিকে স্থাপিত উপজেলার গড়দুয়ারা ও রাউজান উপজেলার পশ্চিম গহিরা অংকুরিঘোনা বেড়িবাঁধ সড়ক দিয়ে স্লুইসগেট হয়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কে যাওয়ার সহজ মাধ্যম ছিল। এই পথে উপজেলা সদরে যাতায়াতও ছিল সহজ। ওই বেড়িবাঁধ ও স্লুইসগেট ভেঙে হালদার শাখা খাল চেংখালী খালে তলিয়ে যাওয়ায় ওই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।




Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: