চারদিকে ফসলের সবুজ সমারোহ। দিনের আলোয় বন্ধ অবস্থায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে মাটি কাটার একটি ভেকু মেশিন। দেখে যে কেউ পরিত্যক্ত ভাবতে পারেন। কিন্তু বাস্তবচিত্র একেবারেই ভিন্ন। সারা দিন অসলভাবে ভেকু মেশিনটি বসে থাকলেও রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় এর ব্যস্ততা। রাতের আঁধারে চলতে থাকে অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার অবৈধ কর্মযজ্ঞ। দিনে অলস পড়ে থাকলেও রাতে কৃষিজমিতে মাটি কাটার সময় রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দানবের মতো গর্জে ওঠে এই ভেকু। মাটি কাটার পর অন্তত দশটি ট্রাকে পরিবহন করা হয় সেসব মাটি। এমন দৃশ্য দেখে এলাকাবাসীও অবাক। দিনদশেক ধরে প্রতিরাতেই এ ঘটনা ঘটছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের পারুলকান্দি গ্রামের হাটখোলার উত্তর পাশে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার বড়বিলা গ্রামের মৃত আম্বিয়া মাস্টারের ছেলে সুলতান অবৈধ মাটি কাটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মাটি ক্রেতা সেজে তার মুঠোফোনে কল করলে সুলতান জানান, প্রচুর মাটি রয়েছে তার কাছে। প্রতি ট্রাক মাটি দেড় হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। পারুলকান্দি ছাড়াও তার একাধিক মাটি কাটার পয়েন্ট রয়েছে। তিনি আরও জানান, দিনের বেলা মাটি কাটলে প্রশাসন ঝামেলা করে। তাই মাটি রাতেই কাটতে হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাজিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
শনিবার সরেজমিন পারুলকান্দি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দিনের আলোয় ভেকু মেশিনটি বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এ সময় আশপাশের একাধিক আবাদি জমিতে সদ্য মাটি কাটার দগদগে ক্ষত লক্ষ করা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কৃষক ও আশপাশের জমির মালিকরা জানান, চিহ্নিত কিছু মাটিখেকো স্থানীয় কৃষকদের উচ্চ মূল্যের লোভ দেখিয়ে জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দিচ্ছে। দশ দিন ধরে এভাবে মাটি কাটা চলছে। পারুলকান্দি গ্রামের শিক্ষক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, স্বার্থান্বেষীরা প্রশাসনিক ঝামেলা এড়াতে রাতের অন্ধকারে অপরাধ করে চলেছে।
টাকার লোভে কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে, যা কৃষির জন্য হুমকিস্বরূপ। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।