উৎপাদন বাড়ায় সবজির দামে ধস

নিজস্ব প্রতিবেদক

নওগাঁর বিভিন্ন মাঠ শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজিতে ভরপুর। চারদিকে সবুজের সমারোহ। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কমেছে

2026-01-04T02:58:13+00:00
2026-01-04T02:58:13+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
উৎপাদন বাড়ায় সবজির দামে ধস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৮ এএম   (ভিজিট : ১২৩)
নওগাঁ সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে ক্ষেত থেকে শিম তুলছেন কৃষক আতাউল হক। ছবি : সময়ের আলো
নওগাঁর বিভিন্ন মাঠ শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজিতে ভরপুর। চারদিকে সবুজের সমারোহ। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কমেছে দাম। দাম কম হাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। উৎপাদন খরচ বাড়ায় এবং দাম কম হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

সবজি ভান্ডার-খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁ। জেলার বিভিন্ন মাঠে সবুজের চাদরে মোড়ানো শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজি। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন, লাউসহ অন্তত ২০ ধরনের শীতকালীন শাক-সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ জেলার শাক-সবজি চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বেড়েছে উৎপাদন। তবে উৎপাদন বেশি হলেও দাম কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। পাইকারি পর্যায়ে প্রকারভেদে টমেটো ৫০ টাকা কেজি, শিম ১২-১৫ টাকা, বেগুন ও গাজর ৩০ টাকা, মুলা ১৫-২০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৮-১২ টাকা পিস ও লাউ ১৫-২০ টাকা পিস।

কৃষকরা বলছেন, শাক-সবজি চাষাবাদে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় তারা দাম পাচ্ছেন না। বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। এ ছাড়া চাহিদামতো রাসায়নিক সার না পাওয়ায় বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। সার ও কীটনাশকের বাড়তি দামে সবজি চাষাবাদে বেড়েছে খরচ। আর সবজির দাম কমায় উৎপাদন খরচ ওঠা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা। আর কৃষকরা ফসল ফলিয়ে দাম না পেলেও সবজি কিনে লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা।

নওগাঁ সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক আতাউল হক। চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে দেশি জাতের শিমের আবাদ করেছেন। যেখানে বিঘাতে খরচ পড়েছে অন্তত ৩০ হাজার টাকা। ৪ মাসের এ ফসল বিক্রি হয় প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত খরচের টাকা উঠলেও দাম কমে আসায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন থেকে শিমের দাম কম। তবে শিম বাঁচাতে রোগ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে সপ্তাহে প্রায় ৬০০-৭০০ টাকা কীটনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। যে দাম দিয়ে শিম বিক্রি হচ্ছে তা থেকে পরিশ্রম ও কীটনাশক ব্যয়ে লোকসান হচ্ছে। লাভ হবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি?

লক্ষ্মণপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, বাজারে সবধরনের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এ জন্য দাম কম এবং আমরা কৃষকরা লোকসানে পড়েছি। এ ছাড়া সবজিতে সার দিতে হবে, দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার পাওয়া গেলেও ডিএপি সরকারি দাম ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও সেই সার আমাদের কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা বস্তা। অথচ বাজারে সবজি বিক্রি করতে গেলে দাম নেই।

চকবালুভরা গ্রামের কৃষক লিটন হোসেন বলেন, সবজি উৎপাদনে যে খরচ হচ্ছে সে টাকাই উঠছে না। লোকসান করে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। আগাম সবজির দাম ভালো পাওয়ায় কিছুটা সুবিধা হয়েছে। এখন ভরমৌসুমে যেসব সবজি উঠছে সেগুলোর দাম পাওয়া যাচ্ছে না। জমি তো আর ফেলে রাখা যায় না। বাধ্য হয়ে চাষাবাদ করতে হয়।
সোনারপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, গত বছর এই মৌসুমে ফুলকপি বিক্রি হয়েছিল ৩০-৩৫ টাকা পিস। এবার তা বিক্রি হচ্ছে ৮-১২ টাকা পিস। যেখানে খরচই হচ্ছে ৮ টাকা পিস। কপির দাম কমে যাওয়ার কারণে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরুতে কৃষকদের কাছ থেকে কিনে ঢাকায় নিয়ে যেত। এখন ব্যবসায়ীরা কপি ঢাকায় না নেওয়ায় দাম কমেছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, জেলায় এ বছর শীতকালীন শাক-সবজির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৬০০ হেক্টর। এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৯ হাজার ৩০০ হেক্টর। যা থেকে প্রায় দেড় লাখ টন শাক-সবজি উৎপাদনের আশা। আগাম সবজির দামে কৃষক লাভবান হলেও ভরমৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় কমেছে দাম। তবে অতিরিক্ত সবজি সংরক্ষণ করা গেলে কৃষক লাভবান হবেন।




Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: