বিদ্রোহীদের সঙ্গে শিগগিরই বসবেন তারেক রহমান

সাব্বির আহমেদ

শুরু থেকে বিভিন্নভাবে বলার পরও সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে পারছে না বিএনপি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে দল মনোনীত ধানের শীষ

2026-01-05T03:29:27+00:00
2026-01-05T03:29:27+00:00
 
  সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬,
৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
বিদ্রোহীদের সঙ্গে শিগগিরই বসবেন তারেক রহমান
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৯ এএম 
সংগৃহীত ছবি
শুরু থেকে বিভিন্নভাবে বলার পরও সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে পারছে না বিএনপি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে দল মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনি মাঠে আছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। 

জোটসঙ্গীদের ছেড়ে দেওয়া আসনেও স্বতন্ত্র হিসেবে আছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী। তাদের নিবৃত করতে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনে মাঠ পর্যায়ের নয় পরিচিত নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। এতেও কাজ না হওয়ায় এবার বিদ্রোহীদের ডেকে সরাসরি কথা বলবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের গুলশান কার্যালয়ে ডাকা হবে। তাদের সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ড নির্বাচন নিয়ে দলের লক্ষ্য, কৌশল ও আগামীর চিন্তাভাবনার কথা সরাসরি জানাবেন। দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেবেন। শেষ সময়ে দলের বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাবেন শীর্ষনেতা। যদিও লন্ডন থাকাকালে তারেক রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশী সবাইকে নিয়ে এক দফা মতবিনিময় সভা করেছিলেন।

বিএনপি শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, এ নির্বাচনে ঘাড়েই নিশ্বাস ফেলছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের পরাস্ত করতে গেলে দলে ঐক্যের বিকল্প নেই। নির্বাচনি মাঠে বিভাজন দৃশ্যমান হলে ভোটের ফলাফল নেতিবাচক হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে আসন ছাড় পেয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন জোটসঙ্গীরা। 

এখনও কেউ কেউ নির্বাচনি মাঠেই নামতে পারেননি। প্রভাব বিস্তার করছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। জোটের মনোনীত প্রার্থীদের প্রত্যক্ষভাবে মেনে নিতে অনীহা দেখা যাচ্ছে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে। স্বস্তিতে নেই নিজের দল বিলুপ্ত কিংবা পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর মনোনয়ন নিশ্চিত করা প্রার্থীরাও। তাদের মধ্যে আছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে সৈয়দ এহসানুল হুদা, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম, কুমিল্লা-৭ আসনে রেদোয়ান আহমেদ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান।

ইতিমধ্যে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির আরও চার সদস্যসহ ৯ জনকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

রুমিন ফারহানা ছাড়া বহিষ্কার হওয়া অন্যরা হলেন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন ও আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব ও ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি তরুণ দে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ। তাদের প্রায় সবাই জোটের সমঝোতা হওয়া আসনে প্রার্থী হয়েছেন।

গত মঙ্গলবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনে বহিষ্কারের ঘটনাকে সংকেতপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বহিষ্কৃতরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা) আসনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সঙ্গে সমঝোতা করে বিএনপি। এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা হাসান মামুন। ইতিমধ্যে নির্বাচনি মাঠে তাদের মধ্যে কথার উত্তাপ ছড়িয়েছে। হাসান মামুন জোটের প্রার্থীকে কোনোভাবেই ছাড় দিতে নারাজ। 

ঢাকা-১২ আসনে জোটের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হককে সমর্থন জানালে এখনও মাঠে সরব বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নীরব। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির আলোচিত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এখানে বিএনপির জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকির নির্বাচনি মাঠে আছে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী।

সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বিএনপির কাছে ছাড় পাওয়া বগুড়া-২ আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৮ আসনেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তিনি। ঢাকায় বৈধ হলেও বগুড়ায় অবৈধ হয়েছে মান্নার মনোনয়নপত্র। এদিকে বগুড়া-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন মীর শাহে আলম। আর ঢাকা-১৮ আসনে এস এম জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। 

বিষয়টি নিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বেশ হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি নিজ এলাকা বগুড়ায় নির্বাচন করতে চান। মনোনয়ন ফিরে পেতে উচ্চ আদালতে যাবেন।

ঢাকা-১২ আসনে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা সাইফুল হকের : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। রোববার দুপুরে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন সাইফুল হক। এরপর তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

পরে বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন নেতা সময়ের আলোকে বলেন, সাইফুল হক তার নিজের ঢাকা-১২ আসন নিয়ে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি তারেক রহমানের সামনে ঢাকা-১২ আসনের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরবের তৎপরতা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। সাইফুল হকের কথা শুনে তারেক রহমান আশ্বস্ত করেন শিগগিরই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ডেকে কথা বলবেন। প্রার্থিতা উঠিয়ে নিতে নির্দেশ দেবেন।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর ১০ দলীয় জোট প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। এক পর্যায়ে সাইফুল হক তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জামায়াত আমাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। তাদের পরাভূত করতে বিএনপির জোট শরিকদের ঐক্যের বিকল্প নেই। ইতিবাচক ফলাফল পেতে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে নামতে হবে। এ জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ঢাকা-১২ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ারও অনুরোধ জানান প্রার্থী সাইফুল হক। এতে তিনি সায় দেন।

আরেকজন নেতা জানান, আধাঘণ্টাব্যাপী চলা বৈঠকে দক্ষিণপন্থিদের হঠাৎ উত্থান নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নিয়ে তারেক রহমান আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শিগগিরই কিছু কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সাক্ষাৎ শেষে সাইফুল হক সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনে যাতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিতে পারি এবং এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা যাতে নিশ্চিত করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু কিছু চ্যালেঞ্জের কথা এসেছে আলোচনায়, তারেক রহমানের ৩১ দফা নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছে। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে তার চিন্তা আছে সেসব বিষয়ে কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও তা যেন কোনোভাবে সহিংসতায় না গড়ায় এমন আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের বিভাজন যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা বলেন তিনি।

সাইফুল হক বলেন, মব সন্ত্রাস ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে শঙ্কিত তারেক রহমান। মানুষের মধ্যে শান্তি, সৌহার্দ সৃষ্টির বার্তা দিয়েছেন তিনি। দেশকে ঐক্য ও সংহতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বৈঠকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী ও আকবর খানসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

জোট শরিকদের সহযোগিতার আশ্বাস বিএনপির : জোট মনোনীত প্রার্থীদের হতাশার কারণ নেই বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, প্রার্থিতা প্রত্যাহারে শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। এ সময়ের মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সময়ের আলকে বলেন, আমরা যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের আমরা সহযোগিতা করতে চাই।

সময়ের আলো/এআর

  বিষয়:   বিদ্রোহী  তারেক রহমান 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: