কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার

শায়লা পারভীন তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ৭টি রাস্তার আংশিক কাজ করে অতিরিক্ত বিল নিয়ে চলে গেছেন ঠিকাদার। যার

2026-01-05T05:26:16+00:00
2026-01-05T05:26:16+00:00
 
  শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১০ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার
শায়লা পারভীন তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৬ এএম 
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার রাস্তার আংশিক কাজ করে ঠিকাদার উধাও, উঠে যাচ্ছে রাস্তার বিটুমিন। ছবি : সময়ের আলো
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ৭টি রাস্তার আংশিক কাজ করে অতিরিক্ত বিল নিয়ে চলে গেছেন ঠিকাদার। যার ফলে এসব রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এদিকে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন ঠিকাদাররা।

এ নিয়ে কথা বললে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ঠিকাদাররা অভিযোগ করছেন উপজেলা প্রকৌশলী অতিরিক্ত পিসি (ঘুষ) দাবি করায়, তারা কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক ঠিকাদারদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, ঠিকাদাররা কার্যাদেশ পাওয়ার পর সামান্য কাজ করে অতিরিক্ত বিল দাবি করায়, তা না দেওয়ায় নানা রকম অভিযোগ তুলছেন। 

তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের ট্রেন্ডার আহ্বান করা হলে, চাঁদপুর-নামা সিলেট রাস্তা নির্মাণে মেসার্স সার্চ ট্রেডিং দুই কোটি ৯৮ লাখ টাকা, বিনোদপুর কুসুম্বী ভায়া বিনসাড়া রাস্তা সংস্কারে হাসনা কনস্ট্রাকশন এক কোটি ৪২ লাখ টাকা, নওগাঁ মাজার রোড টু রঙমহল রাস্তা সংস্কারে মেসার্স সাব্বির কনস্ট্রাকশন ৬৬ লাখ ১১ হাজার টাকা, উলিপুর টু চকজয়কৃষ্ণপুর রাস্তা নির্মাণে মেসার্স রাইয়ান কনস্ট্রাকশন ৪৬ লাখ পাঁচ হাজার টাকা, সরাতলা মাধাইনগর ভায়া মাদারজানি রাস্তা নির্মাণে ওশান এন্টারপ্রাইজ পাঁচ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বিনোদপুর টু খড়খড়িয়া রাস্তা নির্মাণে ওশান এন্টারপ্রাইজ দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা ও হেদার খাল টু কুন্দাইল ভায়া ধাপতেতুলিয়া রাস্তা নির্মাণে নিশিত বসু অ্যান্ড মীম ডেভেলপমেন্ট ৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ পায়। 

সরেজমিন দেখা যায়, এসব রাস্তার কোনোটি আংশিক আবার কোনোটি অর্ধেক কাজ করে বিল নিয়ে ঠিকাদার লাপাত্তা হয়ে গেছেন। এসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে এলজিইডির পক্ষ থেকে কাজ সমাপ্ত করার তাগাদা দিয়ে চিঠি দিলেও তারা কর্ণপাত করছেন না। যার ফলে চলাচলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আজিজুর রহমান বলেন, বিনোদপুর টু বিনসাড়া ভায়া কুসুম্বী রাস্তা ঠিকাদার সংস্কারের জন্য কার্পেটিং তুলে আজ এক বছর ধরে লাপাত্তা রয়েছেন। জনসাধারণের চলাচল, পণ্য পরিবহন ও কৃষিকাজের জন্য এ রাস্তা সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। চকজয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ করে বলেন, মূল রাস্তা থেকে এ রাস্তাটি নিচু করা হয়েছে। ঠিকাদার খোয়া বিছিয়ে এক বছরের অধিক সময় হলো কাজ ফেলে চলে গেছেন। এখন খোয়া উঠে রাস্তা অকেজো হয়ে পড়েছে। 

এ বিয়য়ে মেসার্স হাসনা কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার মো. খোকন সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক অতিরিক্ত পিসি (ঘুষ) দাবি করায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। একই অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও তিনজন ঠিকাদার।

তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে উপজেলা প্রকৌশলী মো ফজলুল হক বলেন, কোনো কোনো ঠিকাদার রাজনৈতিক প্রভাবে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করায় সুবিধা না পেয়ে, কাজ না করে বিভিন্ন অভিযোগ করছেন। এসব ঠিকাদারকে চিঠি দিয়ে বারবার তাগাদা দিলেও তারা কাজ শেষ করছেন না। 

এ কারণে রিটেন্ডারেরও আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের মাঝে রশি টানাটানির ফলে এলাকার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। অপচয় হচ্ছে সরকারি অর্থের। জনসাধারণের সুবিধার জন্য সরকার রাস্তা নির্মাণ করার চেষ্টা করলেও তা আজ পরিণত হয়েছে জনদুর্ভোগে।

সময়ের আলো/এআর
  বিষয়:   উধাও  ঠিকাদার 


Advertisement
Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: