প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৫ এএম (ভিজিট : ১৩৯)
সংগৃহীত ছবিসুকুমার বড়ুয়া বাংলাদেশের প্রখ্যাত ছড়াকার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছড়া রচনায় ব্যাপৃত রয়েছেন। বিষয়-বৈচিত্র্য, সরস উপস্থাপনা, ছন্দ ও অন্তঃমিলের অপূর্ব সমন্বয় তার ছড়াকে করেছে স্বতন্ত্র।
প্রাঞ্জল ভাষায় আটপৌরে বিষয়কেও তিনি ছড়ায় ভিন্নমাত্রা দেন। তার ছড়া একাধারে বুদ্ধিদীপ্ত, তীক্ষ্ম, শানিত আবার কোমলও বটে।
সুকুমার বড়ুয়ার জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে। তার বাবার নাম সর্বানন্দ বড়ুয়া এবং মা কিরণ বালা বড়ুয়া। চট্টগ্রামের গহিরা গ্রামের শিক্ষক প্রতাপ চন্দ্র বড়ুয়ার মেয়ে ননী বালার সঙ্গে ১৯৬৪ সালের ২১ এপ্রিল তিনি বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনে সুকুমার বড়ুয়া তিন মেয়ে এবং এক ছেলের জনক।
বর্ণজ্ঞান থেকে প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি মামাবাড়ির স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। এরপর বড় দিদির বাড়িতে এসে তিনি ডাবুয়া খালের পাশে ডাবুয়া স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু সেই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়।
অল্প বয়স থেকেই তিনি বিভিন্ন সময় মেসে কাজ করেছেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য একটা সময় তিনি ফলমূল, আইসক্রিম, বুট-বাদাম ইত্যাদি ফেরি করে বিক্রি করেছেন। ১৯৬২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ৬৪ টাকা বেতনের চাকরি হয় তার। ১৯৭৪ সালে পদোন্নতি হয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোরকিপার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া, চিচিং ফাঁক, কিছু না কিছু, প্রিয় ছড়া শতক, বুদ্ধ চর্চাবিষয়ক ছড়া, ঠুসঠাস, নদীর খেলা, আরো আছে, ছড়া সমগ্র, ঠিক আছে ঠিক আছে, কোয়াল খাইয়ে ইত্যাদি।
পুরস্কার ও সম্মাননা : বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ঢালী মনোয়ার স্মৃতি পুরস্কার, বৌদ্ধ একাডেমি পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ সম্মাননা, অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য সম্মাননা, জনকণ্ঠ প্রতিভা সম্মাননা, আলাওল শিশুসাহিত্য পুরস্কার, চোখ সাহিত্য পুরস্কার, ভারত, নন্দিনী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন।
২ জানুয়ারি ২০২৬ সালে তিনি মারা যান।
সময়ের আলো/এআর