ক্যারোল কিং এমন একজন শিল্পী, যিনি শুধু গান গেয়েছেন তা নয়; গানকে নিজের জীবনের ভাষা বানিয়েছেন। ভালোবাসা, ভাঙন, একাকিত্ব, শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর সাহস সবকিছুই তার সুর ও কথায় ধরা পড়ে। ১৯৪২ সালের এই দিনে (৯ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এই নারী আধুনিক পপ ও সফট রক সংগীতের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য নাম।
ষাট দশকে সংগীতজগতে ক্যারোল কিংয়ের যাত্রা শুরু হয় গীতিকার হিসেবে। স্বামী জেরি গফিনের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি লিখেছেন এমন সব গান, যেগুলো আমেরিকান পপসংগীতে ধ্রুপদী হয়ে রয়েছে। উইল ইউ লাভ মি টুমোরো, টেক গুড কেয়ার অব মাই বেবি, দ্য লোকোমোশনের মতো বিখ্যাত গানগুলো তার। সে সময় তিনি ছিলেন নেপথ্যের মানুষ, মঞ্চের আলো অন্যদের ওপর, কিন্তু গানগুলো বাঁচত তার ভাষায়।
সত্তর দশকে ক্যারোল কিং সিদ্ধান্ত নেন সামনে আসার। ১৯৭১ সালে মুক্তি পাওয়া অ্যালবাম টাপেস্ট্রি কেবল তার ক্যারিয়ারই বদলায়নি, বদলে দিয়েছে নারী গায়ক-গীতিকারদের অবস্থান। এই অ্যালবাম ছিল নিঃসন্দেহে আত্মকথন। এই যেমন ‘ইটস টু লেট, সো ফার অ্যাওয়ায়ে, ইউ হ্যাভ গট অ্যা ফ্রেন্ড’। এসব গান শুনলে মনে হয় কেউ খুব কাছ থেকে নিজের গল্প বলছে। কণ্ঠে ছিল না কৃত্রিম জাঁকজমক, ছিল নিখাদ অনুভূতি।
এই অ্যালবাম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে ইতিহাস গড়ে। বছরের সেরা অ্যালবামসহ চারটি বড় পুরস্কার জিতে নেয় এটি, আর ক্যারোল কিং হয়ে ওঠেন এমন এক নারী শিল্পী, যিনি প্রমাণ করেন; নারীর ব্যক্তিগত অনুভূতিও বৈশ্বিক হতে পারে। তার গানগুলো তখনকার সমাজে নারীর আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার এক নরম কিন্তু দৃঢ় উচ্চারণ।
ক্যারোল কিংয়ের শক্তি ছিল তার সততা। তিনি নিখুঁত হতে চাননি, বরং সত্যবাদিতা হতে চেয়েছেন। নিজের বিয়েবিচ্ছেদ, একা মা হয়ে ওঠা, আত্মসন্দেহ; সবকিছুকে তিনি সুরে রূপ দিয়েছেন। এ কারণেই তার গান প্রজন্ম পেরিয়ে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
সংগীতের বাইরে তিনি পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নেও সরব ছিলেন। শিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা তাকে নীরব করেনি; বরং দায়িত্বশীল করেছে। এই জায়গাটাও তাকে আলাদা করে চেনায়।
সময়ের আলো/এআর