কবিতা

সময়ের আলো ডেস্ক

শৈশব সংগীতনজরুল হায়াতপ্রায়শ শৈশবে ফিরি, রোঁয়া ওঠা ভোরঝাঁকা ভরে কমলা রঙের রোদ নিয়ে আসেবিজন প্রান্তরে বহুরঙা স্বর্ণালি ঘোরফোটায় বিষাদ ফুল

2026-01-23T11:42:40+00:00
2026-01-23T11:42:40+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
কবিতা
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪২ এএম 
সংগৃহীত ছবি
শৈশব সংগীত
নজরুল হায়াত

প্রায়শ শৈশবে ফিরি, রোঁয়া ওঠা ভোর
ঝাঁকা ভরে কমলা রঙের রোদ নিয়ে আসে
বিজন প্রান্তরে বহুরঙা স্বর্ণালি ঘোর
ফোটায় বিষাদ ফুল মননের নীল বনবাসে
কুয়াশায় ভেজা কাক মনের খড়খড়ি খুলে
রঙিন রুমালে ভুল আঁকে, রংধনু নীল সাপ
সব ‘সোনালি ডানার চিল’ পথ ভুলে
কোন পরবাসে রাখে লাল গাঢ় অনুতাপ।

দুপায়ে দাঁড়ায় এসে ঘাসে-ঢাকা ফুল ফোটা ছেলেবেলা
ডাকে মাঠ, মাঠে ডাকে বিকেলের মউলাগা কানামাছি খেলা
দুদ্দার উড়ে আসে বৈশাখের ঘূর্ণি-মাতাল ধূলি
চৈত্রের খররোদে ছিন্ন পাতায় ওড়া স্মৃতি-পাখি
আষাঢ়ের জল ফোঁড়া হাঁসডোবা শাপলা-শালুকগুলি
অঘ্রাণে ঘুঘুর ডাকে পালকের রঙে মাখামাখি
পৌষের হিম মেখে উত্তুরে হাওয়ার সাদা ছড়ি শোক
বালক-হৃদয়ে তারস্বর ডেকে যাওয়া তক্ষকের বুক
দুরন্ত ফাল্গুন ওড়ে চৈতি রাতে উড়ু-উড়ু নিশীথ বাতাসে
একাকী বালক ঝরে ঝরা ফুল সুকোমল অমলিন ঘাসে
নিঃশব্দ বাগান পোড়ে, হুতাশনে ফুলগুলো লাল
নিঃসাড় বালক পোড়ে, বাগিচায় পোড়ে শিশুকাল।

হৃদ-লিপিকা
ভূঁইয়া শফি

সজল মেঘের কাজল চোখে ঠাঁই,
তোমার মাঝে নিজেরে পেতে চাই।
অতল মনের গহন কোনো টানে,
জড়িয়ে রবো চিরদিনের গানে।

অনামিকার আঙুলে আজ ছোঁয়া
মিথ্যে মায়ার সরিয়ে দেওয়া ধোঁয়া।
রঙিন সুতোর অলখ বাঁধন হাতে,
রইব পাশে নিঝুম কালো রাতে।

বসন্তেরই পলাশরাঙা ভোরে,
রাখব বেঁধে নিবিড় অনুরাগে।
মৌন কথার কাব্য হয়ে ঝরুক,
আমার আকাশ তোমার ছোঁয়ায় ভরুক।

এ কোন মুখ
মিনহাজ উদ্দিন শপথ

ছায়ার ভেতর থেকে উঁকি দেয় এ কোন মুখ
নীরবতার সুর তোলে
পুরোনো গান ভাসে শীতল
কেঁপে ওঠে বুকের অর্গল
চোখ থেকে ঝরে পড়ে স্বপ্নফুল
প্যাঁচিয়ে ধরে নিঃসঙ্গতার নীলসুতো
অসময় বৃষ্টি আচানক পাল্টে দেয়
উঠানের ভূমিকা
বুড়ো বৃক্ষটা নুয়ে পড়ে সমুখে
বিশ্বস্ত বাতাস ছিঁড়ে ফেলে লাবণ্যের পর্দা
এ কোন মুখ!
যে গেছে গতকাল, সে নাকি?
লুট হয়ে গেছে সমস্ত আলোর সম্ভার
সন্ধ্যার বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি
আকাশে এক আশ্চর্য নক্ষত্র।

উনুনে উঠেছে বর্ণমালা
আহমেদ শিপলু

উনুনে হচ্ছে জ্বাল, টগবগিয়ে ফুটছে অক্ষর-দাঁড়ি-কমা, আকার উকার আর যুক্তব্যঞ্জন। সেখানে ভীষণ শোর এবং গোল। গলা থেকে একই সঙ্গে চিৎকার আর রক্ত প্রবাহিত হলে যেরকম আহ্বান শোনা যায়। জ্বাল হচ্ছে পোড়া কাষ্ঠের পটপট শব্দ আর কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়ার মধ্যে। 

শিশু মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা! শিশু ছেলেটিকে বিকৃত বলাৎকার! নিরীহ লোকটিকে লোকসম্মুখে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা! গাছে ঝুলিয়ে আগুন! মধ্যযুগীয় কায়দায় ধর্মোন্মাদনা! জ্বাল হচ্ছে উনুনে। টগবগিয়ে ফুটছে দামামা! মানুষের ক্রন্দন আর বীভৎস চিৎকার জুড়ে দিচ্ছে শব্দ আর বাক্যের পরম্পরা। বিভীষিকায় জর্জরিত মানচিত্রের আনাচ কানাচ! পর্বে পর্বে গেঁথে যাচ্ছে খুনের উৎসব!

কথার উত্তাপে ঢাকনা উপচে পড়ছে বুদ্বুদ! আগুনের জিহ্বা ছুঁতে চায় মঞ্চ আর রাজপথ। মিছিলে মিছিলে উচ্চারিত হতে চায় প্রতিবাদে! কবিতা এভাবেই ভেঙে ফেলে খোলস! শিল্প আর ছন্দের ব্যালকনি পেরিয়ে ঝাঁপ দিতে চায় উত্তাল গণসমুদ্রে!
যতটা পারা যায় কাঠুরের কোপে। কেটে আনতে হবে বৃক্ষ ও ফসিল। জ্বালানি হোক অবিরাম! অক্ষরের মাড়াই হচ্ছে বুদ্ধি ও চেতনার কলে। জ্বাল হতে থাক মসনদ পর্যন্ত। যেখানে শীতল ভীষণ! আদুরে বিড়াল ঘুমায় সিঁড়ির কারপেটে। যেখানে আছড়ে পড়ে না যমুনার ঢেউ!

ওইসব ব্যারিকেড পেরিয়ে যাবে বলে জ্বাল হচ্ছে কবিতায়! বিবর্ণ বর্ণমালা উঠে আসছে বিষণ্ন উদ্যান থেকে। পায়ের ক্লান্তি পেরিয়ে পৌঁছাতে চায় ভীষণ প্রতারণায় খুন হয়ে যাওয়া মানুষের আত্মার কাছাকাছি।

ক্রম অন্ধকার
আঁখি সিদ্দিকা

অন্ধকারে
মার্বেলের মতো ঘোরে চোখের মণি
মাস্তুলহীন জাহাজের মতো।
তোমার রক্তে নোনতা স্বাদ নেই
যৌনতাহীন পালকে ব্যস্ত শস্যদানা
তোমার নখে নোঙরহীন সরকারি দফতর
মৃত্যু মহাকাশ কাঁধে,
ক্রম অন্ধকার
রোজ ভাঙে নষ্ট কাকলি, নতুন নির্ভার।

উনুনে উঠেছে বর্ণমালা
আহমেদ শিপলু

উনুনে হচ্ছে জ্বাল, টগবগিয়ে ফুটছে অক্ষর-দাঁড়ি-কমা, আকার উকার আর যুক্তব্যঞ্জন। সেখানে ভীষণ শোর এবং গোল। গলা থেকে একই সঙ্গে চিৎকার আর রক্ত প্রবাহিত হলে যেরকম আহ্বান শোনা যায়। জ্বাল হচ্ছে পোড়া কাষ্ঠের পটপট শব্দ আর কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়ার মধ্যে। শিশু মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা! শিশু ছেলেটিকে বিকৃত বলাৎকার! নিরীহ লোকটিকে লোকসম্মুখে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা! গাছে ঝুলিয়ে আগুন! মধ্যযুগীয় কায়দায় ধর্মোন্মাদনা! জ্বাল হচ্ছে উনুনে। টগবগিয়ে ফুটছে দামামা! মানুষের ক্রন্দন আর বীভৎস চিৎকার জুড়ে দিচ্ছে শব্দ আর বাক্যের পরম্পরা। বিভীষিকায় জর্জরিত মানচিত্রের আনাচ কানাচ! পর্বে পর্বে গেঁথে যাচ্ছে খুনের উৎসব!

কথার উত্তাপে ঢাকনা উপচে পড়ছে বুদ্বুদ! আগুনের জিহ্বা ছুঁতে চায় মঞ্চ আর রাজপথ। মিছিলে মিছিলে উচ্চারিত হতে চায় প্রতিবাদে! কবিতা এভাবেই ভেঙে ফেলে খোলস! শিল্প আর ছন্দের ব্যালকনি পেরিয়ে ঝাঁপ দিতে চায় উত্তাল গণসমুদ্রে!
যতটা পারা যায় কাঠুরের কোপে। কেটে আনতে হবে বৃক্ষ ও ফসিল। জ্বালানি হোক অবিরাম! অক্ষরের মাড়াই হচ্ছে বুদ্ধি ও চেতনার কলে। জ্বাল হতে থাক মসনদ পর্যন্ত। যেখানে শীতল ভীষণ! আদুরে বিড়াল ঘুমায় সিঁড়ির কারপেটে। যেখানে আছড়ে পড়ে না যমুনার ঢেউ!

ওইসব ব্যারিকেড পেরিয়ে যাবে বলে জ্বাল হচ্ছে কবিতায়! বিবর্ণ বর্ণমালা উঠে আসছে বিষণ্ন উদ্যান থেকে। পায়ের ক্লান্তি পেরিয়ে পৌঁছাতে চায় ভীষণ প্রতারণায় খুন হয়ে যাওয়া মানুষের আত্মার কাছাকাছি।

মৃত্যু ঢের গভীর
ফালগুনী এলিজাবেথ

অস্পষ্ট দিকপাল জলরাশি ছুটছে,
বিদ্ধ নোলকের শেষভাগে আটক,
দন্ত বেয়ে নামছে সৃষ্টি
কবরীর গীত নৃত্য করছে, পতিতপাবন।
গলার মধ্যভাঁজে চন্দ্রমল্লিকা হাসছে,
ধোঁয়াশায় নব্য করুণ স্মৃতি।
গদ্যমাল্য পড়েছে শেষে,
ভাগ্যরসিকের পথের দোটানার ভাদ্র দেখছে না কেউ।
পরনে অলংকারের ঝংকার
কবলিত স্বর বেজে চলেছে কোনো এক অন্তিম যাত্রাপথে।
যাব তবে দূরের নীলাভ,
সংজ্ঞায়িত হতে ইচ্ছুক যত মৃত আত্মা
গড়িয়ে পড়ছে শ্রেষ্ঠ কথার ঝুলি।
দিব্যজ্ঞান অর্জনের থেকেও মৃত্যু ঢের গভীর।
মরণের পরে স্বর্গবাসী হওয়ার চেয়ে
মরণসুখে কাতর যুবক।
স্বকমলে নামেই গড়েছ
আঁধারঘেরা কবরযাপন।
চার দেয়ালের চতুষ্পদ সৃষ্টির জাঁতাকলে
ফেঁসে যেতে বলার ইচ্ছা জেগেছে মনে।
শেকড়ের টান বড়ই নাজুক
মুখাবয়ব দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার আকুলতাই ক্ষুধার নামান্তর।
নরম মাটির স্বাদে তৃপ্তি পেয়েছে থালা,
গিলে খাওয়ার অপেক্ষায় রক্তঘামের আনাগোনা।
সবকটা হাড় গলতে চায়
মৃত্যুপথযাত্রী ধরি
ওগো জল দাও,
তবু রক্তকালো ফেড়ে যকৃতফোলা কর্তব্য মিটাই নিদ্রাযাপনে। 

সময়ের আলো/এআর 

Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: